HS Bengali Suggestion 2023 | উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৩ | HS Bengali Suggestion 2023 | উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৩
HS Bengali Suggestion 2023 | উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৩
HS Bengali Suggestion 2023
উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৩
HS Bengali Suggestion 2023 উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২২ : পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার সাজেশন ২০২৩ (West Bengal Higher Secondary Class 12th Bengali Suggestion 2023) নিচে দেওয়া হল। এই West Bengal HS Bengali Suggestion 2023 WBCHSE – পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৩ MCQ, সংক্ষিপ্ত, অতিসংক্ষিপ্ত এবং রোচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর গুলি আগামী HS Bengali 2023 – উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ২০২৩ পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট। তোমরা যারা দ্বাদশ শ্রেণির উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন 2023 – HS Bengali Suggestion 2023 খুঁজে চলেছো, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্নপত্র ভালো করে পড়তে পারো। উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষা তে এই সাজেশন বা কোশ্চেন (HS Bengali Suggestion 2023 – উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন 2023) গুলো আসার সম্ভাবনা খুব বেশি।
উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন উত্তর ও শেষ মুহূর্তের সাজেশন ডাউনলোড। পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য সমস্ত রকম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর বা উচ্চমাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৩ – HS Bengali Suggestion 2023 নিচে দেওয়া হয়েছে।
West Bengal Higher Secondary Bengali Suggestion 2023 | WBCHSE HS Bengali Suggestion 2023 | পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা সাজেশন 2023
উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা গল্প সাজেশন 2022 :
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর
কে বাঁচায় কে বাঁচে! (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | HS Bengali Question and Answer
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর : কে বাঁচায় কে বাঁচে! (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় HS Bengali Question and Answer : উচ্চমাধ্যমিক বাংলা – কে বাঁচায় কে বাঁচে! (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer নিচে দেওয়া হলো। এই দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর – WBCHSE Class 12 Bengali Question and Answer, Suggestion, Notes – কে বাঁচায় কে বাঁচে! (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে বহুবিকল্পভিত্তিক, সংক্ষিপ্ত, অতিসংক্ষিপ্ত এবং রোচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (MCQ, Very Short, Short, Descriptive Question and Answer) গুলি আগামী West Bengal Class 12th Twelve XII Bengali Examination – পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট।
তোমরা যারা কে বাঁচায় কে বাঁচে! (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় – উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer Question and Answer খুঁজে চলেছ, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্ন ও উত্তর গুলো ভালো করে পড়তে পারো।
কে বাঁচায় কে বাঁচে! (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় MCQ, সংক্ষিপ্ত, অতি সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর – উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা সাজেশন | HS Bengali Suggestion – West Bengal Class 12th Bengali Question and Answer
মূলগ্রন্থ মহামন্বন্তর MCQ প্রশ্নোত্তর সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো | উচ্চমাধ্যমিক বাংলা – কে বাঁচায় কে বাঁচে! (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer :
- গ্রুয়েল কথার অর্থ হলো –
(A) এক ধরনের টনিক
(B) ভাতের ফ্যান
(C) ফলের সরবত
(D) সুস্বাদু খাবার ।
Ans: (B) ভাতের ফ্যান
- ফুটপাতে ব্যক্তিটির মৃত্যুর কারণ –
(A) রোগ
(B) দুর্ঘটনা
(C) খাদ্যে বিক্রিয়া
(D) অনাহার ।
Ans: (D) অনাহার
- সেদিন কোথায় যাবার পথে মৃত্যুঞ্জয় প্রথম মৃত্যু দেখে ?
(A) বাজার
(B) নিখিলের বাড়ি
(C) অফিস
(D) বাড়ি ফেরার পথে ।
Ans: (C) অফিস
- “ফুটপাতে হাঁটা তার বেশি প্রয়োজন হয় না” – কার প্রয়োজন হয় না ?
(A) নিখিল
(B) টুনুর মা
(C) মৃত্যুঞ্জয়ের
(D) টুণুর ।
Ans: (C) মৃত্যুঞ্জয়ের ।
- মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়িতে থাকে –
(A) দশ জন লোক
(B) পাঁচ জন লোক
(C) সাতজন লোক
(D) ন জন লোক ।
Ans: (D) ন জন লোক
- মৃত্যুঞ্জয়ের প্রকৃত বন্ধু হল –
(A) কৈলাস
(B) মানিক
(C) নিখিল
(D) সুব্রত ।
Ans: (C) নিখিল
- মৃত্যুঞ্জয় অফিসে ঠিকমতো না এসে কোথায় যায় –
(A) বাজারে
(B) আত্মীয়ের বাড়িতে
(C) নিজের বাড়িতে
(D) শহরের ফুটপাতে ঘুরে বেড়ায় ।
Ans: (D) শহরের ফুটপাতে ঘুরে বেড়ায়
- নিখিল অবসর জীবন কিভাবে কাটাতে চায় ?
(A) দুস্থ মানুষের সেবা করে
(B) দেশ বিদেশ ভ্রমন করে
(C) গান শুনে ও নাটক দেখে
(D) বই পড়ে আর চিন্তা জগৎ গড়ে তুলে ।
Ans: (D) বই পড়ে আর চিন্তা জগৎ গড়ে তুলে ।
- নিখিল কার কাছে মাঝে মধ্যেই কাবু হয়ে যায় ?
(A) মৃত্যুঞ্জয়ের কাছে
(B) অফিসের অন্যান্যের কাছে
(C) তার স্ত্রীর কাছে
(D) অফিসের বড় বাবুর কাছে ।
Ans: (A) মৃত্যুঞ্জয়ের কাছে ।
- নিখিল রোগা তীক্ষ্ণ বুদ্ধি এবং একটু –
(A) আলোসে প্রকৃতির লোক
(B) সাহসী প্রকৃতির লোক
(C) ভীরু প্রকৃতির লোক
(D) চালক প্রকৃতির লোক ।
Ans: (A) আলসে প্রকৃতির লোক
- মৃত্যুঞ্জয় ধূর্লিমলিন সিল্কের জমা এখন –
(A) পরিচ্ছন্ন হয়েছে
(B) ছিঁড়ে গেছে
(C) অদৃশ্য হয়েছে
(D) নতুন হয়েছে ।
Ans: (C) অদৃশ্য হয়েছে
- “কয়েক মিনিট মৃত্যুঞ্জয়ের সুস্থ শরীরটা অসুস্থ হয়ে গেল” কারণ –
(A) অফিসে কাজের প্রবল চাপ ছিল
(B) প্রচণ্ড গরমের মধ্যে হেঁটে সে অফিসে এসেছিল
(C) প্রথমবার অনাহারে মৃত্যু দেখে সে প্রবল আঘাত পেয়েছিল
(D) বেশি খাবার খেয়ে ফেলায় তার বমি হচ্চিল ।
Ans: (C) প্রথমবার অনাহারে মৃত্যু দেখে সে প্রবল আঘাত পেয়েছিল
- মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি নজর রাখার জন্য কার কাছে কাতর অনুরোধ করেন ?
(A) প্রতিবেশীর কাছে
(B) নিখিলের কাছে
(C) অফিসের বড় বাবুর কাছে
(D) ডাক্তারের কাছে ।
Ans: (B) নিখিলের কাছে
- মৃত্যুঞ্জয় রোজ অফিসে যায় –
(A) বাসে করে
(B) ট্রামে করে
(C) পায়ে হেঁটে
(D) নিজের গাড়িতে ।
Ans: (B) ট্রামে করে
- “গা থেকে এইচি । খেতে পাই নে বাবা । আমায় খেতে দাও ।” কথাগুলো বলেছে –
(A) টুনুর মা
(B) মৃত্যুঞ্জয়
(C) মৃত্যুঞ্জয়ের ছেলে
(D) নিখিল ।
Ans: (B) মৃত্যুঞ্জয়
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | উচ্চমাধ্যমিক বাংলা – কে বাঁচায় কে বাঁচে! (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer :
- নিখিলের সমপদস্থ মৃত্যুঞ্জয় নিখিলের তুলনায় কত টাকা মাইনে বেশি পায় এবং কেন ?
উত্তর- নিখিল ও মৃত্যুঞ্জয় সমপদস্থ হলেও মৃত্যুঞ্জয়ের বেতন পঞ্চাশ টাকা বেশি । কারণ সে একটা বাড়তি দায়িত্ব পালন করে ।
2.“ অন্য সকলের মতো মৃত্যুঞ্জয়কে সেও খুব পছন্দ করে । ” – কী কারণে ‘ সে ’ মৃত্যুঞ্জয়কে পছন্দ করে ?
3.“ নইলে দর্শনটা অনেক আগেই ঘটে যেত সন্দেহ নেই । ” – কীসের দর্শন ?
উত্তর : দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে মৃত্যুঞ্জয়ের ফুটপাথে অনাহার- মৃত্যুর দর্শনের কথা এখানে বলা হয়েছে ।
- “ নিখিলকে বার বার আসতে হয় । ” – নিখিলকে কোথায় , কেন বারবার আসতে হয়
?
উত্তর: পথে পথে ঘুরে বেড়ানো বন্ধু মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়ির লোকেদের খোঁজ খবর নিতে নিখিলকে মৃত্যুঞ্জয়ের বাড়িতে বারবার আসতে হয় ।
- “ একেবারে মুষরে যাচ্ছেন দিনকে দিন । ” – উক্তিটি কার ?
উত্তর : ‘ কে বাঁচায় , কে বাঁচে ‘ গল্পে প্রশ্নোধৃত এই উক্তিটি মৃত্যুঞ্জয়ের স্ত্রীর ।
- কে হল হে তোমার ? ” – কে , কাকে এ কথা বলেছিল ?
উত্তর : কে বাঁচায় , কে বাঁচে ’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের বমি করা ও শরীর খারাপ দেখে সহকর্মী নিখিল তাকে এ কথা বলেছিল ।
- “ শত ধিক্ আমাকে । ” – কে , কেন নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিল ?
উত্তর: মৃত্যুঞ্জয় নিজেকে ধিক্কার দিয়েছিল কারণ দেশের লোকের অনাহার জনিত মৃত্যুর কথা জেনে শুনেও সে চারবেলা পেট পুরে খেয়েছে ।
- ‘ কে বাঁচায় , কে বাঁচে ‘ গল্পটি প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয় ?
উত্তর : ‘ কে বাঁচায় , কে বাঁচে ’ গল্পটি প্রথম সারদাকুমার দাস সম্পাদিত ‘ ভৈরব ’ পত্রিকার প্রথম শারদ সংখ্যায় ১৩৫০ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয় ।
- আনমনে অর্ধ – ভাষণে যেন আর্তনাদ করে উঠল মৃত্যুঞ্জয় । ” – আর্তনাদটা কী ছিল ?
উত্তর: আর্তনাদটা ছিল— “ মরে গেল । না খেয়ে মরে গেল । ”
10.“ সকলে এক কথাই বলে । ” কী কথা বলে ?
উত্তর: সকল দুর্ভিক্ষ পীড়িতই বলে , ‘ গা থেকে এইছি । খেতে পাইনে বাবা । আমায় খেতে দাও ।
- “ এ অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত কি ? ” অপরাধটা কী ?
উত্তর: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘ কে বাঁচায় , কে বাঁচে ! ‘ গল্পে দেখা যায় , মানুষ অনাহারে ভুগছে আর মৃত্যুঞ্জয় এই দুরবস্থার সময়েও চারবেলা পেটভরে খেয়েছে । সে এটাকেই অপরাধ বলে গণ্য করেছে ।
- “ মরে গেল ! না খেয়ে মরে গেল ” — কার উক্তি এবং কে মরে গেল ?
উত্তর: উক্তিটি মৃত্যুঞ্জয়ের । একজন ফুটপাথবাসী বুভুক্ষু মানুষ অনাহারে মরে গেল ।
- “ তখন সে রীতিমতো কাবু হয়ে পড়েছে ” – সে কাবু হয়ে পড়েছিল কেন ?
উত্তর: পঞ্চাশের দুর্ভিক্ষের দিনে অফিসকর্মী মৃত্যুঞ্জয় প্রথম পথে এক অনাহারে মৃত্যুর দৃশ্য দেখে মানসিক আঘাত পেয়ে কাবু হয়ে পড়েছিল ।
- টুনুর মা বিছানায় পড়ে থেকে বাড়ির লোকদের কীভাবে মৃত্যুঞ্জয়ের খোঁজ নিতে পাঠান ?
উত্তর: টুনুর মা বিছানায় পড়ে থেকে বাড়ির ছেলে , বুড়ো সকলকে তাগাদা দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের খোঁজ নিতে পাঠান ।
- “সেটা আশ্চর্য নয় । ” কোনটা আশ্চর্য নয় ?
উত্তর: ‘ কে বাঁচায় , কে বাঁচে ! ’ গল্পে অনাহারে ফুটপাতে মৃত্যুর ঘটনাটি আশ্চর্য নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।
- অনাহারক্লিষ্ট মানুষদের জন্য খাদ্যের সংস্থান করতে নিখিল কী ব্যবস্থা নিয়েছে ?
উত্তর: অনাহারক্লিষ্ট মানুষদের জন্য খাদ্যের সংস্থান করতে নিখিল তার পরিবারের রোজকার খাওয়াদাওয়ার বহর যতদূর সম্ভব কমিয়ে দিয়েছে । বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যই তারা খায় ।
রচনাধর্মী | উচ্চমাধ্যমিক বাংলা – কে বাঁচায় কে বাঁচে! (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer :
- “ সেদিন অফিস যাবার পথে মৃত্যুঞ্জয় প্রথম মৃত্যু দেখল – অনাহারে মৃত্যু । ” এই ‘ দেখা’র ফলে মৃত্যুঞ্জয়ের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল ?
Ans: উদ্ধৃতাংশটি মানিক বন্দোপাধ্যায় ‘ কে বাঁচায় , কে বাঁচে ! ’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে ।
মৃত্যুঞ্জয় একজন অফিসকর্মী । সমপদস্থ সহকর্মী নিখিলের থেকে সে বরং একটি বাড়তি দায়িত্বের কারণে পঞ্চাশ টাকা বেশি পায় । বাড়ি থেকে বেরিয়েই সে ট্রামে ওঠে এবং অফিসের দরজার সামনে গিয়ে নামে । ফলে পঞ্চাশের দুর্ভিক্ষের সময় কলকাতার পথেঘাটে দুর্ভাগা মানুষের মৃত্যুর ভয়াবহ দৃশ্যের সম্মুখীন তাকে এতদিন হতে হয়নি । কিন্তু সেদিন মৃত্যুঞ্জয়কে আকস্মিকভাবে অনাহারে মৃত্যুর বীভৎস দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হলো ।
- ” ওটা পাশবিক স্বার্থপরতা ” – কে , কাকে একথা বলেছে ? ‘ পাশবিক স্বার্থপরতা ‘ শব্দবদ্ধ ব্যবহারের কারণ কী ? অথবা , “ … সমাজদর্শনের দিক থেকে বিচার করলে দশ জনকে খুন করার চেয়ে নিজেকে না খাইয়ে মারা বড়ো পাপ । ” বক্তা কে ? এই উত্তিতে বক্তার যে মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে তা বিশ্লেষণ করো ।
Ans: উদ্ধৃত উক্তিটি করেছে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছোটোগল্প ‘ কে বাঁচায় , কে বাঁচে ! ’ গল্পের অন্যতম চরিত্র নিখিল ।
নিখিল বাস্তববাদী । তার মতে নিজেকে না খাইয়ে মারা ঠিক নয় । দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষদের প্রতি সহানুভূতিবশত মৃত্যুঞ্জয় খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল । নিখিল তখন যুক্তি দেখিয়ে বলে মন্বন্তরের দিনে ভূরিভোজনটা অন্যায় কিন্তু নিজেকে না খাইয়ে রাখা আরও অন্যায় । বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু দরকার ততটুকু খেলে দুর্ভিক্ষের দিনে অন্যায় কোথায় ? শত শত নিরন্নের দিকে চেয়ে যদি নিজেকে অভুক্ত রেখে দেওয়া হয় তবে সেটা নিজেরই সঙ্গে প্রবঞ্ছনা করা ।
- “ এভাবে দেশের লোককে বাঁচানো যায় না । ” এভাবে বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? এভাবে দেশের লোককে বাঁচানো যায় না কেন ?
Ans: আলোচ্য অংশটি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ কে বাঁচায় , কে বাঁচে । ‘ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । পঞ্চাশের মন্বস্তরের প্রেক্ষাপটে গল্পটি রচিত হয়েছে । অনাহারক্লিষ্ট মানুষ খাদ্যের আশায় কলকাতায় ভিড় করেছে । দিনের পর দিন কলকাতায় অনাহারে – অর্ধাহারে কাটিয়ে দেওয়া মানুষগুলির ঠিকানা ফুটপাথ । একদিন ফুটপাথে এমনই এক ব্যক্তির মৃত্যু দেখে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়ে মৃত্যুঞ্জয় । এটা সে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি । সে নিজের খাওয়া কমিয়ে দেয় । নিজের বেতনের পুরো টাকাটা কোনো রিলিফ ফান্ডে দিয়ে দেওয়ার জন্য মৃত্যুঞ্জয় অনুরোধ করে নিখিলকে । এভাবে মৃত্যুঞ্জয় অনাহারক্লিষ্ট মানুষকে বাঁচাতে চায় । মৃত্যুঞ্জয়ের এই স্বার্থত্যাগ , পরোপকারবৃত্তি ও মানবিকতাবোধ আসলে বাস্তববর্জিত । তাই নিখিল মৃত্যুঞ্জয়কে বলে , “ এভাবে দেশের লোককে বাঁচানো যায় না । ” কারণ নিজে বাঁচো , অন্যকেও বাঁচাও ’ – এটাই জীবনের দাবি , বাস্তব সত্য । কেননা একজন মানুষ তার সর্বস্ব দিয়েও দেশের এত অনাহারক্লিষ্ট মানুষকে বাঁচাতে পারবে না । এজন্য দরকার প্রত্যেকের সাধ্যানুযায়ী সাহায্য ও সহযোগিতা করা । সম্মিলিত প্রয়াসে এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব , অর্থাৎ অভুক্ত , নিরন্ন মানুষকে বাঁচাতে একজন মানুষের সর্বস্ব ত্যাগও যথেষ্ট নয় । কোথাও দীর্ঘ খরা , আবার কোথাও অতিবৃষ্টির জন্য ফসল নষ্ট হয়েছে ফলে গ্রামবাংলায় দেখা দিয়েছিল দুর্ভিক্ষ । গ্রাম ছেড়ে দলে দলে মানুষ ভিড় করেছিল শহরে – বন্দরে । সরকার ত্রাণের ব্যবস্থা , বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে । কিন্তু আশানুরূপ সাফল্য পায়নি । বেশিরভাগ মানুষ এটা বুঝতে পেরেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে । কিন্তু মৃত্যুণায়কে এসব প্রচণ্ড নাড়িয়ে দিয়েছে । সে সর্বস্ব দান করেছে , নিজেও ভুখা মানুষগুলির দলে সামিল হয়েছে । তবুও সে অবস্থা একটুও পাল্টাতে পারেনি । এই পরিস্থিতি বিচার করেই নিখিল এমন মন্তব্য করেছে । তার মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ । কেননা — একজনের সর্বস্ব ত্যাগ বা একজনকে খাওয়ালে মনের শাস্তি মেলে , দুর্ভিক্ষপীড়িত বৃহত্তর জনগণের মঙ্গল হয় না । তাছাড়া প্রত্যেক মানুষ তার দায়িত্ব যদি যথাযথোভাবে পালন করে তবেই দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশের মানুষকে বাঁচানো যাবে ।
by Soumen Bera 21th July, 2022উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর
ভাত (গল্প) মহাশ্বেতা দেবী | HS Bengali Question and Answer
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর : ভাত (গল্প) মহাশ্বেতা দেবী HS Bengali Question and Answer : উচ্চমাধ্যমিক বাংলা – ভাত (গল্প) মহাশ্বেতা দেবী প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer নিচে দেওয়া হলো।এই দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর – WBCHSE Class 12 Bengali Question and Answer, Suggestion, Notes – ভাত (গল্প) মহাশ্বেতা দেবী থেকে বহুবিকল্পভিত্তিক, সংক্ষিপ্ত, অতিসংক্ষিপ্ত এবং রোচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (MCQ, Very Short, Short, Descriptive Question and Answer) গুলি আগামী West Bengal Class 12th Twelve XII Bengali Examination – পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট।
তোমরা যারা ভাত (গল্প) মহাশ্বেতা দেবী –উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer Question and Answer খুঁজে চলেছ, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্ন ও উত্তর গুলো ভালো করে পড়তে পারো।
ভাত (গল্প) মহাশ্বেতা দেবী MCQ, সংক্ষিপ্ত, অতি সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর – উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা সাজেশন | HS Bengali Suggestion – West Bengal Class 12th Bengali Question and Answer
MCQ প্রশ্নোত্তর সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো | উচ্চমাধ্যমিক বাংলা – ভাত (গল্প) মহাশ্বেতা দেবী প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer :
- “উনি আমার দেবতা” – উনিটা কে ?
(A) বাবু
(B) শিবঠাকুর
(C) বামুন
(D) উচ্ছব ।
Ans: B শিবঠাকুর
- শশুর খেতে আসার কতক্ষন আগে বড় বউকে লুচি করতে হত ?
(A) পাঁচ মিনিট
(B) দশ মিনিট
(C) দু মিনিট
(D) এক ঘন্টা ।
Ans: D একঘন্টা
- ছোট বাবু কোন চালের ভাত খান ?
(A) কনকপানি
(B) ঝিঙ্গেসাল
(C) রামশাল
(D) পদ্মজালি ।
Ans: D. পদ্মজালি
- উচ্ছব বাসিনীর গা সম্পর্কে কে হয় ?
(A) দাদা
(B) কাকা
(C) বোনাই
(D) বেহাই ।
Ans: A. দাদা
- ‘ কনকপানি চালের ভাত খান –
(A) বড়বাবু
(B) মেজবাবু
(C) ছোটবাবু
(D) পিসিমা ।
Ans: A. বড়বাবু
- ট্রেন ধরে উচ্ছব প্রথমে কোথায় যাবে ভেবেছিল ?
(A) দেশে
(B) কালীঘাটে
(C) গায়ে
(D) ক্যানিং – এ
Ans: D. ক্যানিং – এ
- কার চাহনি বড় ভাইয়ের ভালো লাগেনি ?
(A) উচ্ছবের
(B) নার্সের
(C) তান্ত্রিকের
(D) সসুরের ।
Ans: (A) উচ্ছবের
- ভাত গল্পে কার বিয়ে হয়নি ?
(A) উদ্ধবের
(B) উচ্ছবের
(C) ছোট ছেলের
(D) পিসিমার ।
Ans: D. পিসিমার
- ” ডাক্তার বলে দিয়েছে বলেই যজ্ঞ – হোম হচ্ছে – ডাক্তার কী বলেছিলেন ?
(A) যজ্ঞ করতে
(B) চন্দ্রায়ন করতে
(C) তান্ত্রিক ডাকতে
(D) মৃত্যু আসন্ন ।
Ans: D. মৃত্যু আসন্ন
- ” এ বাড়িতে চাকরি করা হয়ে ওঠেনি । ” কারণ –
(A) তারা ঘর জামাই থাকে
(B) তারা এগারোটার আগে ঘুম থেকে ওঠে না
(C) তারা অসুস্থ
(D) তারা বাড়ির কাজে ব্যাস্ত ।
Ans: B. তারা এগারোটার আগে ঘুম থেকে ওঠে না
- কর্তার মৃত্যু হলে পিসিমা তান্ত্রিককে কী অপবাদ দিয়েছিলেন ?
(A) পিশাচ
(B) ভন্ড সন্ন্যাসী
(C) ডাকাতের সন্ন্যাসী
(D) যজ্ঞের ।
Ans: C. ডাকাতের সন্ন্যাসী ।
- গ্রামের শ্রদ্ধার জন্যে কাকে ডাকা হতো ?
(A) উচ্ছবকে
(B) অগ্রদানিকে
(C) পণ্ডিতকে
(D) মহানাম শতপথিকে ।
Ans: D. মহানাম শতপথিকে ।
- ” এ পিশাচের বাড়ি কেমন তা ঝোননি দাদা ” – এখানে দাদা কে ?
(A) ডাক্তার
(B) ভজন
(C) তান্ত্রিক
(D) উচ্ছব ।
Ans: D. উচ্ছব
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | উচ্চমাধ্যমিক বাংলা – ভাত (গল্প) মহাশ্বেতা দেবী প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer :
- ” তাস পিটানো ছেলেগুলি অস্বস্তিতে পড়ে । ” কেন ছেলেগুলি অস্বস্তিতে পড়েছিল ?
Ans: ঝড়ে – জলে উচ্ছবের সর্বনাশ হয়েছে , তার মানুষও ভেসে গেছে , সেজন্য সে কাদছে । কান্নার এই কারণ শুনে তাস পিটানো ছেলেগুলি অস্বস্তিতে পড়ে ।
- “ শ্বশুরের ঘরে নাস ” – নার্স কাকে বলে ?
Ans: বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোগীর সেবিকাকে নার্স বলে ।
- গরিবের গতর এরা শস্তা দেখে ” – কে , কাকে , কাদের প্রসঙ্গে এই কথা বলেছিল ?
Ans: মহাশ্বেতা দেবীর ‘ ভাত ‘ গল্পের বাসিনী উচ্ছবকে বড়ো বাড়ির মানুষজনদের সম্বন্ধে এই কথা বলেছিল ।
- “ তার জন্য দই পেতে ইসবগুল দিয়ে শরবত করে দিতে হত ” – কার জন্যে , কে শরবত করে দিতেন ?
Ans: ‘ ভাত ‘ গল্পে বড়ো বাড়ির বড়ো বউ শ্বশুরমশাইয়ের জন্য শরবত করে দিতেন ।
- “ বাদায় থাকে অথচ ভাতের আহিংকে এতখানি ” – ‘ আহিংকে ‘ শব্দের অর্থ কী ?
Ans: এখানে ‘ আহিংকে ‘ শব্দের অর্থ হলো ‘ আকাঙ্ক্ষা ‘ ।
- উচ্ছবকে জেলখানায় কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ?
Ans: উচ্ছব ভাত খাওয়ার জন্যে বড়ো বাড়ির ভাতসুদ্ধ পিতলের ডেকচি নিয়ে স্টেশনে চলে গিয়েছিল । তাতে লোকেরা উচ্ছবকে চুরির অপবাদ দিয়ে জেলে নিয়ে গিয়েছিল ।
- “ লোকটার চাহনি বড়ো বাড়ির বড়ো বউয়ের প্রথম থেকেই ভাল লাগেনি ” — ভালো না লাগার কারণ কী ?
Ans: লোকটার চাহনি খুব উগ্র ছিল বলে বড়ো বাড়ির বড়ো বউয়ের ভালো লাগেনি ।
- “ তোমার শ্বশুরই মরতে বসেছে বাছা ” কথাটি যিনি যাঁকে বলেছেন উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক কী ?
Ans: কথাটি যিনি যাঁকে বলেছেন উভয়ের মধ্যে পিসিশাশুড়ির ও ভাইপো – বৌ সম্পর্ক ।
- “ তোমরা রা কাড়না ক্যান ” – কে , কাদের উদ্দেশে এই কথা বলেছিল ?
Ans: আলোচ্য কথাটি উচ্ছব তার স্ত্রী – সন্তানদের উদ্দেশে বলেছিল ।
- তান্ত্রিকের হোম – যজ্ঞ প্রস্তুতির বর্ণনা দাও ।
Ans: পাঁচ প্রকার গাছের কাঠ— প্রতিটা আধমণ করে । কালো বিড়ালের লোম , শ্মশান থেকে বালি , বেশ্যার ঘর থেকে আনতে হবে হাত – আর্শি ।
- “ চোেখ ঠিকরে আসে তার ” — কী দেখে , কার চোেখ ঠিকরে আসে ?
Ans: পাঁচ রকমের চাল দেখে উচ্ছবের চোেখ ঠিকরে আসে ।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | উচ্চমাধ্যমিক বাংলা – ভাত (গল্প) মহাশ্বেতা দেবী প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer :
- “ দাঁতগুলো বের করে সে কামটের মতোই হিংস্র ভঙ্গি করে ” – কে , কার এরূপ আচরণ করেছিল ? তার এরূপ আচরণের কারণ বিশ্লেষণ করো ।
Ans: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর ‘ ভাত ‘ ছোটগল্পের মুখ্য চরিত্র উচ্ছব নাইয়া তার গ্রাম্য সম্পর্কিত বোন বাসিনীর প্রতি এমন আচরণ করেছিল।
গল্পে বুড়ো কর্তার মৃত্যুর পরে তার মৃতদেহ শ্মশানের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার পরে বড়ো পিসিমার কথায় বাড়ির সব রান্না ফেলে আসতে বলেন । আর ঠিক সেই মুহুর্তেই উচ্ছব স্থির করে নেয় যে সে কী করবে । সুদূর সুন্দরবন থেকে শুধুমাত্র খাবারের সন্ধানে সে এসেছিল শহরের বড়ো বাড়িতে কাজ করতে । কিন্তু বুড়ো কর্তাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য হোম – যজ্ঞ শেষ না হলে খাওয়া হবে না – এই যুক্তিতে সে তার চরম আকাঙ্খিত খাবার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল । এর মধ্যে সে নানা রকম চালের এবং খাবারের গল্প শুনেছে ও দেখেছে । আর তাই তো- ‘ ফুটন্ত ভাতের গন্ধ তাকে বড়ো উতলা করে ’ । কিন্তু ভাত জোটেনি উচ্ছবের ।
কিন্তু আজ যখন বাসিনী ভাত ফেলতে গেল তখন উচ্ছব ভাতের ডেকচি নিয়ে সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ যে সে কী করবে ? ডেকচি নিয়ে প্রথমে হনহনিয়ে হাঁটা তারপর দৌড়ানো শুরু করে । যে ভাতের জন্য তার দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা , সেই ভাত এখন তার হাতের মুঠোয় । এই সময়েই যখন বাসিনী তাকে ‘ অশুচ বাড়ির ভাত ’ খেতে নিষেধ করে তা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে উচ্ছবের পক্ষে । সে ফিরে দাঁড়ায় এবং কামটের মতো হিংস্র চোখে বাসিনীর দিকে তাকায় । তার দাঁত বের করা মুখ ভঙ্গি কামটের মতো হিংস্র লাগে বাসিনীর ।
- “ ফুটন্ত ভাতের গন্ধ তাকে বড়ো উতলা করে । ” – তাকে বলতে এখানে কাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে ? এই গন্ধ তাকে কেন উতলা করে ?
Ans: এখানে ‘ ‘ তাকে ’ বলতে মহাশ্বেতা দেবীর ‘ ভাত ‘ গল্পের মুখ্য চরিত্র বাদা অঞ্চলের বাসিন্দা অন্নহীন উচ্ছব নাইয়ার কথা বলা হয়েছে ।
সুন্দরবনের নিম্ন জলাভূমি অঞ্চল অর্থাৎ বাদা অঞ্চলেই হলো প্রায় স দক্ষিণবঙ্গের অন্নের মূল উৎস স্থান । অথচ সেখাকার বাসিন্দা উৎসব দিনের পর দিন না খেয়ে থাকে । জমিহীন উৎসব সতীশবাবুর জমিতে কাজ করত । কিন্তু মড়ক লেগে উচ্ছব বলতে থাকে- “ লক্ষ্মী না আসতে সেধে ভাসান যাচ্ছে তা কাঁদব না এতটুকু ? আমরা খাব ‘ । শুধু অনাহারই নয় , সর্বঘাতী বন্যায় উৎসব তার বউ ছেলে মেয়েকে হারিয়ে ফেলেন । একদিকে শোক আর অন্যদিকে ক্ষুধার তীব্র জ্বালায় সে প্রেতে পরিণত হয় ।
ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য উৎসব বাসিনীর সাহায্যে বড়ো বাড়িতে এলে ভাতের বিনিময়ে কাঠ কাটার কাজে নিয়োজিত হয় । বড়ো বাড়িতে অপরিসীম ভাতের গল্প তাকে পাগল করে তোলে এবং সে জানতে পারে এ সব ভাত আসে বাদা অঞ্চল থেকে । কিন্তু উৎসবের বাদায় ভাত নয় শুধু- ‘ গুগলি – গোঁড়ি – কচুশাক , সুশনো শাক ’ পাওয়া যায় । আর সেই জন্য উৎসব ভাতের হুতাশে আড়াই মন কাঠ কেটেছিল । বড়ো বাড়ি থেকে ভেসে আসা ফুটন্ত ভাতের গন্ধে তার বহুকালের খিদে বেড়ে যায় , উৎসব তাই ‘ ভাতের হুতাশে ’ উতলা হয়ে উঠে ।
- “ আসল বাদাটার খোঁজ করা হয় না আর উচ্ছবের । ” “ আসল বাদা ‘ কোনটা ? উচ্ছব আর আসল বাদাটার খোঁজ করতে পারল না কেন ?
অথবা , “ সে বাদাটা বড়ো বাড়িতে থেকে যায় অচল হয়ে । ” কোন বাদাটা , কেন বড়ো বাড়িতে অচল হয়ে থেকে যায় ?
Ans: মহাশ্বেতা দেবীর ‘ ভাত ’ গল্প থেকে সংগৃহীত উক্তিটিতে ‘ আসল বাদা ‘ বলতে বোঝানো হয়েছে উচ্ছবের গ্রামতুতো বোন বাসিনীর মনিবের যে বাদা অঞ্চলে ঝিঙেশাল , রামশাল , কনকপানি , পদ্মজালি , মোটা সাপটা ইত্যাদি ধান উৎপাদিত হতো সেই অঞ্চলকে ।
গল্পে দেখা যায় , বাসিনী উচ্ছবকে বড়ো বাড়িতে নিয়ে এসেছে হোমযজ্ঞের কাঠ কাটার জন্য । উচ্ছব ভাত খেতে পাবে এই আশায় আড়াই মণ কাঠ কেটে ফেলে । সে অনেক দিন ধরে ভাত খেতে পায়নি , তাই সে ভাতের জন্য উতলা হয়ে ওঠে । কিন্তু তান্ত্রিকের বিধানে তার কাঙ্ক্ষিত ভাত খাওয়া অধরা থেকে যায় । কেননা অসুস্থ বুড়োকর্তা মরে গিয়ে নাকি বাড়ির রান্না করা ভাত অশুচি করে দিয়েছে । তাই এই ভাত আর খাওয়া চলবে না । সংস্কার মতো এই অশুচি ভাত ফেলে দেওয়ার দায়িত্ব পড়েছে উচ্ছবের ওপর । কিন্তু ভাতের ডেকচি হাতের নাগালে পেতেই উচ্ছব অশুচি ভাত খাওয়ার ব্যাপারে কোনোরূপ বাধানিষেধ মানতে রাজি নয় । মনের আনন্দে ভাত খেয়ে ভুখা পেটের খিদে মিটাবে এই আশায় সে ভাতের ডেকচি নিয়ে হনহন করে হাঁটতে শুরু করে । সে খুব দ্রুত স্টেশনে উপস্থিত হয় , এবং প্রাণভরে ভাত খেয়ে স্বর্গসুখ অনুভব করে । সব ভাত খেয়ে উচ্ছব ডেকচির কানা মাথা স্পর্শ করে ঘুমিয়ে পড়ে ।
আর এখানেই উচ্ছবের স্বর্গসুখের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায় । সকাল না হতেই পেতলের ডেকচি চুরি করার অপরাধে লোকজন উচ্ছবকে ধরে ফেলে এবং মারতে মারতে থানায় নিয়ে যায় । উচ্ছব একদিন যে আসল বাদাটার খোঁজ করার স্বপ্ন দেখেছিল , সেই বাদাটার খোঁজ করা তার আর সম্ভব হলো না । এইভাবেই শেষ পর্যন্ত সেই আসল বাদাটা বড়ো বাড়িতে অচল হয়ে থেকে যায় ।
- “ তুমি কি বুঝবে সতীশবাবু । ” সতীশবাবু কী বুঝবে না ? কেন বুঝবে না ? সতীশবাবু উচ্ছবের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছিল ?
Ans: আলোচ্য অংশটি মহাশ্বেতা দেবীর ‘ ভাত ‘ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে । ভাত না খেলে কীরূপ ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে হয় , উচ্ছব তা বুঝতে পেরেছে । একারণেই উচ্ছব জানিয়েছে সতীশবাবু ভাত না খেতে পারার জ্বালা বুঝতে পারবে না ।
সতীশবাবু আর্থিক দিক থেকে স্বচ্ছল । উচ্ছবের মতো যে নদীর পাড়েও থাকে না , মেটে ঘরেও থাকে না । তার পাকা ঘর ঝড়ে ভেঙে যায়নি , এছাড়া তার ধান – চাল সম্পূর্ণ নিরাপদে আছে । তাই দেশজোড়া দুর্যোগের সময়েও তার ঘরে রান্না হয়েছে । উচ্ছবের আর্থিক অবস্থা ভালো নয় । তার যা কিছু ছিল তাতেও ভগবানের মার পড়েছে । তুমুল ঝড়বৃষ্টিতে মাতলার জলে উচ্ছবদের সংসার সর্বনাশ হয়ে যায় । একে উচ্ছবের ঘরদোর বিপর্যস্ত তার ওপর স্ত্রী – পুত্র হারিয়ে যায় এ হেন অবস্থায় হতদরিদ্র উচ্ছবদের পেটের জ্বালা সতীশবাবু কোনোমতেই বুঝতে পারবে না ।
তুমুল ঝড়বৃষ্টিতে উচ্ছবদের সংসার বিপর্যস্ত হয়ে গেলে সে সম্পূর্ণ একাকী হয়ে পড়ে । কয়েকদিন ধরে অভুক্ত থাকার জন্য উচ্ছব খিদের জ্বালায় ছটফট করে । খিদের জ্বালা মিটানোর জন্য সে সতীশবাবুর কাছে ভাতের প্রার্থনা করে , কিন্তু সতীশবাবু জানায় তাকে ভাত দিলে পঙ্গপালের মতো মানুষ তার কাছে ভিড় করবে । প্রচণ্ড ক্ষুধার তাড়নায় উচ্ছব ভাত ভাত করছে শুনে সতীশবাবু মস্তব্য করেছে তার মতিভ্রম হয়েছে । উচ্ছবকে ভাত না দিয়ে সতীশবাবু নিষ্ঠুর , অমানবিক কাজ করেছে ।
- “ মারতে মারতে উচ্ছবকে ওরা থানায় নিয়ে যায় । ” কারা , কেন উচ্ছবকে মারতে মারতে থানায় নিয়ে যায় ?
Ans: মহাশ্বেতা দেবীর ‘ ভাত ‘ গল্পে উচ্ছব নাইয়াকে পেতলের ডেকচি চুরি করার অপরাধে পুলিশের লোকজন মারতে মারতে থানায় নিয়ে যায় ।
গল্পে দেখা যায় , বাসিনী উচ্ছবকে বড়ো বাড়িতে নিয়ে এসেছে হোমযজ্ঞের কাঠ কাটার জন্য । উচ্ছব ভাত খেতে পাবে এই আশায় আড়াই মণ কাঠ কেটে ফেলে । সে অনেক দিন ধরে ভাত খেতে পায়নি , তাই সে ভাতের জন্য উতলা হয়ে ওঠে । কিন্তু তান্ত্রিকের বিধানে তার কাঙ্ক্ষিত ভাত খাওয়া অধরা থেকে যায় । কেননা অসুস্থ বুড়োকর্তা মরে গিয়ে নাকি বাড়ির রান্না করা ভাত অশুচি করে দিয়েছে । তাই এই ভাত আর খাওয়া চলবে না । সংস্কার মতো এই অশুচি ভাত ফেলে দেওয়ার দায়িত্ব পড়েছে উচ্ছবের ওপর । কিন্তু ভাতের ডেকচি হাতের নাগালে পেতেই উচ্ছব অশুচি ভাত খাওয়ার ব্যাপারে কোনোরূপ বাধানিষেধ মানতে রাজি নয় । মনের আনন্দে ভাত খেয়ে ভুখা পেটের খিদে মিটাবে এই আশায় সে ভাতের ডেকচি নিয়ে হনহন করে হাঁটতে শুরু করে । সে খুব দ্রুত স্টেশনে উপস্থিত হয় , এবং প্রাণভরে ভাত খেয়ে স্বর্গসুখ অনুভব করে । সব ভাত খেয়ে উচ্ছব ডেকচির কানা মাথা স্পর্শ করে ঘুমিয়ে পড়ে । আর এখানেই উচ্ছবের স্বর্গসুখের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায় । সকাল না হতেই পেতলের ডেকচি চুরি করার অপরাধে লোকজন উচ্ছবকে ধরে ফেলে এবং মারতে মারতে থানায় নিয়ে যায় । উচ্ছব একদিন যে আসল বাদা খোঁজ করার স্বপ্ন দেখেছিল , সেই বাদাটার খোঁজ করা তার আর সম্ভব হলো না ।
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর
ভারতবর্ষ (গল্প) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ | HS Bengali Question and Answer
উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর : ভারতবর্ষ (গল্প) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ HS Bengali Question and Answer : উচ্চমাধ্যমিক বাংলা – ভারতবর্ষ (গল্প) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer নিচে দেওয়া হলো। এই দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর – WBCHSE Class 12 Bengali Question and Answer, Suggestion, Notes – ভারতবর্ষ (গল্প) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ থেকে বহুবিকল্পভিত্তিক, সংক্ষিপ্ত, অতিসংক্ষিপ্ত এবং রোচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তর (MCQ, Very Short, Short, Descriptive Question and Answer) গুলি আগামী West Bengal Class 12th Twelve XII Bengali Examination – পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট।
তোমরা যারা ভারতবর্ষ (গল্প) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ – উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer Question and Answer খুঁজে চলেছ, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্ন ও উত্তর গুলো ভালো করে পড়তে পারো।
ভারতবর্ষ (গল্প) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ MCQ, সংক্ষিপ্ত, অতি সংক্ষিপ্ত এবং রচনাধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর – উচ্চমাধ্যমিক দ্বাদশ শ্রেণীর বাংলা সাজেশন | HS Bengali Suggestion – West Bengal Class 12th Bengali Question and Answer
MCQ প্রশ্নোত্তর সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো | উচ্চমাধ্যমিক বাংলা – ভারতবর্ষ (গল্প) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answe :
- বুড়িকে নদীতে ফেলে দিতে কে বলেছিল ?
(A) চৌকিদার
(B) জগা
(C) ভট্টাচার্য মশাই
(D) মোল্লা
Ans: (A) চৌকিদার
- “চোখের মাথা খেয়েছিস মিনসেরা” – কার উক্তি ?
(A) মোল্লার
(B) ভট্টাচার্য মশাইয়ের
(C) বুড়ির
(D) নাপিতের
Ans: (C) বুড়ির
- “জোর কাটাকাটি চলে” – চায়ের দোকানে এর ফলে কী হয় ?
(A) চা বিক্রি বারে
(B) ঝগড়া হয়
(C) সময় কাটে
(D) বিরক্তি লাগে
Ans: (A) চা বিক্রি বারে
- “হঠাৎ বিকেলে এক অতভূত দৃশ্য দেখা গেলো ।” – দৃশ্যটি হল –
(A) হিন্দুরা বুড়ির মৃত দেহ নিয়ে আসছে
(B) হেঁটে হেঁটে বুড়ি এইদিকে আসছে
(C) বুড়ি মারা গেছে সকলে কাদঁছে
(D) মুসলমান পাড়ার লোকেরা বুড়ির মৃত দেহ নিয়ে আসছে
Ans: (D) মুসলমান পাড়ার লোকেরা বুড়ির মৃত দেহ নিয়ে আসছে
- “যবন নিধনে অবতীর্ণ হও় মা !” একথা বলেছিল –
(A) ভট্টাচার্য মশাই
(B) গাঁয়ের দারোগা
(C) নিবারণ বাগদি
(D) গাঁয়ের পুলিশ
Ans: (A) ভট্টাচর্য্য মশাই
- “বুড়িমা ! তুমি মরনি !” বক্তা হল –
(A) চৌকিদার
(B) গাঁয়ের দারোগা
(C) নিবারণ বাবু
(D) গাঁয়ের পুলিশ
Ans: (A) চৌকিদার
- দাকপুরুসের বচন অনুযায়ী সোমবার পৌষে বাদল কতদিন চলে ?
(A) সাতদিন
(B) পাঁচদিন
(C) তিনদিন
(D) একদিন
Ans: (D) একদিন
- “তোমার কত্তাবাবা টাট্টু” – কাদের উদ্দেশ্যে এই কথা বলেছিল ?
(A) মুসলমানদের
(B) হিন্দুদের
(C) যুবকদের
(D) দেশের
Ans: (C) যুবকদের
- “মাথার ওপর আর কোনো সালা নেই রে – কেউ নেই” – কথাটি বলেছিল –
(A) গ্রামের কোনো যুবক চাষি
(B) গ্রামের মোড়লেরা
(C) গ্রামের এক গণমান্য চাষি
(D) এক ভবঘুরে
Ans: (A) গ্রামের কোনো যুবক চাষি
- “আমি স্বকর্নে শুনেছি, বুড়ি লা ইলাহা বলেছে ।” কথাটি বলেছিল –
(A) করিম ফরাজি
(B) মোল্লা সাহেব
(C) ফজলু শেখ
(D) মৌলবি সাহেব
Ans: (C) ফজলু শেখ
- এ বারের বাদলা কী বারে লেগেছিল ?
(A) সোমবারে
(B) মঙ্গলবারে
(C) বুধবারে
(D) শনিবারে
Ans: (B) মঙ্গলবারে
- “পিচের সড়ক বাক নিয়েছে, যেখানে, সৈখানেই গড়ে উঠেছে” –
(A) একটি মিষ্টির দোকান
(B) একটি ছোট্ট বাজার
(C) একটি শনি মন্দির
(D) একটি চায়ের দোকান
Ans: (B) একটি ছোট্ট বাজার
- “তোর সতগুষ্টি মরুক” – উক্তিটি কার ?
(A) জগাড়
(B) মোল্লার
(C) নরকির
(D) বুড়ির
Ans: (D) বুড়ির
- থূর্তুরে ভিখিরি বুড়ির গায়ে জড়ানো –
(A) তুলোর কম্বল
(B) ছেরা কাপড়
(C) নোংরা চাদর
(D) দামী সাল
Ans: (A) তুলোর কম্বল
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | উচ্চমাধ্যমিক বাংলা – ভারতবর্ষ (গল্প) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer :
- চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দিতে গ্রামবাসীরা কীসের প্রতীক্ষা করছিল ?
Ans: চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দিতে গ্রামবাসীরা রোদ ঝলমল একটা দিনের প্রতীক্ষা করছিল ।
- “ বোঝা গেল , বুড়ির এ অভিজ্ঞতা প্রচুর আছে । ” বুড়ির কী অভিজ্ঞতা ছিল ?
Ans: গাছের মোটা শিকড়ে বসে শিকড়ের পিছনে গাছের খোঁদলে পিঠ ঠেকিয়ে পা ছড়িয়ে বসার অভিজ্ঞতা বুড়ির আছে ।
- “ তর্কাতর্কি , উত্তেজনা হল্লা চলতে থাকল । ” কী বিষয়ে , কাদের মধ্যে তর্কাতর্কি উত্তেজনা ও হল্লা চলছিল ?
Ans: সমাজসচেতন লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ রচিত ‘ ভারতবর্ষী গল্পে একটি চেতনাহীন বৃদ্ধা হিন্দু না মুসলমান এই বিষয়কে কেন্দ্র করে হিন্দু – মুসলমানদের মধ্যে । তর্কাতর্কি , উত্তেজনা , হল্লা চলছিল ।
- “ হঠাৎ বিকেলে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা গেল ” — অদ্ভুত দৃশ্যটি কী ?
Ans: সকালে যে বুড়ির মৃতদেহ গ্রামের যুবকরা নদীর তীরে ফেলে দিয়ে এসেছিল বিকেলে মাঠ পেরিয়ে মুসলমানরা সেই দেহকেই চ্যাংদোলায় বহন করে আনছে ।
- “ নিবারণ বাগদি রাগী লোক ” — নিবারণ বাগদি আগে কী করত ?
Ans: নিবারণ বাগদি একসময় দাগি ডাকাত ছিল , ডাকাতি করত ।
- “ বৃষ্টির সঙ্গে বাতাস জোরালো ” হলে বলা হয় কী ?
Ans: ডিত্তর বৃষ্টির সঙ্গে বাতাস জোরালো হলে তাকে ফাপি বলা হয় ।
- পউষে বাদলা সম্পর্কে গ্রামের ‘ ডাকপুরুষের ‘ পুরনো ‘ বচন’টি কী ?
Ans: পউষে বাদলা সম্পর্কে ‘ ডাকপুরুষ ‘ – এর পুরনো বচন হলো – শনিতে মঙ্গলে পাঁচ , বুধে তিন— বাকি সব দিন এক দিন বৃষ্টি হবে ।
8.“ সেটাই সবাইকে অবাক করেছিল ” —কোন ঘটনা সবাইকে অবাক করেছিল ?
Ans: থুরথুরে কুঁজো ভিখিরি বুড়ি ওই দুর্যোগে কীভাবে বেঁচেবর্তে হেঁটে চায়ের দোকানে আসতে পারে , সেটাই সবাইকে অবাক করেছিল ।
- নাপিত নকড়ি বুড়িকে কী বলতে শুনেছিল ?
Ans: নাপিত নকড়ি বুড়িকে ‘ হরিবোল হরিবোল ‘ বলতে শুনেছিল ।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | উচ্চমাধ্যমিক বাংলা – ভারতবর্ষ (গল্প) সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ প্রশ্ন ও উত্তর | HS Bengali Question and Answer :
- বুড়ির শরীর উজ্জ্বল রোদে তপ্ত বালিতে চিত হয়ে পড়ে রইল ।’- বুড়ির চেহারা ও পোশাকের পরিচয় দাও । তার তপ্ত বালিতে পড়ে থাকার কারণ কী ?
Ans: সৈয়দ মুস্তাফা বিরচিত ‘ ভারতবর্ষ ‘ গল্পে শীতকালে অকাল দুর্যোগকে উপেক্ষ করে এক বুড়ির আগমন ঘটে । সেই বুড়ি প্রসঙ্গে লেখক বলেছেন- “ থুথুরে কুঁজে ভিখিরি বুড়ি । রাক্ষুসী চেহারা । ” তার এক মাথা সাদা চুল এবং ক্ষয়ে যাওয়া খর্ব আকৃতির মুখে সুদীর্ঘ আয়ুর চিহ্ন বিরাজমান । শুধুমাত্র তার দৈহিক বিবরণই নয় , পোশাক পরিচ্ছেদের বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন- “ ছেঁড়া নোংরা একটা কাপড় পরনে , গায়ে জড়ানো তেমনি চিটচিটে তুলোর কম্বল , এক হাতে বেঁটে লাঠি । ”
সবাইকে অবাক করে যেমন বুড়িটি এসেছিল , তেমনি অবাক করে বাজারের রাস্তার বাঁকের পাশে বট গাছ তলায় সে অশ্রয় নেয় । ফাকা বটগাছ তলায় মাটি ভিজে কাদা হয়ে গেছে । আর তাই সেই বুড়িটি— “ . – সেখানে গিয়ে গুঁড়ির কাছে একটা মোটা শেকড়ে বসে পড়ল ” । নিরাশ্রিতা বুড়ির কাছে এই অভিজ্ঞতা খুব চেনা মনে হয় । কিন্তু দুর্যোগ কেটে গিয়ে রোদ ঝলমলে দিন এলেও বুড়ি কেনো সাড়া না পেয়ে চাওয়ালা জগা বলল— “ নির্ঘাত মরে গেছে বুড়িটা । ‘ আর ঠিক এইভাবে তাঁর মৃতদেহকে নিয়ে সকলেই চিন্তায় পড়লেন । কিন্তু সেই চিন্তার নিরসন ঘটালেন বিজ্ঞ চৌকিদার । তিনি বললেন “ – নদীতে ফেলে দিয়ে এসো । ঠিক গতি হয়ে যাবে – যা হবার । ” আর তাই মাঠ পেরিয়ে দু মাইল দূরে নদীর শুকনো চড়ায় কয়েকজন মিলে বাঁশের চ্যাংদোলায় ঝুলিয়ে ফেলে দিয়ে এল । বুড়ির নিস্তেজ শরীর এইভাবে রোদে তপ্ত বালিতে পড়ে রইল ।
- “ হঠাৎ বিকেলে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখা গেল । ” অদ্ভুত দৃশ্যটি কী ? দৃশ্যটিকে অদ্ভুত বলার কারণ কী ছিল ?
Ans: সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ বিরচিত ‘ ভারতবর্ষ ‘ গল্পে হিন্দুদের দ্বারা ফেলে দিয়ে আসা বুড়িকে পুনরায় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা বাজার দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল । আর এই যাওয়ার দৃশ্যকে লেখক ‘ অদ্ভুত দৃশ্য ‘ বলেছেন ।
শীতের অকাল দূর্যোগের দিনে বাজারের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তার বাঁকে এক বট গাছের তলায় এক বুড়ি আশ্রয় নেয় । কয়েকদিন পরে আকাশ পরিস্কার হয়ে গেল । কিন্তু বট তলায় সেই বুড়িটিকে সবাই দেখল নিঃসাড় হয়ে পড়ে আছে । অনেক বেলা গড়িয়ে গেলেও বুড়ি নড়ছে না দেখে সকলে সিদ্ধান্ত নিল যে , বুড়ি মৃত । পাঁচ ক্লোশ দূরে থানা । তাই বিজ্ঞ চৌকিদার পরামর্শ দিল’— নদীতে ফেলে দিয়ে এসো । ঠিক গতি হয়ে যাবে- যা হবার ” । আর এই ভাবেই বুড়ির মৃতদেহকে নদীর শুকনো ডাঙায় ফেলে দেওয়া হলো । আর সবাই দিগন্তে চোখ রাখল । কখন ঝাঁকে ঝাকে শকুন এসে মৃতদেহ খুবলে নেবে । অথচ বিকেলে এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখল । যারা বুড়িকে ফেলে এসেছিল তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের । আর যারা বুড়িকে নদীর চড়া থেকে তুলে এনেছিল । তারা মুসলমান । আর এই ভাবেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ তাকে নিজ ধর্মের মনে করে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে শুরু করে । কোনো পক্ষই কোনো কর্তব্য পালন করেনি বুড়ির প্রতি অথচ ক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করেছে । তাই দৃশ্যটিকে অদ্ভুত বলা হয়েছে ।
- “ দেখতে দেখতে প্রচণ্ড উত্তেজনা ছড়াল চারিদিকে ” – প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এই উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার বিবরণ দাও ।
অথবা , “ নির্ঘাত মরে গেছে বুড়িটা । ” – এই অনুমানকে সত্য ভেবে জনতা কী করেছিল ?
Ans: সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ‘ ভারতবর্ষ ‘ গল্পে এক পরিচয়হীন মলিনবস্ত্র পরিহিত দরিদ্র বৃদ্ধার কথা আছে । সে পৌষের শীতে ঝড়বৃষ্টির মধ্যে ভিজতে ভিজতে পিচের সড়কের বাঁকে ছোটো বাজারের রাস্তায় এসে শেষে এক গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে নিঃসাড় হয়ে যায় । গ্রামের হিন্দুরা বুড়ি মারা গেছে ভেবে চৌকিদারের পরামর্শে নদীর পাড়ে ফেলে দিয়ে আসে । কিন্তু গ্রামের মুসলমানেরা বুড়িকে মুসলমান সাব্যস্ত করে কবর দেবার জন্য তুলে আনে । বুড়ির এই ধর্মপরিচয় নিয়েই গ্রামে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল ।
আরবি মন্ত্র পড়তে পড়তে চ্যাংদোলায় চাপিয়ে বুড়িকে মুসলমানেরা বাজারে পৌছায় । তাদের অনেকেই নাকি বুড়িকে আল্লা বা বিসমিল্লা বলতে শুনেছে । গাঁয়ের মোল্লাসায়েব বা ফজলু শেখ সে ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয় । অন্যদিকে , হিন্দুদের মধ্যে ভচামশাই বা নকড়ি নাপিত সাক্ষ্য দেয় তারা বুড়িকে শ্রীহরি বা হরিবোল বল শুনেছে । হিন্দু সম্প্রদায়ের নিবারণ বাগদি বা মুসলমানদের করিম ফরাজি উগ্র স্বভাবের দু’টি সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচণ্ড উত্তেজনা দাঙ্গার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে । হওয়ায় বুড়ির ধর্ম নির্ধারণের প্রশ্নে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বিবাদের সূচনা হয় । এভাবেই দুটি সম্রদায়ের মধ্যে তীব্র দাঙ্গার সৃষ্টি হয় ।
- ‘ ভারতবর্ষ ’ গল্পটিতে লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের যে বক্তব্য ফুটে উঠেছে তা বিবৃত করো ।
অথবা , “ আনুষ্ঠানিকতাই প্রচলিত ধর্মের সঙ্গে মানবধর্মের সবচেয়ে বড়ো বিভেদ ঘটিয়ে দেয় । ” — ‘ ভারতবর্ষ ’ গল্পটি অনুসরণে বিষয়টি বুঝিয়ে দাও ।
অথবা , ‘ ভারতবর্ষ ‘ গল্পে লেখকের সমাজ সচেতনতার কী পরিচয় পাওয়া যায় , তা আলোচনা করো ।
Ans: সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের ‘ ভারতবর্ষ ‘ গল্পটিতে এদেশের গ্রামের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে । অশিক্ষা ও অজ্ঞানতার ফলে কুসংস্কার এবং সাম্প্রদায়িকতা ভারতবর্ষকে আজও অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রেখেছে । গল্পটিতে এই বক্তব্য তুলে ধরার পাশাপাশি লেখক গল্পের শেষে পাঠক ও জনতাকে নিয়ে যান অসাম্প্রদায়িক এক মানবিক অনুভবে ।
‘ ভারতবর্ষ ’ গল্পে আমরা দেখি , কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষ ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে । মানুষের মঙ্গলের জন্য সমাজে ধর্মের উদ্ভব । কিন্তু সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে বেড়েছে মানুষে মানুষে অবিশ্বাস , ঘৃণা ও হানাহানি । মহামানবরা মানুষের সাথে মানুষের মিলনের কথা , বিশ্বাসের কথা বলেছেন ; শুনিয়েছেন ভালোবাসার বাণী । যুগে যুগে এসবই যে বৃথা প্রয়াস ছিল তা আমরা প্রত্যক্ষ করি ‘ ভারতবর্ষ ‘ গল্পটিতে । গল্পের প্রেক্ষাপট এক ছোট্ট জনপদ , কৃষিনির্ভর মানুষ , চায়ের দোকানে আড্ডা এবং পৌষের বাদলায় এক থুথুরে , জরাজীর্ণ বুড়ির সেখানে হঠাৎ উদয় । এরপর বুড়ির ‘ মৃত্যু ‘ ও তার ধর্ম নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরোধ যা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রূপ নিচ্ছিল ।
ভরা শীতের টানা বৃষ্টিতে বটতলায় আশ্রয় নেওয়া বুড়ি নিঃসাড় , মৃতবৎ পড়েছিল । গ্রামের হিন্দুরা বুড়িকে মৃত মনে করে মাচায় বেঁধে দূরে নদীর ধারে ফেলে আসে । আবার মুসলিমরা তাকে বিকেলে চ্যাংদোলা করে নিয়ে আসে । দু’পক্ষই বুড়িকে তাদের ধর্মের লোক ভাবে । এরপর দু’পক্ষই নিজেদের দাবির সমর্থনে যুক্তি , প্রমাণ ইত্যাদির অবতারণা করে । কিন্তু কোনোভাবেই সমস্যা মিটে না । পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে , দাঙ্গার চেহারা নেয় । আর তখনই হঠাৎ জেগে ওঠে ‘ মৃত ’ বুড়ি । উৎসাহী একজন বুড়িকে জিজ্ঞাসা করে যে সে হিন্দু না মুসলমান । এই প্রশ্নে বুড়ি রেগে গিয়ে দু’পক্ষকেই গালাগালি দিয়ে সেখান থেকে চলে যায় । ধর্ম নিয়ে দু’পক্ষের এই হানাহানি , বিরোধ বুড়ির কাছে হাস্যকর মনে হয় । বুড়ির এই চরিত্রবৈশিষ্ট্য , মনোভাবের মধ্য দিয়ে লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ ভারতবর্ষের প্রকৃত স্বরূপকে তুলে ধরেছেন এই গল্পে । এই গল্পের মূল বক্তব্যই হলো কুসংস্কারাচ্ছন্ন , ধর্মনির্ভর কুৎসিত মানুষগুলির কাছে মানবিক সম্পর্কের চেয়ে ধর্মীয় সংস্কারই প্রধান আর বুড়ির ধর্মপরিচয়ের ঊর্ধ্বে উদার মানসিকতার জোরে সেই বিভেদের প্রাচীর ভেঙে দেওয়ার কাহিনি । ফলে গল্পটিতে শেষপর্যন্ত লেখক আমাদের নিয়ে যান অসাম্প্রদায়িক এক মানবিক অনুভবে ।
- “ বুড়ি , তুমি হিন্দু না মুসলমান ? ” — উক্তিটি কার ? কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি ? উদ্ধৃতাংশটিতে বক্তা এবং উদ্দিষ্ট ব্যক্তির যে মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে , তা নিজের ভাষায় লেখো ।
Ans: সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ বিরচিত ‘ ভারতবর্ষ ‘ গল্পে একটি চেতনাহীন বৃদ্ধাকে মৃতদেহ মনে করে হিন্দু – মুসলমানের মধ্যে উত্তেজনা রহস্যময় হয়ে উঠেছিল । এই দুই সম্প্রদায়ের লোকেরাই আলোচ্য উক্তিটি করেছে ।
আলোচ্য গল্পে এক পরিচয়হীন মলিনবস্ত্র পরিহিত দরিদ্র বৃদ্ধা পৌষের শীতে ঝড়বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে পিচের সড়কের বাঁকে ছোটো বাজারের রাস্তায় এসে শেষে গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে নিঃসাড় হয়ে যায় । গ্রামের হিন্দুরা বুড়ি মারা গেছে ভেবে চৌকিদারের পরামর্শে নদীর পাড়ে ফেলে দিয়ে আসে । আবার গ্রামের মুসলমানরা বুড়িকে মুসলমান সাব্যস্ত করে কবর দেওয়ার জন্য তুলে আনে । বুড়ির এই ধর্মপরিচয় নিয়েই গ্রামে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা প্রসঙ্গে আলোচ্য উক্তিটি করা হয়েছে ।
আলোচ্য উক্তিটিতে লেখকের গভীর মানসিকতা ধরা পড়েছে । লেখক এখানে সাম্প্রদায়িক মনোভাবকে দূর করে মানবিকতাকে বড়ো করে তুলেছেন । লেখকের বক্তব্য মানুষের ধর্মীয় পরিচয় মানুষের একমাত্র পরিচয় হতে পারে না , মানুষের অন্তর্নিহিত মনুষ্যত্ব , বিবেক তার শ্রেষ্ঠ পরিচয় । মানুষের গায়ে হিন্দু – মুসলমান বলে কিছু লেখা থাকে না , তার পরিচয় সে মানুষ । সংজ্ঞাহীন বৃদ্ধাকে মারমুখী জনতা নিজ নিজ ধর্মের মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করতে চাইলে লেখক বৃদ্ধার মুখ দিয়ে মানুষের মানবিক পরিচিতিকেই বড়ো করে তুলেছেন ।
- “ কতক্ষণ সে এই মারমুখী জনতাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারত কে জানে ? ” — ‘ সে ’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে ? জনতা মারমুখী হয়ে উঠেছিল কেন ?
Ans: ‘ সে ’ বলতে এখানে বিপন্ন আইনরক্ষক নীল উর্দিপরা চৌকিদারকে বোঝানো হয়েছে ।
মৃত ভেবে বৃদ্ধার ধর্ম – পরিচয়ের প্রশ্নে হিন্দু ও মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের মানুষ বিবদমান হয়ে উঠেছিল । উভয় ধর্মের বেশ কিছু মানুষ বৃদ্ধার ধর্ম পরিচয়ের প্রমাণ দিতে শুরু করলেন । মোল্লাজি , ফজলু সেখ , করিম ফরাজি প্রমাণ করতে শুরু করল বৃদ্ধা মুসলমান । আবার ভট্চাযমশাই , নিবারণ বাগদি , নকড়ি নাপিত প্রমাণ দিল বৃদ্ধা হিন্দু ধর্মাবলম্বী । ধর্ম পরিচয়ের প্রশ্নে বচসা বাড়তে লাগল , তর্কাতর্কি উত্তেজনা – হল্লা চলতে থাকল । দু’পক্ষের মানুষেরাই মৃতদেহের উপর দাবি জানিয়ে বাঁশের চ্যাংদোলাটা নিয়ে টানাটানি শুরু ক’রে দেয় । প্রচণ্ড উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে , দোকানের ঝাপ বন্ধ হতে থাকে । তারপরেই দেখা যায় গ্রাম থেকে অনেক লোক দৌড়ে আসছে । সবার হাতেই মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র । বৃদ্ধার শবদেহের দু’পাশে স্পষ্ট ‘ দুটো জনতা ‘ – কে দণ্ডায়মান দেখা যায় ।
এই পরিস্থিতিতে অগ্নিতে ঘৃতাহুতির মতো কাজ করে মোল্লাসায়েব এবং ভট্চাযমশাইয়ের ইন্ধন । এরই ফলশ্রুতিতে ধুন্ধুমার গর্জন – প্রতিগর্জন শোনা গেল এবং জনতা মারমুখী হয়ে উঠল । উভয় পক্ষই বৃদ্ধার ধর্মপরিচয়ের প্রশ্নে নিজ নিজ মত প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় রত হলো । সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ প্রস্তুতির পটভূমিকাকেই ‘ মারমুখী জনতা ‘ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে ।
- “ আমি কী তা দেখতে পাচ্ছিস নে ? ” – কোন প্রশ্নের উত্তরে বক্তা একথা বলেছে ? গল্পানুসারে বক্তার স্বরূপ উদ্ঘাটন করো । অথবা , “ দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য । ” – দৃশ্যটি বর্ণনা করো । এই দৃশ্যের মাধ্যমে বুড়ি কী শিক্ষা দিয়ে গেল ? অথবা , ‘ ভারতবর্ষ ’ গল্পে সাম্প্রদায়িক সংঘাতের যে রূপটি ফুটে উঠেছে তার সম্পর্কে লেখো । প্রসঙ্গত গল্পে বুড়ির মৃত্যুর পর পুনরায় বেঁচে ওঠার ঘটনাটি কোন তাৎপর্য বহন করে ?
Ans: মরণঘুম থেকে জেগে ওঠার পর উৎসাহী ও বিস্মিত জনতা বৃদ্ধাকে প্রশ্ন করে সে হিন্দু না মুসলমান । এ প্রশ্ন শুনে বৃদ্ধা প্রশ্নোত্ত উক্তিটি করেছেন ।
বৃদ্ধার এই উক্তিতে স্পষ্ট তিনি ধর্মপরিচয়ের ঊর্ধ্বে উদার মানবিকতাে করতে ব্যস্ত ঠিক তখনই তিনি দৃষ্টিভঙ্গির অভিমুখকে ঘুরিয়ে দিতে চেয়েছেন । উদ্বুদ্ধ হওয়ার কথা বলেছেন । সকলেই যখন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বৃদ্ধাকে মূল্যায়ন মানুষের প্রবণতা এই যে তারা পূর্ব নির্দিষ্ট কিছু প্রথাবন্ধ দৃষ্টিতে মানুষের বিচার ব কিন্তু সেই দৃষ্টিভঙ্গি সভ্যতার পরিপন্থী ও বিদ্বেষমূলক । বৃদ্ধা এ গল্পে সম্প্রীতির বার্তা শুনিয়েছেন । মানুষকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখার বাণী শুনিয়েছেন । ‘ ভারতবর্ষ প্রাচীনকাল থেকেই প্রেম – প্রীতির বার্তা বহন করে চলেছে । বৃদ্ধা তারই ধারক ও বাহক । এ গল্পে তিনি যেন ভারতজননীতে রূপান্তরিত । বিবদমান , বিদ্বেষ পোষণকারী , অসুর মনোভাবের অধিকারী ভারত সন্তানদের তিনি সংশোধন করতে এসেছেন । শান্ত – সৌন গ্রামবাংলার অন্তরে যে বিদ্বেষের বিষবাষ্প প্রচ্ছন্ন থাকে তাকেই তিনি বাইরে বের করে এনে দূর করতে চেয়েছেন । এ গল্পে বৃদ্ধা জাতি – ধর্মের ঊর্ধ্বে মানবিক উদারতার বাঁ প্রচার করেছেন ।
.................................
People also like👇👇👇
HS BIOLOGY SUGGGESTION 2023 || পরীক্ষায় ১০০% কমন আসবেই।। @SB exclusive information
HS english suggestion 2023 with answer || class 12 english || #hs - #class12@Samrat Exclusive
Hs geography suggestion 2023||7marks || 100% common | #hs #geography 2023#Geogrphy #hs
HS Bengali Suggestion 2023 |উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সাজেশন ২০২৩@Samrat Exclusive
BENGALI SUGGESTION 2023 CLASS 10 || E to B @SB exclusive information #madhyamik #bengali
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন