নবম শ্রেণীর সাজেশন ২০২২ pdfনবম শ্রেণীর ইতিহাস প্রশ্ন ও উত্তর | নবম শ্রেণি ইতিহাস | WB Class 9 History Question and Answer, Suggestion
নবম শ্রেণীর ইতিহাস প্রশ্ন ও উত্তর – | নবম শ্রেণীর ইতিহাস প্রশ্ন ও উত্তর – | পশ্চিমবঙ্গ নবম শ্রেণীর ইতিহাস প্রশ্ন ও উত্তর – | নবম শ্রেণীর ইতিহাস সহায়ক প্রশ্ন ও উত্তর । Class 9 History Question and Answer, Suggestion | WB Class 9 History Suggestion | Class 9 History Question and Answer Notes | West Bengal Class 9th History Question and Answer Suggestion.
-: তৃতীয় অধ্যায় :-
উনবিংশ শতকের ইউরোপ রাজতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার সংঘাত
-:চতুর্থ অধ্যায় :-
শিল্প বিপ্লব উপনিবেশ বাদ ও সাম্রাজ্যবাদ
-:পঞ্চম অধ্যায় -:
বিংশ শতকে ইউরোপ
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন ইতিহাস পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন
প্রতিটি প্রশ্নের মান 1 1×16=16
প্রতিটি প্রশ্নের মান 2 2×4=8
প্রতিটি প্রশ্নের মান 4 4×2=8
প্রতিটি প্রশ্নের মান 8 8×1= 8
------------------
মোট- 40
।। 2022 সালের নবম শ্রেণীর দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন বিষয়ের 2, 4, ও 8 নম্বরের সাজেশন।। Suggestions No. 2, 4, and 8 of the second periodical assessment subject of the ninth class of 2022. দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন 2022 ইতিহাস সাজেশন প্রশ্ন ও উত্তর | Second Periodic Evaluation 2022 History Suggestion questions and answers .
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
শ্রেণী - নবম পূর্ণমান -৪০
বিষয় - ইতিহাস সময় - ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট
১. জাতীয়তাবাদ বলতে কি বোঝো।
উত্তর :- জাতীয়তাবাদ :- স্বদেশের তথা মাতৃভূমির গৌরব ও অগৌরবকে কেন্দ্র করে সেই দেশের মানুষ বা জাতির অন্তরে যে উল্লাস, স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ, অনুভূতি, জাতীয় চেতনা, আত্মমর্যাদা ও আত্মাভিমান সঞ্চারিত হয় তাকেই জাতীয়তাবাদ বলে । জাতীয়তাবাদ একটি আধুনিক ধারণা । যেমন আন্তর্জাতিক খেলাধুলার আসরে বিজয়ী দেশগুলির সমর্থকদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস দেখা যায়, তেমন বিজিত দেশগুলির সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় সীমাহীন বিষাদ ও হতাশা । দেশের প্রতি এই মমত্ববোধ ও একাত্মতাই হল জাতীয়তাবাদ ।
২. ভিয়েনা সম্মেলনের গুরুত্ব লেখ।
উত্তর:
৩. কার্লসবার্ড ডিক্রি কেন জারি করা হয়েছিল?
উত্তর :- কার্লসবার্ড ডিক্রি জারি করা হয়েছিল কারণ :- মেটারনিক অনুভব করেন ফরাসি বিপ্লব প্রসূত জাতীয়তাবাদ গনতান্তিক আদর্শ অস্ট্রিয়ায় প্রসারিত হলে হ্যাপসবার্গ সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়বে । তাই তিনি রাজ্যে সভা-সমিতি আয়োজনের অনুমতি নিষিদ্ধ করেন ।এমনকি বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয় ।তার ব্যবস্থা গুলি যাতে ঠিকমত কার্যকর হয় তার জন্য জার্মানির সেইসব শহরে একটি গোয়েন্দা দপ্তর গড়ে তোলেন।
মেটারনিক এইভাবে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা দমনের লক্ষ্যে জারি করেন কালসবাড ডিক্রি 1819 খ্রিস্টাব্দে |
৪. মনরো নীতি কী?
উত্তর :- মনরো নীতি :- মার্কিন রাষ্ট্রপতি জেমস মনরো 1823 খ্রিস্টাব্দে ডিসেম্বরের এক ঘোষণায় বলেন যে আমেরিকা আমেরিকাবাসীর জন্য আমেরিকায় কোন ইউরোপীয় ব্যবস্থা কায়েম হলে আমেরিকা তা মেনে নেবে না এই ঘোষণাই মনরো নীতি নামে পরিচিত।
৫. জুলাই বিপ্লবের গুরুত্ব লেখ ।
উত্তর :-জুলাই বিপ্লবের গুরুত্ব :-
বুরবোঁ স্বৈরতন্ত্র রােধ :-
ভিয়েনা সম্মেলনে গৃহীত ন্যায্য অধিকার নীতির ভিত্তিতে ফ্রান্সে স্বৈরাচারী বুরবো রাজবংশের যে পুনঃপ্রতিষ্ঠা ঘটেছিল জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে তার পতন ঘটে এবং লুই ফিলিপের নেতৃত্বে অর্লিয়েন্স রাজবংশের অধীনে ফ্রান্সে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
গণতান্ত্রিক অধিকার :-
জুলাই বিপ্লবকে ১৭৮৯-এর বিপ্লবের পরিপূরক বলা যেতে পারে। কারণ এই বিপ্লবের ফলেই ধর্মনিরপেক্ষতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রভৃতি গণতান্ত্রিক অধিকার ফ্রান্সে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করে। তাই ই, লিপসন বলেছেন—১৮৩০-এর বিপ্লব ছিল ১৭৮৯-এর বিপ্লবের পরিপূরক।
মধ্যবিত্তের উত্থান:-
অভিজাত ও যাজকশ্রেণির ক্ষমতা সেখানে চিরতরে লােপ পায়, মধ্যবিত্ত শ্রেণি প্রাধান্য পেতে শুরু করে। যাদের ত্যাগ ও রক্তক্ষরণে বিপ্লব জয়যুক্ত হয়েছিল সেই নিম্ন সম্প্রদায়ভুক্ত ফরাসিবাসীদের সামাজিক অবস্থানের খুব বেশি হেরফের ঘটেনি।
৬. এমস টেলিগ্রাম কী?
উত্তর :- এমস টেলিগ্রাম :-
প্রিন্স লিওপোল্ড স্পেনের রাজপদ প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন খুশি হননি । তিনি প্রাশিয়ার রাজার কাছ থেকে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি আদায় করতে চান যে ভবিষ্যতে ওহে হোহেলজেলাণ বংশের কেউ কখনো স্পেনের সিংহাসনের পদপ্রার্থী হবে না । তিনি এই দায়িত্ব দেন ফরাসি দুত কাউন্ট বেনেদেওির ওপর । এদিকে প্রাশিয়ার রাজা প্রথম উইলিয়াম এমস নামক স্থানে বিশ্রামের জন্য অবস্থান করেছিলেন । তাই বেনেদেওি সেখানে রাজার সঙ্গে দেখা করেন । তিনি রাজাকে নেপোলিয়নের প্রতিশ্রুতি লাভের কথা জানান । কিন্তু প্রাশিয়া রাজ ভদ্রভাবে ওই প্রতিশ্রুতি দানে অক্ষমতা জানান । তিনি পুরো বিষয়টি টেলিগ্রাম মারফত জানিয়ে দেন । এই ঘটনায় এমস টেলিগ্রাম নামে পরিচিত ।
৮. ডুমা ও মীর কী?
উত্তর :- ডুমা :- রাশিয়ার পার্লামেন্ট কে ডুমা বলা হয়।
মীর :- মির হলো রাশিয়ার গ্রামীণ সমবায় সমিতি। ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ভূমিদাস প্রথার অবসান ঘটিয়ে মুক্ত কৃষকদের ভূমির সমস্ত ভার এদের ওপর অর্পণ করেন।
৯. কারখানা বা ফ্যাক্টরি প্রথা বলতে কি বোঝো?
উত্তর :- কারখানা বা ফ্যাক্টরি প্রথা :- শিল্প বিপ্লবের ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বৃহৎ শিল্প কারখানা গড়ে ওঠে। এসব কল-কারখানা গুলি যান্ত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিল্পোৎপাদনের গুণগত ও পরিমাণগত ব্যাপক উন্নতি ঘটানো সম্ভব হয়। বৃহৎ কল-কারখানা ভিত্তিক এই ব্যবস্থা "ফ্যাক্টরি প্রথা" নামে পরিচিত।
১০. ইয়ং ইতালি কী?
উত্তর :- ইয়ং ইতালি :- ইয়ং ইতালি হলো ইতালির ঐক্য আন্দোলনের নেতা জোসেফ ম্যাৎসিনি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত(১৮৩২ খ্রিষ্টাব্দ) একটি যুব সংগঠন। চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত সকলেই এর সদস্য হতে পারত ।
১১. সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড বলতে কি বুঝ অথবা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ কী?
উত্তর :- সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড :- ইউরোপের বৃহৎ শক্তিবর্গের উগ্র জাতীয়তাবাদী মানসিকতা,বিভিন্ন উপনিবেশ দখল,সাম্রাজ্য বিস্তার ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধিতা, পরস্পর স্বার্থবিরোধী দুটি শক্তির উদ্ভব প্রভৃতি কারণে ইউরোপের পরিবেশ যখন ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল, ঠিক তখনই 1914 সালের 28 শে জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্ক ডিউক ফ্রান্সিস ফার্দিনান্দ এবং তার স্ত্রী সোফিয়া বসনিয়ার রাজধানী সেরাজেভো শহরের ভ্রমণ করতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে স্লাভ সন্ত্রাসবাদি সংস্থা ব্ল্যাক হ্যান্ড বা ইউনিয়ন অফ ডেথ - এরা একজন সদস্য ন্যাভরিলো প্রিপেন্স অষ্ট্রিয়ার যুবরাজ এবং তার স্ত্রীকে রাজপথে প্রকাশ্যে দিবালোকে খুন করেছিল। এই ঘটনাই ইতিহাসে সেরাজেভো হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিত।।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ:- এই ঘটনার পরই মূলত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডে আততায়ী ছিল একজন অস্ট্রিয়া অধিবাসী। কিন্তু সেই ব্যক্তি জাতিতে স্লাভ ছিল। আততায়ী সার্বিয়ার আদিবাসীদের সমগোত্রীয় হওয়ায় এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে সার্বিয়া দায় বলে অস্ট্রিয়ার মনে করেছিল। সেকারণেই অস্ট্রিয়া কতগুলি শর্ত সম্বলিত চরমপত্র পাঠিয়ে 48 ঘণ্টার মধ্যে সেগুলি সার্বিয়াকে মেনে নিতে বলে।
কিন্তু অস্ট্রিয়া রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয় এমন কিছু শর্ত ছাড়া বাকি শর্তগুলি মেনে নেয়। এরপর অস্ট্রিয়া আন্তর্জাতিক সম্মেলন আহ্বান জানায়। কিন্তু অস্ট্রিয়া এই দাবি অগ্রাহ্য করে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের আয়োজন করে 1914 খ্রিস্টাব্দে 28 জুলাই অস্ট্রিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড আক্রমণ করে। সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক রাষ্ট্রের মিত্ররা তাদের বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বৃহৎ আকার ধারণ করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হয়। এই কারণেই সেরাজেভো হত্যাকাণ্ডকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ বলা হয়।।
১২. উন্মুক্তদ্বার নীতি কী?
উত্তর :- উন্মুক্তদ্বার নীতি :- চিনে ইউরোপীয় দেশগুলির উপনিবেশিক আধিপত্য স্থাপনের ফলে আমেরিকা শঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারা ভাবতে শুরু করে এর ফলে চিনে আমেরিকার বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই পরিস্থিতিতে ১৮৯৯ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জন হে চিন সম্পর্কে যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন তা মুক্তদ্বার নীতি নামে পরিচিত।
এই নীতিতে বলা হয়, বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তি দ্বারা অধিকৃত চিনের বিভিন্ন অঞ্চলে আমেরিকার সমান বাণিজ্যিক সুবিধা দিতে হবে।
১৩. মরোস্ক সংকট বলতে কী বোঝো?
উত্তর :- মরোস্ক সংকট :- ইঙ্গ ফরাসি চুক্তির দ্বারা আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিমাংশে অবস্থিত খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ ও মুসলিম জাতি অধ্যুষিত মরক্কোয় ফ্রান্সের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। জার্মান কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম এই আধিপত্যের প্রতিবাদ করে নিজেকে মরক্কোর 'মুসলিমদের রক্ষাকর্তা' হিসাবে ঘোষণা করেন এবং সেখানকার তাঞ্জিয়ান বন্দরে হাজির হন। ফলে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এটি মরক্কো সংকট নামে পরিচিত।
১৪. ভূমিদাসের মুক্তির ঘোষণা পত্রে (১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ) কী হয়েছিল?
উত্তর :- রুশ জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ভূমিদাসদের 'মুক্তির ঘোষণাপত্র' জারি করেন। এই ঘোষণাপত্রে বলা হয়-
ক) মুক্ত ভূমিদাসদের উপর সামন্তপ্রভুর কোন অধিকার থাকবে না। সামন্ত প্রভুদের অধীনতা থেকে মুক্তি পাবে ভূমিদাসরা।
খ) মুক্ত ভূমিদাসদের স্বাধীন নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার দেওয়া হবে।
গ) সামন্তপ্রভুর জমির অর্ধেক তার অধীনতা থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ভূমিদাসদের দেওয়া হবে। বিনিময়ে জমিদার জমির জন্য ক্ষতিপূরণ পাবেন।
১৫. জাতিসংঘের দুটি উদ্দেশ্য লেখো।
উত্তর :- জাতিসংঘের দুটি উদ্দেশ্য:-
১. শান্তি ভঙের হুমকি ও আক্রমণাত্মক প্রবণতা ও কার্যকলাপ দূর করে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা,
২. সব মানুষের সমান অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতির মধ্যে সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব জোরদার করা,
৩. অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পুরো জাতির মধ্যে সহযোগিতা গড়ে তোলা,
৪. জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধবোধ গড়ে তোলা
১৬. হেরেনভক তত্ব বলতে কী বোঝো?
উত্তর :- হেরেনভক তত্ব:- হিটলার মনে করতেন জার্মানরাই একমাত্র আর্য জাতি এবং বিশুদ্ধ রক্তের অধিকারী। অন্যান্য সব জাতি বর্ণসংকর। এক্ষেত্রে একমাত্র জার্মানরাই বিশ্বের অন্যান্য সব জাতির উপর কর্তৃত্ব স্থাপনের অধিকারী। এই তত্ত্বই 'হেরেনভক তত্ত্ব' নামে পরিচিত।
১৭. রক্তাক্ত রবিবার বলতে কী বোঝো?
উত্তর :-রক্তাক্ত রবিবার :- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ৯ই জানুয়ারির রবিবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক শান্তিপূর্ণ মিছিল করেন। মিছিলের দাবি ছিল-
ক) রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দান।
খ) সংবিধান সভা আহবান।
গ) শ্রমিকদের কাজের সময় ৮ ঘন্টা করা।
এই মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে এক হাজারের বেশি শ্রমিক নিহত ও দুই হাজারের বেশি আহত হয়। এই ঘটনা রক্তাক্ত রবিবার নামে পরিচিত। শ্রমিকদের মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ফাদার গ্যাপন নামে এক ধর্মযাজক। পরে জানা যায় তিনি পুলিশের চর ছিলেন।
১৮. ত্রিশক্তি আতাঁত কী?
উত্তর :- ত্রিশক্তি আতাঁত :-
১৯. নাৎসিবাদ বলতে কী বোঝো?
উত্তর :- নাৎসিবাদ :- প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর জার্মানির আর্থিক দুর্দশা উপদেশ অপরাপর বহুগুণ বেশি ছি।ল মুদ্রাস্ফীতির ফলে নিত্য ব্যবহার্য জিনিস পত্রের দাম অসাধারণ ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল । জনসাধারণের আর্থিক দুর্দশার সীমা সীমা ছিল না এরূপ অবস্থায় যে অর্থনৈতিক অবস্থা ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। তাতে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো প্রায় ভেঙ্গে পড়েছিল জনসাধারণের দুর্দশার সুযোগে সমাজতান্ত্রিক প্রচারকার্যে প্রভাব সহজেই বিস্তার লাভ করেছিল। এ সময়ে এডলফ হিটলার নামক একজন প্রাক্তন সৈনিক ন্যাশনাল সোশালিস্ট নাৎসিবাদ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন সেটি মূলত নাৎসিবাদ নামে পরিচিত বা নাৎসিবাদ বলা হয়।
২০. ভাইমার প্রজাতন্ত্র কী?
উত্তর :- ভাইমার প্রজাতন্ত্র :- প্রথম বিশ্বযুদ্ধশেষ হওয়ার পর সমাজতান্ত্রিক সােভিয়েত ইউনিয়ন বাদে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় । যুদ্ধ পরবর্তীকালের জার্মানিতেও রাজতন্ত্রের বিরােধিতা শুরু হয় । ব্যাভেরিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে গণ বিদ্রোহ শুরু হলে সম্রাট কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়ম হল্যান্ডে চলে যান । জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেতা ফ্রেডারিক ইবার্ট - এর পরিচালনায় সােশ্যালিস্ট রিপাবলিকান দল জার্মানিতে রাজতন্ত্রের পরিবর্তে প্রজাতান্ত্রিক সরকার গঠন করে । যার নাম হয় ভাইমার প্রজাতন্ত্র ।
এই প্রজাতান্ত্রিক সরকারের আমলে বিভিন্ন কারণে হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসিবাদের উন্মেষ ঘটে ।
২১. অবশিল্পায়ন বলতে কী বোঝো?
উত্তর :- অবশিল্পায়ন :- অবশিল্পায়নের আক্ষরিক অর্থ হল- শিল্পের অবনমন বা শিল্পের অধোগতি। অবশিল্পায়ন বলতে বোঝায় মূলত শিল্পায়নের বিপরীতমুখী ধারা অর্থাৎ অর্থনীতিতে যদি শিল্পের গুরুত্ব হ্রাস পায় এবং একইসঙ্গে কৃষির গুরুত্ব বাড়তে থাকে তবেই তা অবশিল্পায়ন হিসেবে ধরা হয়। উনবিংশ শতাব্দীতে একদিকে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব, কোম্পানির অসম শুল্ক নীতি ও অত্যাচার এবং অন্যদিকে দেশীয় অভিজাত শ্রেণির অবক্ষয়ের ফলে বাংলার তাঁত-বস্ত্রশিল্পসহ অন্য শিল্পের কারিগররা ব্যাপক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল, একেই- অবশিল্পায়ন বলা হয়।
অবশিল্পায়নের ফলাফল:-
অবশিল্পায়নের সুফল কিছুই ছিল না বরং ভারতীয় অর্থনীতিতে অবশিল্পায়নের একাধিক কুফল লক্ষ্য করা যায়।এই ফলাফল গুলি হল নিম্নরূপ-
১) ভারতীয় শিল্প বিপর্যয়:- এই অবশিল্পায়নের ফলে ভারতীয় তাঁত, বস্ত্র শিল্প, কুটির শিল্প সহ একাধিক শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ভারতে সনাতনী কারিগরি শিল্প মূলত বস্ত্রশিল্প গভীর বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল।
২) বেকারত্ব বৃদ্ধি:- অবশিল্পায়নের ফলে প্রচুর সংখ্যক কারিগর কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন। শুধু বাংলাতেই ১০ লক্ষ মানুষ কাজ হারিয়েছিল। দেশে কর্মহীনতা ও বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।
২২. ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব হয়েছিল কেন?
উত্তর :- ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্পবিপ্লব ঘটার কারণঃ- ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লব হওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক কারণ বিদ্যমান ছিল। শিল্পবিপ্লব তথা শিল্পের প্রসারের জন্য যেসব উপকরণ বা পরিবেশের প্রয়োজন ছিল ইংল্যান্ডে সেগুলির অভাব ছিল না। মহাদেশের মধ্যে ইংল্যান্ডেই প্রথম শিল্পবিপ্লব হওয়ার কারণগুলি হল নিম্নরূপ...-
অনুকূল পরিবেশঃ- ইংল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সেখানকার সাতসেঁতে আবহাওয়ার নিরিখে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুবিধা, বায়ুশক্তি ব্যবহারের সুযোগসহ কয়লা, লোহা প্রভৃতি খনিজ দ্রব্যের প্রাচুর্য সেখানে শিল্প বিকাশের সহায়ক হয়েছিল।
কাঁচামালের জোগানঃ- অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডেকৃষিবিপ্লবের ফলে শিল্পের প্রয়োজনীয় প্রচুর কাঁচামাল উৎপাদিত হতে থাকে।এ ছাড়া ইংল্যান্ড, ভারত ও আমেরিকা থেকে সস্তায় নিয়মিত শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, সমসাময়িক ইউরোপীয় দেশগুলির তুলনায় ইংল্যান্ডে আমদানিকৃত কাঁচামালের পরিমাণ ছিল অনেক গুণ বেশি।
২৩. জোলভারেইন বলতে কী বোঝো?
উত্তর :- জোলভারেইন হল প্রাশিয়ার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত একটি শুল্ক সংঘ । এর উদ্যোগে 1819 সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ।
প্রতিষ্ঠার কারণ -জার্মানির এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে ব্যবসা ও মালপত্রের যাতায়াতের শুল্ক সংক্রান্ত নানা রকমের অসুবিধা ছিল । এর মধ্যে প্রাশিয়াতে প্রায় 57 রকমের শুল্ক চালু ছিল । এই সকল অসুবিধা দূর করার জন্য প্রাশিয়ার নেতৃত্বে জোলভারেইন শুল্ক সংঘ প্রতিষ্ঠিত হয় ।
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
শ্রেণী - নবম পূর্ণমান -৪০
বিষয় - ইতিহাস সময় - ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট
১. টীকা লেখো -----
ক ) ভিয়েনা সম্মেলন ( আদর্শ, উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব )
উত্তর :-
খ ) ইয়ং ইতালি
উত্তর :- ভূমিকাঃ ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইতালি শুধুমাত্র একটি নামমাত্র দেশ ছিল। তখন ইতালির ভৌগলিক সীমারেখা বলে কিছু ছিল না। ইতালি সেইসময় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কয়েকটি রাজ্য বা প্রদেশে বিভক্ত ছিল এবং সেই সমস্ত দেশ গুলির মধ্যে শুধুমাত্র সার্ডিনিয়া এবং পিয়েডমন্ট স্বাধীন ছিল। এবং বাকি সমস্ত রাজ্য বা প্রদেশগুলি অন্যান্য রাষ্ট্রের দখলে চলে গিয়েছিল। 1815 খ্রিষ্টাব্দের ভিয়েনা সম্মেলনে ইতালির সমস্ত আশা-আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ না হওয়ায় এবং এবং মেটারনিক ব্যবস্থার ইতালির জাতীয়তাবাদের মৃত্যু ঘন্টা বাজানো হলে ইতালির জনগণের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের চিন্তাভাবনা গড়ে উঠতে দেখা যায়। এবং এই চিন্তাভাবনা থেকেই গড়ে ওঠে কার্বোনারী এবং ইয়ং ইতালির মতো কয়েকটি দল।
ইয়ং ইতালি দলের প্রতিষ্ঠাঃ ভিয়েনা সম্মেলনে প্রবর্তিত প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবস্থার অবসান ঘটানোর জন্য এবং অস্ট্রিয়ার অধীনতা থেকেই ইতালিকে মুক্ত করার জন্য কার্বোনারী গুপ্ত দল গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু কার্বোনারী দলের 1820 খ্রিস্টাব্দে এবং 1830 খ্রিস্টাব্দের বিদ্রোহ সফল হয়নি। এরপর যোসেফ ম্যাৎসিনি নামক এক ব্যক্তি পুনরায় সেই একই উদ্দেশ্য নিয়ে 1832 খ্রিস্টাব্দে ইয়ং ইতালি বা তরুন ইতালি নামক একটি দল গঠন করে। প্রথমদিকে জোসেফ ম্যাৎসিনি কার্বোনারী দলের সদস্য হিসেবে বিদ্রোহ করায় তাকে ইটালী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু পরে তিনি দেশে ফিরে এসে ইতালির ঐক্য আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ইয়ং ইতালি দলটি প্রতিষ্ঠা করেন।।
ইয়ং ইতালি দল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যঃ---
ইতালির স্বাধীনতা এবং ঐক্য প্রতিষ্ঠাঃ
ইতালির যুবশক্তির উন্মেষ ঘটিয়ে জনগণের মধ্যে ঐক্যগড়ে তোলা- জোসেফ ম্যাৎসিনি ইতালির যুব সমাজের মধ্যে স্বাধীনতর আদর্শ তুলে ধরেছিলেন। জোসেফ ম্যাৎসিনি ইতালির যুব সমাজের মধ্যে স্বাধীনতার লক্ষ্য প্রচারকার্যকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য তিনি একটি পতাকা তৈরি করেছিলেন। যার এক পিঠে লেখা ছিল স্বাধীনতা এবং অপর পিঠে লেখা ছিল ঐক্য।
ইতালির উপর থেকে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য দূর করাঃ
ইয়ং ইতালি দলের প্রচারের ফলে ইতালির ঐক্য আন্দোলন এক জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। জোসেফ ম্যাৎসিনি প্রচারের মাধ্যম মূলত তাদের শত্রু অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে ইতালি উপর থেকে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য দূর করতে চেয়েছিলেন অথবা অস্ট্রিয়ার আধীনতা থেকে ইতালিকে মুক্ত করতে চেয়েছিল। কিন্তু অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে এই সংগ্রামে ইয়ং ইতালি দল কখনই বিদেশী শক্তির সাহায্য নেওয়ার পক্ষপাতি ছিল না। তারা সবসময়ই আত্মশক্তির উপর নির্ভরশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।।
স্বাধীন প্রজাতান্ত্রিক ইতালি গঠনঃ
জোসেফ ম্যাৎসিনি ইয়ং ইতালির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বিশেষ করে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করে সংগ্রামের মাধ্যমে অস্ট্রিয়ারথেকে মুক্তি মুক্তি পেয়ে ইতালিকে একটি স্বাধীন প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন দেখতেন। এবং তার এই আদর্শে ইতালির যুব সম্প্রদায় অনেক ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত হয়েছিল এবং একারণেই জোসেফ ম্যাৎসিনিকে ইয়ং ইতালি দলের আত্মা বলে অভিহিত করা হয়। যোসেফ ম্যাৎসিনির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ইয়ং ইতালি দলের নেতৃত্বে এক শক্তিশালী যুব সম্প্রদায় গণ-আন্দোলনের সূচনা করেছিলম তাদের এই আন্দোলনের ইতালির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছিল কিন্তু ফরাসি সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়নের সেনার কাছে তাদের পতন ঘটে। এবং এভাবেই ইয়ং ইতালি দলের আন্দোলন ব্যর্থ হয়।।
কিন্তু ইয়ং ইতালি দলের আন্দোলন ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও একথা অস্বীকার করা যায় না যে, জোসেফ ম্যাৎসিনি স্বাধীনতার জন্য মানসিক দিক থেকে ইতালির জনগণকে প্রস্তুত করেছিলেন। ব্যক্তিত্ব, আত্মত্যাগ এবং সাংগঠনিক শক্তির ক্ষেত্রে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।।
২. জাতীয়তাবাদ বলতে কী বোঝো? এর বৈশিষ্ট্য লেখ।
উত্তর :- জাতীয়তাবাদ :- স্বদেশের তথা মাতৃভূমির গৌরব ও অগৌরবকে কেন্দ্র করে সেই দেশের মানুষ বা জাতির অন্তরে যে উল্লাস, স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ, অনুভূতি, জাতীয় চেতনা, আত্মমর্যাদা ও আত্মাভিমান সঞ্চারিত হয় তাকেই জাতীয়তাবাদ বলে । জাতীয়তাবাদ একটি আধুনিক ধারণা । যেমন আন্তর্জাতিক খেলাধুলার আসরে বিজয়ী দেশগুলির সমর্থকদের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস দেখা যায়, তেমন বিজিত দেশগুলির সমর্থকদের মধ্যে দেখা যায় সীমাহীন বিষাদ ও হতাশা । দেশের প্রতি এই মমত্ববোধ ও একাত্মতাই হল জাতীয়তাবাদ ।
এর বৈশিষ্ট্য :-
৩. বিসমার্কের রক্ত ও লৌহ নীতি বলতে কী বোঝো আলোচনা করো।
উত্তর :-
৪. রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার এর উদ্যোগে ভূমিদাস প্রথার অবসান এর কারণ কি?
উত্তর :-
৫. শিল্প বিপ্লবের সুফল এবং কুফল আলোচনা করো। ৪/৮
উত্তর :-
শিল্প বিপ্লবের সুফল
১. শিল্পায়ন ও বৃহদাকারের উৎপাদন ব্যবস্থা : শিল্প বিপ্লব শিল্পায়নের সূচনা করে, যা উৎপাদন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন বয়ে আনে। প্রাকৃতিক শক্তি চালিত যান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে গৃহকেন্দ্রিক ক্ষুদ্রাকৃতির উৎপাদনের পরিবর্তে বৃহদাকারে উৎপাদন ব্যবস্থা চালু হয়।
এতে ক. উৎপাদন বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়,
খ. উৎপাদনের অনিশ্চয়তা দূর হয়,
গ. মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ও ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং ঘ. উৎপাদিত দ্রব্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়। ফলে মানুষ সহজে তাদের প্রয়োজন পূরণের সুযোগ লাভ করে।
২. মানবকল্যাণে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার : প্রাক-শিল্প যুগে দীর্ঘদিন যাবত গাছ-পালা, পশু-পাখি, কৃষিদ্রব্য মানুষের বেঁচে থাকার জন্য আহার ও শক্তি যোগাত। শিল্প বিপ্লব মানুষের সামনে বিরাট এক নতুন দিগন্ত উম্মোচিত করে। মনুষ্য ও পশু শক্তির পরিবর্তে কয়লা, তেল, বিদ্যুৎ, পরমাণু ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তিকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মানুষ নিজেদের উন্নয়ন ও কল্যাণে লাগাবার কৌশল আবিষ্কার করে। এজন্য বলা হয় -শিল্প বিপ্লব মানুষের বিরাট প্রাকৃতিক শক্তি ভান্ডারকে আয়ত্ত করার এবং তা নিশ্চিতভাবে ব্যবহার করার একটি সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক ঘটনা।
৩. যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন : শিল্প বিপ্লবের ফলে সনাতন যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তে যান্ত্রিক যোগাযোগ পদ্ধতি প্রবর্তিত হয়। সনাতন যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। ফলে ভৌগলিক দূরত্ব হ্রাস পায় এবং জনজীবন সহজ, দ্রুততর ও আরামপ্রদ হয়। আন্তুর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। এতে মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নত এবং শ্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
৪. কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি : শিল্প বিপ্লবের ফল হলো শিল্পায়ন ও নগরায়নের প্রসার। শিল্পায়নের ফলে বহুমুখী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। শিল্পভিত্তিক পেশার উদ্ভব হবার ফলে শ্রমের চলনশীলতা এবং মাথাপিছু শ্রমিকের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। পেশাগত দিক হতে কৃষির ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পায়। শিল্পের স্থানীয়করণের ফলে নগরায়ণ ত্বরান্বিত হয়। শিল্প নগরের ক্রমবর্দ্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণের প্রয়োজনে নতুন নতুন বাণিজ্যিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। এতে কর্ম সংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়। পেশা ও বৃত্তির বহুমুখীতা শিল্প বিপ্লবের সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক ফল।
৫. পেশার পরিবর্তন ও সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ : শিল্প বিপ্লবের ফলে বংশানুক্রমে আরোপিত কৃষি পেশার পরিবর্তন ঘটে। শিল্প ভিত্তিক সমাজে মানুষ সহজেই পেশা পরিবর্তনের সুযোগ পায়। এতে মানুষের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এছাড়া শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট শ্রমবিভাগ, শ্রমিকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুসারে কাজ পেতে সাহায্য করে।
৬. শ্রমের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন : শিল্প বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট শ্রম বিভাগ, শ্রমের উৎপাদন ক্ষমতা এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে। ১৮৭০ সালে দু’জন শ্রমিক একটি ক্রেনের সাহায্যে যে পরিমাণ পাথর উঠাতে পারতো, ঠিক সে পরিমাণ পাথর উঠাতে যন্ত্রের প্রয়োগের পূর্বে ৩৬০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হতো। পুরানো পদ্ধতিতে একজন কারিগর দিনে তিনজোড়া জুতো বানাতে পারে। আর নতুন যান্ত্রিক পদ্ধতিতে একই কারিগর ৩০০ জোড়া জুতো বানাতে পারে। একটি শিল্প সমৃদ্ধ সমাজের একজন শ্রমিক তার দু’মাসের আয় দিয়ে সারা বছর আহার ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা বিধান করতে পারে।
শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন প্রসঙ্গে সমাজ বিজ্ঞানী অগবার্ন এবং নিমকফ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অতি সাধারণ শ্রমিক যে সব সুযোগ সুবিধা পায়, প্রাক-শিল্পযুগে রাজন্যবর্গ তার অনেক কিছু পেতেন না। তখন রাজাদের মোটরগাড়ী, রেডিও, রেফ্রিজারেটর ছিল না।
৭. প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের প্রচলন : শিল্প বিপ্লব মানুষকে বিরাট প্রাকৃতিক সম্পদ ও শক্তি ভান্ডারকে নিজেদের কল্যাণে নিশ্চিতভাবে ব্যবহারের সুযোগ এনে দেয়। এতে মানুষের মৌল চাহিদা পূরণের প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী প্রাপ্তির অনিশ্চয়তা দূর হয়। উৎপাদন, যাতায়াত ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহার শুরু হয়।
১. অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা : শিল্প বিপ্লবের ফলে যান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতির সূচনা হয়। এতে গৃহকেন্দ্রিক কুটির শিল্প ধ্বংসের ফলে, অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। আবার প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে অনেক শ্রমিক, যান্ত্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণে ব্যর্থ হয়ে বেকারে পরিণত হয়। ১৮৭০ সালে দুজন লোক একটি ক্রেনের সাহায্যে যে পরিমাণ পাথর উঠাতে পারতো, ঠিক সে পরিমাণ পাথর উঠাতে শিল্প বিপ্লবের পূর্বে ৩৬০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হতো। সনাতন পদ্ধতিতে একজন কারিগর দিনে তিন জোড়া জুতো বানাতে পারতো। আর নতুন যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সেই একই কারিগর ৩০০ জোড়া জুতো বানাতে পারতো। এভাবে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বেকার হয়ে আর্থিক নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়।
২. পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তন ও শিশু এবং প্রবীণদের নিরাপত্তাহীনত : শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে সমাজের মৌলিক প্রতিষ্ঠান পারিবারিক কাঠামোর মধ্যে পরিবর্তনের সূচনা হয়। যুগের চাহিদা অনুযায়ী যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার গড়ে উঠে। ফলে বৃদ্ধ, অক্ষম, শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়। শিল্প বিপ্লবের পূর্বে যৌথ পরিবার তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতো।
শিল্প বিপ্লবের ফলে সমাজ জীবনে যে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন ঘটেছে, সে পরিবর্তনের প্রভাব থেকে পরিবার মুক্ত নয়। শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে শিল্পায়ন দ্রুত হয়, যাতে শ্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। কর্মসংস্থানের আশায় শ্রমজীবি মানুষ গ্রাম ছেড়ে
শহরে বা শিল্পাঞ্চলে গমন করে। বাসস্থানের স্বল্পতা, স্বল্প মজুরী এবং নির্দিষ্ট আয় ইত্যাদি কারণে পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে শহরে বসবাস করা সম্ভব হয় না। ফলে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার সৃষ্টি হয়। ফার্ডিনেন্ড লুন্ডবার্গ তাঁর “দ্যা কামিং ওয়ার্ল্ড ট্রান্সফরম্যাশন গ্রন্থে বলেছেন, পরিবার সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হবার মুখে। আলভিন টফলার ১৯৭০ সালে সর্বাধিক বিক্রিত তাঁর “ফিউচার শক” গ্রন্থে বলেছেন, ‘‘শিল্পায়ন সমাজকে এতবেশি বেগবান এবং চলিঞ্চু করে তুলে, যা লোকজনের
ভৌগলিক সচলতা বৃদ্ধি পাওয়া অনিবার্য হয়ে উঠে। স্বভাবতই বৃহদায়তন পরিবার এরূপ সচলতার পথে অন্তরায়। সুতরাং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যৌথ পরিবার ভেঙ্গে দম্পতি কেন্দ্রিক পরিবারে পরিণত হয়।
৩. পেশাগত দুর্ঘটনা বৃদ্ধি : শিল্প বিপ্লবের ফলে যান্ত্রিক উৎপাদন পদ্ধতিতে শ্রমিকদের ঝুকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হতে হয়। এতে পেশাগত দূর্ঘটনার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। পেশাগত দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শ্রমিক শ্রেণী অকাল মৃত্যু, বিকলাঙ্গতা ও কর্মক্ষমতা হারিয়ে আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। প্রাক শিল্প যুগে কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা খুবই কম ছিল। শিল্প বিপ্লবের অব্যবহিত পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমন এক সময় ছিল, যখন প্রতি বছর প্রতি হাজারে ৩৫ হতে ৪০ জন শ্রমিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতো। বছরে প্রায় এক কোটি দুর্ঘটনা সংঘটিত হতো, যাতে প্রায় তিন লাখ শ্রমিক মৃত্যুমুখে পতিত হয়।
৪. স্বাস্থ্যহীনতা এবং পেশাগত সংক্রামক ব্যাধির প্রাদুর্ভাব : শিল্প বিপ্লব যে যন্ত্রের আবিষ্কার করে সে যন্ত্র চালাতে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রভাবে শ্রমিক শ্রেণী বিভিন্ন ধরনের পেশাগত সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। শিল্পায়ন পেশাগত দুর্ঘটনা ও সংক্রামক ব্যাধির প্রাদুর্ভাব ঘটায়। শিল্পায়নের ফলে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে হয় বলে পেশাগত দুর্ঘটনার শিকার হয়ে অকাল মৃত্যু, বিকলাঙ্গতা ও কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এ প্রসঙ্গে মনীষী রেডক্লীফ বলেছেন, ‘‘শ্রম বাঁচানোর যে যন্ত্র আবিষ্কার হলো, সেটি চালাতে শ্রমিকদের নাক দিয়ে প্রতিদিন যাচ্ছে প্রচুর কয়লার ধোঁয়া, জীবনী শক্তি হচ্ছে ক্ষয়।’’ শিল্প বিপ্লবের পূর্বে এরূপ পেশাগত সংক্রামক ব্যাধির প্রাদুর্ভাব ছিল না বললেই চলে।
৫. শিশুদের নিরাপত্তাহীনতা : শিল্প বিপ্লবের ফলে যে যন্ত্রের আবিষ্কার হয়, তাতে শিশু শ্রমিকদের নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হয়। যা শিল্প বিপ্লবের আগে সম্ভব ছিল না। ১৭৯৫ সালে ডঃ এইকেন লিখেছেন, ‘‘যন্ত্রের আবিষ্কার শ্রম বাঁচিয়েছে ঠিকই, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে পরিবার থেকে শিশুকে।’’
শিল্পপতিরা দরিদ্র দেশগুলো হতে পেশাদার দালালের মাধ্যমে নাম মাত্র খাওয়ার বিনিময়ে শিশু শ্রমিক নিয়ে আসত। শিশু কিশোরদের দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করানো হতো। ক্রীতদাসের মত প্রহার করা হতো। অস্বাস্থ্যকর কারখানাগুলোতে শিশু শ্রমিকরা গাদাগাদি করে পশুর মত রাত্রি যাপন করতো। সুতরাং শিল্প বিপ্লব শিশুদের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি করে।
৬. পরস্পর বিরোধী শ্রেণীর উদ্ভব : শিল্প বিপ্লবের ফলে সমাজে নতুন শ্রেণী সম্পর্ক গড়ে উঠে। ভূ-স্বামীদের স্থান দখল করে পুঁজিপতি ও শিল্পপতিগণ। সমাজে শিল্প-শ্রমিক ও মজুরদের আবির্ভাব ঘটে। পুঁজিপতিদের শোষণের ফলে শ্রেণী বৈষম্যের সৃষ্টি হয়। ফলে সমাজে স্বার্থকেন্দ্রিক পরস্পর বিরোধী শ্রেণীর উদ্ভব হয়। যা সামাজিক সংঘাত ও দ্বন্দ্বের সম্ভাবনাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে।
৭. সামাজিক সমস্যার জটিলতা ও বহুমুখীতা : প্রাক-শিল্প যুগে সমাজব্যবস্থা ছিল সহজ সরল। তখন মানুষের সমস্যা ছিল অর্থকেন্দ্রিক। কিন্তু শিল্প বিপ্লবের ফলে এর সাথে যুক্ত হয় সামাজিক ও মনস্তাত্বিক সমস্যা। এতে সামাজিক সমস্যা বহুমুখী ও জটিল রূপ ধারণ করে। সমাজের বহুমুখী আর্থ-সামাজিক সমস্যা সৃষ্টির ক্ষেত্রে শিল্প বিপ্লবের প্রভাব ব্যাপক এবং সুদূরপ্রসারী।
৮. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা : শিল্প বিপ্লবের ফলে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটে। এতে ভৌগলিক দূরত্ব হ্রাস পেলেও সামাজিক দূরত্ব বৃদ্ধি পায়। শিল্প ও শহরাঞ্চলে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ হতে আগত বিভিন্ন পেশার ও মর্যাদার লোক একত্রে বসবাস করে। তাদের মধ্যে মানসিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্য বিদ্যমান থাকে। ফলে তারা একত্রে এমনকি একই বিল্ডিংয়ে বসবাস করা সত্বেও সামাজিক দিক হতে সম্পর্কহীন বিচ্ছিন্ন জীবন যাপন করে। বিপদে-আপদে পারস্পরিক সাহায্য ও সহানুভূতির মনোভাব থাকে না। যার প্রভাবে সামাজিক বন্ধনের শিথিলতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়।
৯. অপরাধ প্রবণতা : অপরাধ একধরনের ক্ষণস্থায়ী অস্বাভাবিক আচরণ, যা সমাজ ও প্রচলিত আইন কর্তৃক স্বীকৃত নয়। পারিপার্শ্বিক পরিবেশের প্রভাবে মানুষের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা দেখা দেয়। শিল্প বিপ্লবোত্তর শিল্পায়ন ও শহরায়নের প্রভাবে সৃষ্ট প্রতিকূল পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বিভিন্নভাবে অপরাধ প্রবণতা সৃষ্টি করে।
শহর ও শিল্পাঞ্চলের গ্রামীণ সমাজের মতো পারিবারিক ও সামাজিক পরিচিতি এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর হয় না। এমতাবস্থায় সামাজিক ও পারিবারিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে মানুষ সহজে নানারকম অসামাজিক ও অপরাধমূলক কার্যকলাপে নিয়োজিত হতে পারে।
১০. গৃহায়ন ও বস্তি সমস্যা : শিল্পায়ন ও শহরায়নের প্রভাবে সৃষ্ট সমস্যাগুলোর মধ্যে গৃহায়ন সমস্যা অন্যতম। গৃহায়ন সমস্যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে গড়ে উঠে বস্তির মানবেতর জীবন ব্যবস্থা। শিল্প ও শহরাঞ্চলে কর্মসংস্থানের আশায় যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়, সেহারে গৃহায়ন হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবি মানুষ বস্তির মানবেতর পরিবেশে আশ্রয় গ্রহণ করে।
৬. আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যম হিসাবে টেলিগ্রাম সম্পর্কে আলোচনা করো ।
উত্তর :-
৭. টীকা লেখ ---
ভার্সাই সন্ধি
উত্তর :-১৯১৮ খ্রি. ১১ নভেম্বর জার্মানি আত্মসমর্পণ করলে মিত্রশক্তি ও তার সহযােগী ৩২ টি দেশের প্রতিনিধিরা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি সম্মেলনে মিলিত হন । এই সম্মেলনে পাঁচটি সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়েছিল । যার একটি হল জার্মানি ও মিত্রপক্ষের মধ্যে প্যারিসের ভার্সাই নগরীতে স্বাক্ষরিত ভার্সাই সন্ধি ( ১৯১৯ খ্রি.)
৮. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ ও ফলাফল আলোচনা করো । ৪/৮
উত্তর :-ভূমিকা :-১৮৭১ থেকে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কালে ইউরােপে বড়াে ধরনের কোনাে যুদ্ধ না হলেও আপাত শান্তির আড়ালে বাতাসে বারুদের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। শান্তির আড়ালে যুদ্ধের এই পরিস্থিতি সশস্ত্র শান্তির যুগ’ নামে পরিচিত। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ইউরােপে শান্তি ভঙ্গ হয় এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণ:-
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বা মহাযুদ্ধের (১৯১৪ ১৮ খ্রি.) বিভিন্ন কারণ ছিল।
১) জার্মানির আগ্রাসী নীতি: কাইজার-[i] বিসমার্কের স্থিতাবস্থার নীতি ত্যাগ করে বুশ জার্মান অনাক্রমণ চুক্তি বাতিল (১৮৯০ খ্রি.) করেন, [ii] রাশিয়ার বিরুদ্ধে অস্ট্রিয়ার আগ্রাসনে উৎসাহ দেন, [] ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আফ্রিকায় বিদ্রোহী বােয়ারএর প্রেসিডেন্ট ঢুগারকে সমর্থন করেন এবং [iv] বার্লিন-বাগদাদ রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন।
2) অতৃপ্ত জাতীয়তাবাদ : ঊনবিংশ শতকের শেষদিক থেকে ইউরােপের বিভিন্ন জাতি আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবিতে সােচ্চার হয়। আলসাস ও লােরেইন পাওয়ার জন্য ফরাসিরা, ট্রিয়েস্ট ও ট্রেনটিনাে পাওয়ার জন্য ইতালীয়রা, শ্লেসউইগ পাওয়ার জন্য ডেনরা, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আয়ারল্যান্ডবাসী আন্দোলন শুরু করে।
৩) বলকান জাতীয়তাবাদ : এশিয়ার অটোমান তুর্কি শাসকদের। অধীনস্থ পুর্ব ইউরােপের বলকান অঞ্চলের বিভিন্ন জাতি স্বাধীনতার দাবিতে ক্রমেই সােচ্চার হয়ে ওঠে। সার্ব জাতি অধুষিত বসনিয়া ও হার্জেগােভিনা নামে দুটি প্রদেশ সার্বিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে চাইলেও বার্লিন চুক্তির (১৮৭৮ খ্রি.) দ্বারা তাদের জোর করে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তাই প্রদেশ দুটিতে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়।
৪) উগ্র জাতীয়তাবাদ : বিংশ শতকের শুরুতে ইউরােপের বিভিন্ন দেশে উগ্র ও সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের দ্রুত প্রসার ঘটতে থাকে। এই সময় ইউরােপে বিভিন্ন উগ্র জাতীয়তাবাদী মতবাদের উন্মেষ ঘটে এবং ইউরােপের প্রতিটি জাতি নিজ জাতিকে শ্রেষ্ঠ এবং অন্য জাতিগুলিকে নিকৃষ্ট বলে মনে করতে থাকে। রাশিয়া, ফ্রান্স, জাপান প্রভৃতি দেশেও উগ্র জাতীয়তাবাদের ব্যাপক প্রসার ঘটে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যান্য কারণ:
৫) ঔপনিবেশিক সংঘাত : ইংল্যান্ড, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশে আগে শিল্পায়ন ঘটায় তারা এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন স্থানে উপনিবেশ বিস্তারে এগিয়েছিল। জার্মানিসহ বেশ কয়েকটি ইউরােপীয় দেশে পরে শিল্পায়ন ঘটায় তারা সেই শিল্পজাত দ্রব্যের বাজার অন্বেষনের জন্য উপনিবেশ দখল করতে গেলে অন্যদের সঙ্গে তাদের সংঘাত বেধে যায়।
৬) জার্মানির নৌশক্তি বৃদ্ধি; নতুন উপনিবেশ দখলের জন্য জার্মান কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম বিশাল জার্মান নৌবহর গঠনের কাজে হাত দেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে ইংল্যান্ডও পালটা নৌশক্তি বৃদ্ধি শুরু করে।
৭) পরস্পর-বিরােধী শিবির : বিংশ শতকের শুরুতে ইউরােপ পরস্পর-বিরােধী দুটি জোটে বিভক্ত হয়ে যায
[i] ত্রিশক্তি চুক্তি:ফ্রান্সকে নিঃসঙ্গ করে রাখার উদ্দেশ্যে জার্মানির প্রধানমন্ত্রী বিসমার্কের উদ্যোগে জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও ইটালির মধ্যে ত্রিশক্তি চুক্তি (১৮৮২ খ্রি.) স্বাক্ষরিত হয়।
[¡¡] ত্রিশক্তি আঁতাত: ত্রিশক্তি জোটের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং রাশিয়ার মধ্যে ত্রিশক্তি আঁতাঁত বা ত্রিশক্তি মৈত্রী গড়ে ওঠে। তাদের মধ্যে ক্রমশ অস্ত্র প্রতিযােগিতা শুরু হয়।
৮) ফ্রান্সের ক্ষোভ : ফ্রান্স সেডানের যুদ্ধে (১৮৭০ খ্রি.) প্রাশিয়ার কাছে পরাজিত হয়ে কয়লা ও লােহার খনিসমৃদ্ধ আলসাস ও লােরেইন নামক স্থান দুটি জার্মানিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এই যুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশােধ গ্রহণ এবং আলসাস ও লােরেইন পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে ফ্রান্স জঙ্গি মনােভাব নিয়ে জার্মান-বিরােধী জোট তৈরি করে এবং ইউরােপে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে।
৯) মরক্কো সংকট ; ফ্রান্স আফ্রিকার মরক্কোয় উপনিবেশ স্থাপনের চেষ্টা করলে জার্মান কাইজার দ্বিতীয় উইলিয়াম ফ্রান্সের বিরুদ্ধে মরক্কোর সুলতানের পাশে দাঁড়ান এবং ‘প্যান্থার' নামে একটি যুদ্ধজাহাজকে মরক্কোর আগাদির বন্দরে ঢুকিয়ে দেন। ফলে ফ্রান্স ও জার্মানির সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
১০) সেরাজেভাের হত্যাকাণ্ড : অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্দিনান্দ ও তার স্ত্রী সােফিয়া সার্ব জাতি অধ্যুষিত বসনিয়া সফরে এলে (১৯১৪ খ্রি.) তারা সেরাজেভাে শহরে এক বসনীয় ছাত্রের হাতে নিহত হন (২৮ জুন)। অস্ট্রিয়া এই হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র সার্বিয়াকে দায়ী করে বিভিন্ন কঠোর শর্তাদি সহ একটি চরমপত্র পাঠায়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মূল্যায়ন:
উপসংহার; অস্ট্রিয়ার চরমপত্রের কিছু শর্ত মানলেও অবশিষ্ট শর্তগুলির বিষয়ে আলােচনার উদ্দেশ্যে একটি আন্তর্জাতিক বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু অস্ট্রিয়া এই প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেড আক্রমণ করে। কিছুদিনের মধ্যে ইউরােপ ও ইউরােপের বাইরের বিভিন্ন রাষ্ট্র ভিন্ন ভিন্ন বিবদমান পক্ষে যােগ দিলে তা বিশ্বযুদ্ধে পরিণত হয়।
◆ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিভিন্ন ফলাফল:-
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৮ খ্রি.) ছিল বিশ্বের প্রথম ভয়ংকরতম যুদ্ধ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতি
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ও বিপুল পরিমাণ অর্থসম্পদ নষ্ট হয় তা ইতিপূর্বে কখনও হয়নি।
১) সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি : প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যােগদানকারী দেশগুলির দৈনিক ব্যয় ছিল ২৪ কোটি ডলার এবং যুদ্ধে মােট ব্যয় হয়েছিল ২৭ হাজার কোটি ডলার। তাছাড়া সমুদ্রে জাহাজ ও জাহাজ পণ্য ডুবিয়ে মূল্যবান ধাতু নষ্ট করে যে বিপুল পরিমাণ সম্প ধ্বংস করা হয় তার হিসাব রাখা সম্ভব হয়নি।
২) গণতন্ত্রের প্রসার : যুদ্ধ-পরবর্তী ইউরােপে গণতন্ত্রের যথেষ্ট প্রসার ঘটে। ডেভিড টমসন বলেছেন যে, “প্রথম বিশ্বযুদ্ধে গণতন্ত্রই জয় হয়।” ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ইউরােপে ৫টি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র ছিল, এই সংখ্যা বেড়ে ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে দাঁড়ায় ১৬টি।
৩) জাতীয়তাবাদের স্বীকৃতি : প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্যারিসের শান্তি সম্মেলনে (১৯১৯ খ্রি.) জাতীয়তাবাদকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে এক জাতি, এক ভাষাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাষ্ট্র গঠিত হতে থাকে।
৪) একনায়কতন্ত্রের প্রসার : যুদ্ধের পর গণতন্ত্রের প্রসারের পাশাপাশি জার্মানি, ইটালি, রাশিয়া, তুরস্ক, স্পেন প্রভৃতি দেশে একনায়কতন্ত্রেরও প্রসার ঘটে। যুদ্ধ-পরবর্তী খাদ্যাভাব, বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রভৃতি একনায়কতন্ত্রের প্রসারের পথ তৈরি করে।
৫) জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা : বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে যুদ্ধের পর মার্কিন রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসনের ‘চোদ্দো দফা নীতি’র ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘ’ বা ‘লিগ অব নেশ’ নামে এক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়।
৬) শক্তিকেন্দ্রের পরিবর্তন : বিশ্বযুদ্ধের আগে জার্মানি, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স ছিল ইউরােপের প্রধান শক্তিশালী দেশ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হয় এবং ইঙ্গ-ফরাসি শক্তি জয়ী হলেও তাদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। ফলে তাদের পূর্ব গৌরব ও ক্ষমতা ধ্বংস হয় এবং আমেরিকা ও রাশিয়া বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
৭) সামাজিক পরিবর্তন: যুদ্ধে অগণিত যুবকের মৃত্যুর ফলে শিল্পকারখানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাজে প্রচুর মেয়ে নিযুক্ত হয়। ফলে মেয়েদের সামাজিক মর্যাদা বাড়ে। এসময় শ্রমিকশ্রেণিরও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন
শ্রেণী - নবম পূর্ণমান -৪০
বিষয় - ইতিহাস সময় - ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট
১. ইতালির ঐক্য আন্দোলনে জোসেফ মাৎসিনি এবং কাউন্ট ক্যাভুর এর ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তর :-
| ইটালির ঐক্য আন্দোলনে জোসেফ ম্যাৎসিনি |
ইটালির ঐক্য আন্দোলনে ম্যাৎসিনির ভূমিকাঃ ইটালির মুক্তি আন্দোলনের প্রাণপুরুষ, আত্মা ও হৃৎস্পন্দন ছিলেন গিউসেপ (ইংরেজি উচ্চারণ জোসেফ) ম্যাৎসিনি (Giuseppe Mazzini)। বাল্যকাল থেকেই জেনোয়ার অধিবাসী ম্যাৎসিনি ইটালির জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।ম্যাসিনির নিরলস চেষ্টায় ইটালিবাসীর মনে স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ ইটালির আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে।
ইয়ং ইটালি(Young Italy)আন্দোলনঃ
প্রথম জীবনে ম্যাৎসিনি কার্বোনারি দলের সদস্য ছিলেন। পরে এই দলের ধ্বংসাত্মক আদর্শে আস্থা হারিয়ে তিনি ‘ইয়ং ইটালি’ বা ‘নব্য ইটালি’ নামে এক নতুন দল গঠন করেন।
এই দলের আদর্শ ছিল শিক্ষণ, চরিত্র-নিষ্ঠা এবং আত্মত্যাগের দ্বারা ইটালিতে জাতীয়তাবাদ সারিত করা। তিনি ইটালির গৌরব ও মাহাত্ম প্রচারের জন্য দেশের যুবকদের আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করতেন শহিদের রক্ত ঝরলে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা পুষ্টি লাভ করবে। তার অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে হাজার হাজার ইতালীয় যুবক মাতৃভূমির বন্ধনমোচনে এগিয়ে আসে।তিনি ঐক্যবদ্ধ ইটালির স্বপ্ন দেখতেন এবং ইতালির ঐক্যের পথে প্রধান বাধাস্বরূপ অস্ট্রিয়াকে ইটালি থেকে উচ্ছেদ করা অপরিহার্য বলে মনে করতেন। এই কাজে কোন বিদেশিশক্তির সাহায্যের পরিবর্তে তিনি ইটালির আত্মনির্ভরশীল যুবশক্তির উপর অধিক আস্থা রেখেছিলেন।
প্রজাতন্ত্র স্থাপনঃ ফেব্রুয়ারি বিপ্লব শুরু হলে সাময়িকভাবে কিছু সময়ের জন্য ম্যাসিনির নেতৃত্বে রোম ও টাসকানিতে প্রজাতন্ত্র স্থাপিত হয়,
মূল্যায়নঃ- তবে ইয়ং ইটালি আন্দোলন অস্ট্রিয়া ও ফ্রান্সের চাপে ব্যর্থ হয়। প্রজাতন্ত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং ম্যাসিনি ইংল্যান্ডে পালিয়ে যান। ব্যর্থতা সত্ত্বেও ইটালির ঐক্য আন্দোলনে ম্যাসিনির ভূমিকাকে গুরুত্বহীন বলা যাবে না। তিনিই প্রথম স্বদেশবাসীর মধ্যে বিপ্লবের মানসিকতা জাগিয়ে তোলেন এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রসার ঘটান।
➖️| ইটালির ঐক্য আন্দোলনে কাউন্ট ক্যাভুর |
ইটালির ঐক্য আন্দোলনে কাউন্ট ক্যাভুৱেৱ ভূমিকাঃ- 1848 খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের ব্যর্থতায় ইটালিবাসী যখন দিশেহারা তখন পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্যাভুর ইটালিবাসীকে নতুন পথের সন্ধান দেন। কঠোর বাস্তববাদী ক্যাভুর বুঝেছিলেন ইটালিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য অস্ট্রিয়াকে বিতাড়িত করতে হবে এবং এর জন্য বিদেশি শক্তির সাহায্যের প্রয়োজন।
অভ্যন্তরীণ ও সামরিক সংস্কারঃ- ক্যাভুর ইটালিবাসীর মধ্যে স্যাভয় রাজবংশের শাসনের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য অভ্যন্তরীণ ও সামরিক সংস্কার করে পিডমন্ট-সার্ডিনিয়াকে শক্তিশালী করে তোলেন। তিনি ইটালির সমস্যাকে আন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিণত করার জন্য ক্রিমিয়ার যুদ্ধে (Crimean War) ইঙ্গ-ফরাসি পক্ষে যােগদান করেন। 1856 খ্রিস্টাব্দে প্যারিসেরশান্তি সম্মেলনে ইটালিতে অস্ট্রিয়ার স্বৈরাচারী শাসনের স্বরূপ তুলে ধরে ইটালির সমস্যাকে আন্তর্জাতিক সমস্যায় রূপান্তরিত করেন।
প্লোমবিয়ার্সের সন্ধি: ক্যাভুর ফরাসি সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়নের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি পান অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে। উভয়ের মধ্যে প্লোমবিয়ার নামক স্থানে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ক্যাভুরের প্ররোচনায় অস্ট্রিয়া 1859 খ্রিস্টাব্দে পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে তৃতীয় নেপোলিয়নের সাহায্যে ক্যাভুর ম্যাজেন্টা ও সলফেরিনোর যুদ্ধে অস্ট্রিয়াকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন। অস্ট্রিয়ার ইটালি থেকে বিদায় যখন আসন্ন, সেই সময় তৃতীয় নেপোলিয়ন।অস্ট্রিয়ার সঙ্গে 1859 খ্রিস্টাব্দে ভিল্লাফ্রাঙ্কার চুক্তি স্বাক্ষর করেন। সেই সন্ধির দ্বারা ক্যাভুর পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার সঙ্গে লম্বার্ডি ও মিলান যুক্ত হলেও ভেনিসিয়া অস্ট্রিয়ার অধীনে থেকে যায়।
উত্তর ইটালির ঐক্যসাধন: ইতিমধ্যে অস্ট্রিয়ার পরাজয় ইটালিবাসীর মধ্যে বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। পার্মা, মোডেনা, টাসকানি, রোমানা প্রভৃতি রাজ্যগুলি পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার সঙ্গে সংযুক্তির ইচ্ছা প্রকাশ করে। অবশেষে মধ্য ইটালির রাজ্যগুলি পিডমন্ট-সার্ডিনিয়ার সঙ্গে যুক্ত হলে উত্তর ইটালি ঐক্যবদ্ধ হয়।
দক্ষিণ ইটালির ঐক্যসাধনঃ উত্তর ইটালির ঐক্যের পর দক্ষিণ ইটালির সিসিলি ও নেপলস-এ বুরবো শাসকদের বিরুদ্ধে ইটালির ঐক্য আন্দোলন শুরু হয়। গ্যারিবল্ডি তার লালকোর্তা’ বাহিনী নিয়ে সিসিলি ও নৈপলস দখল করে নেন। এই অবস্থায় তিনি রোম আক্রমণের উদ্যোগ নিলে ফ্রান্সের সঙ্গে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। এমন অবস্থায় ক্যাভুর গ্যারিবল্ডিকে ওই স্থান প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানালে গৃহযুদ্ধ এড়ানোর জন্য গ্যারিবল্ডি ওই স্থান দুটি পিডমন্টকে ছেড়ে দেয়। এইভাবে ভেনেসিয়া ও রোম ব্যতীত ইটালি ঐক্যবদ্ধ হয়।।
২. স্পেনের গৃহযুদ্ধের কারণ কি ছিল? এর গুরুত্ব ও ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর :- গণতন্ত্র ও শান্তি দুই ই গভীর সংকটে জড়িত হয়। একনায়কতন্ত্রী ও সমর বাদিশক্তি গুলি দেশে দেশে গণতন্ত্র নিধনে অগ্রসর হয় আর অন্যদিকে শান্তি ও নিরপত্তার পক্ষে বিপদজনক হয়ে ওঠে। এরই প্রমাণ মেলে স্পেনের গৃহযুদ্ধ।
স্পেনের গৃহযুদ্ধের কারণ:
১. স্পেনে রাজতন্ত্রকে উচ্ছেদ করে প্রজাতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও এই সরকার জনগণের আস্তাভাজন ছিল না ।
২. স্পেনের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতাদর্শগত পার্থক্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছিল ।
৩. স্পেনের বিত্তশালী মানুষেরা স্পেনের নবগঠিত প্রজাতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে জোট বদ্ধ হয়ে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা তেরি করে।
স্পেনের গৃহযুদ্ধের গুরুত্ব:
স্পেনের ভেতরের ও বাইরের রাজনীতি দুটি ক্ষেত্রে স্পেনের গৃহযুদ্ধ ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
১. স্পেনের ফ্যাসিস্ট সরকার গঠন:ফ্রাঙ্কের অধিনায়কত্বে স্পেনে ফ্যাসিস্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
২ গণতান্ত্রিক দেশ গুলির কূটনীতিক পরাজয়: স্পেনের গৃহযুদ্ধের ফলে ব্রিটেন, ফ্রান্স, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশ গুলির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরাজয় ঘটেছিল।
৩. জার্মানি ও ইতালির উপকার : জার্মানি ও ইতালি বিশেষত জার্মান নানা ভাবে উপকৃত হয়েছিল। এই গৃহযুদ্ধ অংশ নিয়ে হিটলার উপকৃত হয়েছিল,এই গৃহযুদ্ধ অংশ নিয়ে হিটলার তার বিমানবাহিনীর দক্ষতা ও বিভিন্ন মারণাস্ত্রের ক্ষমতা পরীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
স্পেনের গৃহযুদ্ধের ফলাফল :
স্পেনের গৃহযুদ্ধ জেনারেল ফ্রাঙ্কো রাজনৈতিক ও সামরিক কারণে ফ্যাসিবাদী ইতালি ও ন্যাৎসিবাদি জার্মানির কাছ থেকে প্রত্যক্ষ সাহায্য লাভ করে। অন্যদিকে সোভিয়েত রাশিয়া প্রজাতান্ত্রিক সরকারকে সাহায্য করেছিল।
ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্ব সরকারের প্রতিষ্ঠিত: ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে লীগ অব নেশনস স্পেন থেকে সমস্ত বিদেশে সৈন্য অপসারণের জন্য প্রস্তাব নেয়। কিন্তু জার্মানি ও ইতালি দুজনের কেউই লীগের সজ ছিল না।
তাই তারা লিগের প্রস্তাব উপেক্ষা করে ফ্রাঙ্কেকে পুরোদমে সাহায্য করেছিল।অবশেষে ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে মাঝামাঝি সময়ে ফ্রাঙ্কের সেনাবাহিনী জয়লাভে সমর্থ হয়। অবশেষে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদএর পতন হলেও প্রজাতন্ত্রের সরকারের ক্ষমতা ক্ষমতাচ্যুত হয়।
৩. ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল কেন?
উত্তর :-ভূমিকাঃ- শিল্পবিপ্লব বলতে বোঝায় শিল্পের ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি বা আমূল পরিবর্তন।ঐতিহাসিকদের মতে, 1760-1780 খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয়েছিল।অর্থাৎ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্পবিপ্লবের সূচনা হয়েছিল।
ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্পবিপ্লব ঘটার কারণঃ- ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লব হওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক কারণ বিদ্যমান ছিল। শিল্পবিপ্লব তথা শিল্পের প্রসারের জন্য যেসব উপকরণ বা পরিবেশের প্রয়োজন ছিল ইংল্যান্ডে সেগুলির অভাব ছিল না। মহাদেশের মধ্যে ইংল্যান্ডেই প্রথম শিল্পবিপ্লব হওয়ার কারণগুলি হল নিম্নরূপ।--
অনুকূল পরিবেশঃ- ইংল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সেখানকার সাতসেঁতে আবহাওয়ার নিরিখে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুবিধা, বায়ুশক্তি ব্যবহারের সুযোগসহ কয়লা, লোহা প্রভৃতি খনিজ দ্রব্যের প্রাচুর্য সেখানে শিল্প বিকাশের সহায়ক হয়েছিল।
কাঁচামালের জোগানঃ- অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডেকৃষিবিপ্লবের ফলে শিল্পের প্রয়োজনীয় প্রচুর কাঁচামাল উৎপাদিত হতে থাকে।এ ছাড়া ইংল্যান্ড, ভারত ও আমেরিকা থেকে সস্তায় নিয়মিত শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, সমসাময়িক ইউরোপীয় দেশগুলির তুলনায় ইংল্যান্ডে আমদানিকৃত কাঁচামালের পরিমাণ ছিল অনেক গুণ বেশি।
সুলভ শ্রমিকঃ- অষ্টাদশ শতকে ইংল্যান্ডে জনসংখ্যার বৃদ্ধির দরুন শ্রমিকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছিল। তাছাড়া কারখানায় কাজ করার জন্য প্রচুর মানুষ গ্রাম থেকে শহরে আসতে থাকে। সেই কারণে সেই সময় ইংল্যান্ডে খুব সহজে এবং কম মজুরিতে শ্রমিকের জোগান ছিল, যা শিল্পায়নের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছিল।বাণিজ্য করে এবং ভারত, আমেরিকা ইত্যাদি দেশ থেকে নানাভাবে শিল্পের প্রয়োজনীয় মূলধনের কোনো অভাব হয়নি। সর্বোপরি মলধনের প্রাচর্য ইংল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা এই সময় নানা দেশে ব্যাবসাবাণিজ্য করে এবং ভারত, আমেরিকা অর্থ শোষণ করে ইংল্যান্ডের অর্থনীতিতে সমৃদ্ধ করেছিল, যার ফলে ইংল্যান্ডেশিল্পের সায়মলধনের কোনো ইংল্যান্ডের জাতীয় ব্যাংক ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড’ (Bank of England) শিল্পক্ষেত্রে পাচব খন দিয়ে শিল্পবিপ্লবে সাহায্য করে।
বিশ্বব্যাপী বাজারঃ- এই সময় ইংল্যান্ডের কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি পেলে
পেলে তাদের শিল্পপণ্য কেনার ক্ষমতা বাড়ে। তাছাড়া ইংল্যান্ড নিজের দেশে বিক্রির পর তার উত্তশিল্পদ্রব্য বিভিন্ন উপনিবেশের বাজারগুলিতে বিক্রির সযোগ পেয়েছিল। এই উপান
রগুলিতে বিক্রির সুযোগ পেয়েছিল। এই উপনিবেশগুলি পরবর্তীকালে ইংল্যান্ডে উৎপাদিত শিল্পদ্রব্যের একচেটিয়া বাজারে পরিণত হয়।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিঃ- ইংল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান, শক্তিশালী নৌবহর ইত্যাদি কারণও সেদেশে সর্বপ্রথম শিল্পাবন করেছিল। ইংল্যান্ডের সুবিস্তৃত সমুদ্র উপকূল,উন্নত নৌশক্তি ও বন্দর প্রভৃতির ফলে শিল্প উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বিভিন্ন দেশ থেকে জলপথে সহজেই ইংল্যান্ডে আনা হত। আবার শিল্পোৎপাদিত পণ্যসামগ্রী বোঝাই ব্রিটিশ জাহাজগুলি অনায়াসে সব দেশে যাতায়াত
করতে পারত। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে খাল ও নদীপথে যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহণের ব্যবস্থা ছিল যথেষ্ট উন্নত।
বাণিজ্যের গুরুত্ব বৃদ্ধিঃ- সপ্তদশ শতকের মধ্যেই ইংল্যান্ড কৃষিনির্ভর রাষ্ট্র থেকে বাণিজ্যনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। বিদেশের সঙ্গে বাণিজ্যের ফলে ইংল্যান্ডের অর্থনীতি খুবই শক্তিশালী হয়ে ওঠায় তারা শিল্প প্রতিষ্ঠায় বিপুল অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ পায়।
বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারঃ- অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্পবিপ্লব ঘটার ক্ষেত্রে শিল্প সহায়ক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের আবিষ্কার ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্পিনিং জেনি, উড়ন্ত মাকু, ওয়াটার ফ্রেম, মিউল, পাওয়ার লুম, বাষ্পীয় ইঞ্জিন, নিরাপত্তা বাতি, ব্লাস্ট ফার্নেস প্রভৃতি আবিষ্কারের ফলে বস্ত্রশিল্পের উন্নতির পাশাপাশি ইংল্যান্ডের কারখানায় উৎপাদন ব্যবস্থারও অগ্রগতি ঘটে।
৪. বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কারের সঙ্গে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর :- আধুনিক যুগে বিশ্বে যে শিল্প বিপ্লব ঘটে তা অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডের শুরু হয় এবং পরে তা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
ইংল্যান্ডের শিল্পায়ন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ইংল্যান্ডে সর্বপ্রথম শিল্প বিপ্লব ঘটাতে সহায়তা করেছিল ।যেমন -
বস্ত্রশিল্পে আবিষ্কার : অষ্টাদশ শতকে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বস্ত্রশিল্পে উন্নতি সহায়তা করে। এই আবিষ্কার গুলি হল জনকের ফ্লাইং শাটল (উরন্ত মাকু),হারগ্রিভস এর স্পিনিং জেনি,আর্করাট এর ওয়াটার ফ্রেম, ক্রম্পটন এর মিউল,রাইট এর পাওয়ার লুক প্রভৃতি।
বাষ্পীয় ইঞ্জিন : জেমস ওয়াট বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করলে শিল্পের প্রয়োজনীয় যন্ত্র গুলি চালানোর কাজে খুবই সুবিধা হয় ।
লৌহ শিল্পে প্রযুক্তি : আব্রাহাম ডারবি আবিষ্কৃত লোহা গলানোর পদ্ধতি ,জন স্মিটন আবিষ্কৃত ব্লাস্ট ফার্নেস (লোহা গলানোর চুল্লি),হেনরি বেসিমার আবিষ্কৃত ইস্পাত তৈরির কৌশল প্রভৃতি ইংল্যান্ডের শিল্পায়নে সহায়তা করে।
নিরাপত্তা বাতি : মাটির নিচে থেকে নিরাপদে কয়লা কয়লা সহ বিভিন্ন খনিজ সম্পদ উত্তোলন এর ক্ষেত্রে হামফ্রে ডোভ আবিষ্কৃত সেফটি ল্যাম্প খুবই সহায়তা করে।
পরিবহন : টেল ফোর্ড ও ম্যাকাডাম আবিষ্কৃত পিচের রাস্তা,জর্জ স্টিফেনসন আবিষ্কৃত বস্পচালিত রেল ইঞ্জিন, ফুলটন আবিষ্কৃত বাষ্পীয় স্টিমার,টেলিগ্রাফ ও টেলিফোন প্রভিতি ইংল্যান্ডের শিল্পায়নে খুব ই সহয়াতা করে।
উপসংহার :শিল্প বিপ্লব ইংল্যান্ডের যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে।যন্ত্রের দ্বারা উৎপাদনের ফলে শিল্পউৎপদনের বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বিক্রি পণ্যের বাজার ধরতে তারা এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়।
৫.জার্মানির ঐক্য আন্দোলনে বিসমার্কের ভূমিকার উল্লেখ করো।
উত্তর: ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে তথা নেপােলিয়নের জার্মানি জয়ের আগে , জার্মানি প্রায় 300 টি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত ছিল। পরবর্তীকালে নেপােলিয়ন সেই রাজ্যগুলির পুনর্গঠন করেন এবং 300 টি রাজ্যকে 39 টি রাজ্যে বিভক্ত করে , কনফেডারেশন অফ দ্যা রাইন নামে একটি রাষ্ট্র গঠন করেন।পরবর্তীকালে বিসমার্ক – এর নেতৃত্বে জার্মানিতে ঐক্য সংগঠিত হয়েছিল।
রক্ত ও লৌহ নীতির প্রয়ােগ : বিসমার্কের সময় যুদ্ধের অনুকূল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে , 1864 সাল থেকে 1870 সাল পর্যন্ত , ছয় বছরের মধ্যে তিনটি যুদ্ধের সাহায্যে
জার্মানির ঐক্য সংগঠিত হয়েছিল।
ডেনমার্কের সঙ্গে যুদ্ধঃ
বিসমার্কের সময় , যুদ্ধের পুনরুদ্ধারের জন্য বিসমার্ক অস্ট্রিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে 1864 খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধ করেন এবং ডেনমার্ক পরাজিত হয়েছিল।
অস্ট্রিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ :
গ্যাস্টিনের সন্ধি এমনভাবে করা হয়েছিল ,যাতে শীঘ্রই অস্ট্রিয়া ও প্রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে , সেজন্য বিসমার্ক আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন। স্যাডােয়ার যুদ্ধে অস্ট্রিয়াকে পরাজিত করে , ফলে উত্তর ও মধ্য জার্মানি থেকে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য দূর হয়।
এছাড়া , ফ্রান্সের সঙ্গে সেভানের যুদ্ধের ফলে ফ্রান্স পরাজিত হয়েছিল , এভাবেই বিসমার্কের ইতিবাচক নেতৃত্ব জার্মানির ঐক্য সম্পন্ন করেছিল এবং এই নবগঠিত জার্মানির রাজা হয়েছিলেন প্রথম উইলিয়াম।
💥👇 Important link 👇💥:-
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন