WB Madhyamik Geography Suggestion 2023( ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ ) | মাধ্যমিক ২০২৩ ভূগোল সাজেশন
WB Madhyamik Geography Suggestion 2023
( ভারতের প্রাকৃতিক পরিবেশ ) | মাধ্যমিক ২০২৩ ভূগোল সাজেশন
বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের প্রাকৃতিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik Geography Question and Answer :
কারাকোরামের উত্তরে ভারত ও চিন সীমান্তে কোন পর্বত রয়েছে ?
(A) আগিল পর্বত
(B) আরাবল্লি পর্বত
(C) বিন্ধ্য পর্বত
(D) নাঙ্গা পর্বত
Ans: (A) আগিল পর্বত
সিন্ধুনদ ও শিয়ক নদীর মাঝে কোন পর্বতশ্রেণি অবস্থিত ?
(A) নাঙ্গা পর্বত
(B) বিন্ধ্য পর্বত
(C) লাডাক পর্বতশ্রেণি
(D) আরাবল্লি পর্বতশ্রেণি
Ans: (C) লাডাক পর্বতশ্রেণি
ভারতের উচ্চতম মালভূমির নাম কী ?
(A) সিয়াচেন
(B) জম্মু
(C) লাডাক
(D) আকসাই
Ans: (C) লাডাক
লাডাক পর্বতশ্রেণির প্রধান গিরিপথ হলো—
(A) ডাফলা
(B) মিশমি
(C) শিবালিক
(D) খারদুংলা
Ans: (D) খারদুংলা
হিমালয় শব্দের অর্থ হলো—
(A) বরফের বাসস্থান
(B) সর্বোচ্চ শৃঙ্গ
(C) পর্বত
(D) উচ্চভূমি
Ans: (A) বরফের বাসস্থান
পূর্ব – পশ্চিমে হিমালয় পর্বত কত কিমি দীর্ঘ ?
(A) 2000 কিমি ।
(B) 2500 কিমি ।
(C) 3000 কিমি
(D) 4000 কিমি
Ans: (B) 2500 কিমি ।
হিমালয় পর্বতমালার মোট ক্ষেত্রফল হলো—
(A) 4 লক্ষ বর্গ কিমি
(B) 6 লক্ষ বর্গ কিমি
(C) 5 লক্ষ বর্গ কিমি
(D) 7 লক্ষ বর্গ কিমি ।
Ans: (D) 7 লক্ষ বর্গ কিমি ।
হিমালয়ের সর্বদক্ষিণে পশ্চিম থেকে পূর্বে সারি বেঁধে যে পর্বতগুলোর সৃষ্টি হয়েছে , তাদের কী বলে ?
(A) শিবালিক পর্বত
(B) নাঙ্গা পর্বত
(C) হিমাদ্রি হিমালয়
(D) টেথিস হিমালয়
Ans: (A) শিবালিক পর্বত
ভারতের দক্ষিণতম পর্বতটি হলো—
(A) ধবলগিরি পর্বত
(B) নাঙ্গা পর্বত
(C) পালনি পর্বত
(D) আনাইমুদি
Ans: (C) পালনি পর্বত
ভারতের বৃহত্তম মালভূমিটি হলো—
(A) লাডাক মালভূমি
(B) সিয়াচেন মালভূমি
(C) তিব্বত মালভূমি
(D) দাক্ষিণাত্য মালভূমি
Ans: (D) দাক্ষিণাত্য মালভূমি
শিবালিক ও হিমাচলের মধ্যে কী অবস্থিত ?
(A) তাল
(B) দুন উপত্যকা
(C) গুহা
(D) গিরিপথ
Ans: (B) দুন উপত্যকা
ভারতের তথা এশিয়ার দীর্ঘতম সুড়ঙ্গের নাম কী ?
(A) জওহর টানেল
(B) ইন্দিরা টানেল
(C) জওহর টানেল
(D) রাজীব টানেল
Ans: (A) জওহর টানেল
গাঙ্গেয় সমভূমি কয়টি অঞ্চলে বিভক্ত ?
(A) 3 টি ভাগে
(B) 5 টি ভাগে
(C) 7 টি ভাগে
(D) 9 টি ভাগে
Ans: (A) 3 টি ভাগে
সরস্বতী নদীর শুষ্ক খাতকে কী বলে ?
(A) খান্দ
(B) খগগর
(C) বলসন
(D) রোহি
Ans: (B) খগগর
পৃথিবীর মোট জলরাশির কত শতাংশ সমুদ্রে রয়েছে ?
(A) 90 %
(B) 92 %
(C) 97.5 %
(D) 99.5 %
Ans: (C) 97.5 %
ভারতের দীর্ঘতম ও জাতীয় নদীর নাম কী ?
(A) গোদাবরী
(B) যমুনা
(C) ব্ৰহ্মপুত্ৰ
দুন উপত্যকায় হিমবাহ দ্বারা সৃষ্ট হ্রদগুলিকে কী বলে ?
(A) তাল
(B) দুন
(C) প্লায়া
(D) ধান্দ
Ans: (A) তাল
সত্য মিথ্যা নির্বাচন করো | মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের প্রাকৃতিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর |
ভারত উত্তর – দক্ষিণে 3214 কিমি এবং পূর্ব – পশ্চিমে 2933 কিমি বিস্তৃত ।
Ans: সত্য
ভারত পৃথিবীর সপ্তম ও এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ ।
Ans: সত্য
ভারত – চিনের সীমারেখা ম্যাকমোহন রেখা দ্বারা পৃথক হয়েছে ।
Ans: সত্য
মান্নার উপসাগর ও পক প্রণালী দ্বারা ভারত শ্রীলঙ্কা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে ।
Ans: সত্য
উত্তর – পশ্চিম সীমান্তে আফগানিস্তান 40 কিমি ডুরান্ড লাইন এবং 3310 কিমি রেডক্লিফ লাইন দ্বারা পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে ।
Ans: সত্য
1956 সালের 1 নভেম্বর ভারত সরকার ভাষার ভিত্তিতে 14 টি অঙ্গরাজ্য ও 6 টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করে ।
Ans: সত্য
কাঞ্চনজঙ্ঘা ( 8598 মি . ) ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ।
Ans: সত্য
আরাবল্লি ভারতের প্রাচীনতম ভঙ্গিল পর্বত , এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো গুরুশিখর ( 1722 মি . ) ।
Ans: সত্য
ধুঁয়াধর জলপ্রপাত মার্বেল পাথর সমৃদ্ধ ।
Ans: সত্য
পশ্চিম সাতপুরা অংশের স্থানীয় নাম রাজপিপলা পাহাড় ।
Ans: সত্য
মধ্য সাতপুরা অংশটি মহাদেব ও গাউইলগড় পাহাড় নামে পরিচিত ।
Ans: সত্য
পূর্ব সাতপুরা অংশটি মহাকাল উচ্চভূমি নামে পরিচিত নয় ।
Ans: মিথ্যা
নীলগিরির দক্ষিণ – পশ্চিমাংশকে কুণ্ডা বলে ।
Ans: সত্য
পৃথিবীর 34 টি জীববৈচিত্র্য তপ্তভূমির ( Hotspot ) অন্যতম পশ্চিমঘাট ।
Ans: সত্য
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ প্রায় 120 কিমি প্রশস্ত 10 % চ্যানেল দ্বারা বিচ্ছিন্ন ।
Ans: সত্য
লাক্ষাদ্বীপে প্রায় 36 টি দ্বীপ রয়েছে ।
Ans: সত্য
হিমালয় থকে উৎপন্ন নদীগুলি বরফগলা জলে পুষ্ট বলে সারাবছর জল থাকে ।
Ans: সত্য
পাঞ্জাব গম বলয় ও পশ্চিমবঙ্গ ধান বলয় ভারতের শ্রেষ্ঠ কৃষিবলয় ।
Ans: সত্য।
এককথায় উত্তর দাও | মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের প্রাকৃতিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর |
পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের নাম কী ?
Ans: ভারত ।
অবস্থান অনুসারে ভারত কোথায় অবস্থিত ?
Ans: উত্তর গোলার্ধে এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে অবস্থিত ।
ভারতের মোট ক্ষেত্রফল কত ?
Ans: 32 লক্ষ 87 হাজার 263 বর্গ কিমি ।
ভারতের পশ্চিমতম স্থান কোনটি ?
Ans: গুজরাটের গুহার মেটার ।
ভারতের পূর্বতম স্থান কোনটি ?
Ans: অরুণাচল প্রদেশের কিবিথু ।
ভারতের পূর্ব সীমা থেকে পশ্চিম সীমা পর্যন্ত সময়ের পার্থক্য কত ?
Ans: 1 ঘণ্টা 56 মিনিট ।
ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম স্থান কোনটি ?
Ans: তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী ।
ভারতের কোন রাজ্য সর্বাধিক রাজ্যকে স্পর্শ করে রয়েছে ?
Ans: উত্তরপ্রদেশ ( আটটি রাজ্যকে স্পর্শ করেছে ) ।
বর্তমানে ভারতে রাজ্যের সংখ্যা কত ?
Ans: 29 টি অঙ্গরাজ্য এবং 7 টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ।
সর্বাধিক আন্তর্জাতিক সীমা স্পর্শ করেছে কোন কোন রাজ্য ?
Ans: তিনটি রাজ্য ( পশ্চিমবঙ্গ , অরুণাচল প্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীর ) ।
জাতীয় রাজধানী অঞ্চল ‘ হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে কোন অঞ্চলকে ?
Ans: নতুন দিল্লিকে ।
Seven Sisters of India কাকে বলা হয় ?
Ans: অসম , অরুণাচল প্রদেশ , নাগাল্যান্ড , মণিপুর , ত্রিপুরা , মেঘালয় ও মিজোরাম এই 7 টি রাজ্যকে বলা হয় Seven Sisters of India .
দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তরে হিমালয় পর্যন্ত প্রসারিত একমাত্র রাজ্যের নাম কী ?
Ans: পশ্চিমবঙ্গ ।
আয়তনে ভারতের বৃহত্তম রাজ্যের নাম কী ?
Ans: রাজস্থান ।
কর্কটক্রান্তিরেখা কোন কোন রাজ্যের ওপর দিয়ে বিস্তৃত ?
Ans: গুজরাট , রাজস্থান , মধ্যপ্রদেশ , ছত্তিশগড় , ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্য ।
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া কোন কোন রাজ্য বাংলাদেশ সীমান্তকে স্পর্শ করেছে ?
Ans: অসম , মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্য ।
নেপাল ও ভুটানকে ভারতের কোন কোন রাজ্য স্পর্শ করেছে ?
Ans: উত্তরাখণ্ড , উত্তরপ্রদেশ , বিহার , সিকিম , পশ্চিমবঙ্গ , অসম , অরুণাচল প্রদেশ প্রভৃতি রাজ্য ৷
1953 খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে কার ওপর ভিত্তি করে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশন গঠিত হয় ?
Ans: ভাষার ভিত্তিতে ।
2000 সালে ভারতে কয়টি রাজ্য গঠিত হয় ?
Ans: তিনটি । 1 নভেম্বর — মধ্যপ্রদেশ ভেঙে ছত্তিশগড় , 7 নভেম্বর — উত্তরপ্রদেশ ভেঙে উত্তরাখণ্ড , 15 নভেম্বর বিহার ভেঙে ঝাড়খণ্ড রাজ্য গঠিত হয় ।
2 জনু 2014 কোন রাজ্য ভেঙে ভারতের নবীনতম রাজ্য গঠিত হয় ?
Ans: অন্ধ্রপ্রদেশ ভেঙে তেলেঙ্গানা রাজ্য । ( রাজধানী – হায়দরাবাদ )
আয়তনে ভারতের ক্ষুদ্রতম রাজ্য কোনটি ?
Ans: গোয়া ।
আয়তনে ভারতের বৃহত্তম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কোনটি ?
Ans: আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ।
আয়তনে ভারতের ক্ষুদ্রতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল কোনটি ?
Ans: লক্ষাদীপ ।
হিমালয় পর্বতমালা কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত ?
Ans: পশ্চিমে জম্মু – কাশ্মীরের নাঙ্গা পর্বত থেকে পূর্বে অরুণাচল প্রদেশের নামচাবারওয়া ( 7756 কিমি ) পর্যন্ত বিস্তৃত ।
শিবালিক পর্বত জম্মুতে ‘ জম্মু পাহাড় ‘ , অরুণাচল প্রদেশে ‘ ডাফলা ’ , মিরি আবর , মিশমি , কিন্তু উত্তরাখণ্ডে কী নামে পরিচিত ?
Ans: ধ্যাং পর্বতশ্রেণি ।
ভারতের স্থলভাগের সর্বনিম্ন স্থানের নাম কী ?
Ans: কেরালার কুট্টানাড়ু ।
পামির মালভূমি ও সিন্ধুনদের মধ্যবর্তী অংশে কোন পর্বতশ্রেণি অবস্থিত ?
Ans: কারাকোরাম পর্বতশ্রেণি ।
হিমাচল হিমালয়ের উত্তর – পশ্চিম থেকে পূর্বে যে পর্বতশ্রেণিটি বিস্তৃত রয়েছে , তাকে কী বলে ?
Ans: হিমাদ্রি হিমালয় ।
কাশ্মীরে 100-200 মিটার উচ্চ হ্রদের চারপাশে যে ধাপযুক্ত উর্বর পলিস্তরের সৃষ্টি হয়েছে তাকে স্থানীয় ভাষায় কী বলে ?
Ans: ক্যারেওয়া ।
শিবালিকের উত্তরে প্রায় 2000-5000 মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট পশ্চিম থেকে পূর্বে যে পর্বতশ্রেণিটি রয়েছে তাকে কী বলে ?
Ans: হিমাচল ।
ভারতের উত্তরতম ও দক্ষিণতম বিন্দুর নাম কী ?
Ans: জম্মু ও কাশ্মীরের ইন্দিরা কল ( উত্তরতম ) এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ইন্দিরা পয়েন্ট ( দক্ষিণতম ) বিন্দু ।
ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্য অনুসারে ভারতকে প্রধানত কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ?
Ans: পাঁচটি ভাগে ( উত্তরের পার্বত্য অঞ্চল , উত্তরের সমভূমি অঞ্চল , উপদ্বীপীয় : মি অঞ্চল , উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল ও দ্বীপপুঞ্জ ) ।
মাউন্ট এভারেস্টকে নেপালি ও তিব্বতীয় ভাষায় কী বলা হয় ?
Ans: সাগরমাথা ( নেপালিরা ) ও চোমোলুংমা ( তিব্বতীয়রা ) ।
ভূপ্রাকৃতিক তারতম্য অনুসারে মরু সমভূমিকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ?
Ans: পাঁচ ভাগে ( বাগর , রোহি , ক্ষুদ্র মরু , হামাদা , মরুস্থলী )
ভারতের থর মরুভূমিতে চলমান বালিয়াড়িকে কী বলা হয় ?
Ans: থ্রিয়ান ( অর্থ চলমান ) ।
উত্তরের বৃহৎ সমভূমি অঞ্চলের দক্ষিণে অবস্থিত মালভূমি অঞ্চলকে কী বলা হয় ?
Ans: দাক্ষিণাত্যের মালভূমি ।
চম্বল অঞ্চলের এবড়োখেবড়ো ভূমি কী নামে পরিচিত ?
Ans: বিহড় নামে পরিচিত ।
বানাবুদান পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী ?
Ans: মুলানগিরি ( 1923 মিটার ) ।
পশ্চিমঘাটের দক্ষিণতম শৃঙ্গের নাম কী ?
Ans: আগস্ত্যকুটম ( 2044 মিটার ) ।
কৃষ্ণা নদীর মোহনা থেকে কন্যাকুমারিকা অন্তরীপ পর্যন্ত বিস্তৃত দক্ষিণাংশের উপকূলকে কী বলে ?
Ans: করমণ্ডল উপকূল ।
তামিলনাড়ু উপকূলের বালিয়াড়িকে স্থানীয় ভাষায় কী বলে ?
Ans: থেড়িস ।
ভারতের বৃহত্তম উপকূলের নাম কী ?
Ans: গুজরাট উপকূল ।
কচ্ছরণ শব্দের অর্থ কী ?
Ans: ‘ কচ্ছ ‘ শব্দের অর্থ জলময় দেশ এবং ‘ রণ ‘ শব্দের অর্থ কর্দমাক্ত ও লবণাক্ত নিম্নভূমি ।
গির ও গিরনার পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী ?
Ans: গোরক্ষনাথ ( 1197 মিটার ) ।
ভারতের বৃহত্তম কয়ালের নাম কী ?
Ans: ভেম্বানাদ কয়াল ।
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দু’টি আগ্নেয়গিরির নাম করো ।
Ans: ব্যারন ( সুপ্ত ) ও নরকোণ্ডম ( মৃত ) ।
আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কী ?
Ans: স্যাডল পিক ( 738 মিটার ) ।
কৃয়া নদীর উৎপত্তি কোথা থেকে হয়েছে ?
Ans: পশ্চিমঘাট পর্বতের মহাবালেশ্বর শৃঙ্গ থেকে ।
কৃক্মা নদীর মোট দৈর্ঘ্য কত ?
Ans: 1400 কিমি ।
ভারতের কত শতাংশ জমিতে খালের মাধ্যমে জলসেচ করা হয় ?
Ans: প্রায় 26 শতাংশ ।
কূপ ও নলকূপের মাধ্যমে কত শতাংশ জমিতে জলসেচ করা হয়ে থাকে ?
Ans: প্রায় 53 শতাংশ ।
জলাশয় সেচের মাধ্যমে ভারতের মোট কত শতাংশ জমিতে জলসেচ হয় ?
Ans: 2 প্রায় 9 শতাংশ ।
ওড়িশার মহানদীর ওপর কোন পরিকল্পনা অবস্থিত ?
Ans: হিরাকুঁদ পরিকল্পনা ( ভারতের দীর্ঘতম বাঁধ ) ।
পাঞ্জাব , রাজস্থান , হরিয়ানার যৌথ উদ্যোগে কোন পরিকল্পনা গড়ে উঠেছে ?
Ans: ভাকরা – নাঙ্গাল পরিকল্পনা ( ভারতের বৃহত্তম বহুমুখী পরিকল্পনা ) ।
উত্তরপ্রদেশের শোন নদীর উপর কোন পরিকল্পনা গড়ে উঠেছে ?
Ans: রিহান্দ পরিকল্পনা ।
অন্ধ্রপ্রদেশের কৃষ্ণা নদীর উপর কোন পরিকল্পনা গড়ে উঠেছে ?
Ans: নাগার্জুন সাগর পরিকল্পনা ।
ভারত তথা পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিবহুল স্থানের নাম কী ?
Ans: মেঘালয়ের মৌসিনরাম ( বার্ষিক বৃষ্টির পরিমাণ 1350 সেমি ) ।
গ্রীষ্মকালে পাঞ্জাব , হরিয়ানাতে যে ধূলিঝড় প্রবাহিত হয় তাকে কী বলে ?
Ans: আঁধি ।
কর্ণাটকে আম্রবৃষ্টিতে কফি চাষের সুবিধা হয় বলে একে কী বলে ?
Ans: Cherry blossom .
ভারতের শীতলতম স্থানের নাম কী ?
Ans: লাডাখের দ্রাস ( -40 ° c ) ।
ভারতের আবহাওয়া অফিসের সদর দপ্তর কোথায় ?
Ans: নয়াদিল্লি ( মৌসম ভবন ) ।
ক্যাকটাস উদ্ভিদ কাকে বলে ?
Ans: মরু অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অভাবজনিত কারণে উদ্ভিদের পাতা কাঁটায় রূপান্তরিত হয় বলে এই উদ্ভিদকে ক্যাকটাস উদ্ভিদ বলে ।
শোলা ( Shola ) কী ?
Ans: কেরল , তামিলনাড়ু , কর্ণাটক রাজ্যে উপক্রান্তীয় চিরহরিৎ পার্বত্য অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে একে দক্ষিণ ভারতের শোলা ( Shola ) বলে ।
চিপকো আন্দোলন ( 1973 ) -এর নেতৃত্ব কে দেন ?
Ans: সুন্দরলাল বহুগুণা ও চণ্ডীপ্রসাদ ভাট ।
নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দেন ?
Ans: মেধা পাটকর , বাবা আমতে ও অরুন্ধতী রায় ।
অ্যাপিকো আন্দোলন ( 1983 ) কোন রাজ্যে সংঘটিত হয় ?
Ans: কর্ণাটকে ( সিরসি অঞ্চলে ) ।
উচ্চতা অনুসারে হিমালয় পর্বতকে উত্তর থেকে দক্ষিণে কয়টি ভাগে ভাগ করা হয় ?
Ans: চারটি ভাগে ( শিবালিক , হিমাচল , হিমাদ্রি ও টেথিস )
পিরপাঞ্জাল , ধাউলাধর , নাগচিব্বা ও মুসোরি পর্বতশ্রেণি কোথায় অবস্থিত ?
Ans: শিবালিক ও হিমাদ্রি হিমালয়ের মাঝে ।
দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয় পর্বতমালাকে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ?
Ans: তিনটি ভাগে ( পশ্চিম , মধ্য ও পূর্ব হিমালয় ) ।
67.!কাশ্মীর উপত্যকা , কুলু ও কাংড়া উপত্যকা কোথায় অবস্থিত ?
Ans: পিরাপাপ্তাল ও জাস্কাল পর্বতের মাঝে ।
পশ্চিমে শতদ্রু নদী ও পূর্বে কালীগণ্ডকী নদীর মাঝে কোন হিমালয় অবস্থিত ?
Ans: উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন হিমালয় ।
লুনি নদীর উত্তরাংশে বালুময় ক্ষুদ্র মরু অংশকে কী বলে ?
Ans: থালি ।
দক্ষিণ ভারতের শস্যভাণ্ডার কাকে বলা হয় ?
Ans: কাবেরী নদীর ব – দ্বীপকে ।
শিবালিক পর্বতমালা থেকে আগত ছোটো ছোটো নদী দ্বারা যে ক্ষয়প্রাপ্ত ভূমিভাগ সৃষ্টি হয় তাকে স্থানীয় ভাষায় কী বলে ?
Ans: চোস ।
শিবালিকের পাদদেশে নদীবাহিত নুড়ি , কাকর , বালি , পলি দ্বারা গঠিত অংশকে কী বলা হয় ?
Ans: ভাবর ।
মালাবার উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চলের হ্রদগুলিকে কী বলা হয় ?
Ans: কয়াল ।
ভারতের তথা এশিয়ার বৃহত্তম উপহ্রদের বা লেগুনের নাম কী ?
Ans: ওড়িশার চিল্কা উপহ্রদ
ভারতের বৃহত্তম কয়ালের নাম কী ?
Ans: ভেম্বানাদ ।
ভারতের বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ মৎস্য আহরণ ক্ষেত্রের নাম কী ?
Ans: ওড়িশার চিল্কা উপহ্রদ ।
কৃপ ও নলকূপের মাধ্যমে সেচকাজ সবচেয়ে বেশি হয় কোন রাজ্যে ?
Ans: উত্তরপ্রদেশে ।
পশ্চিমবঙ্গের দুঃখ বলা হয় কাকে ?
Ans: দামোদর নদকে
কোন ঋতুকে দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনকাল বলা হয় ?
Ans: বর্ষা ঋতুকে ।
পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলের নাম কী ?
Ans: মেঘালয়ের মৌসিনরাম ।
কোন ঋতুকে মৌসুমি বায়ুর প্রত্যাবর্তনকাল বলা হয় ?
Ans: শরৎ ঋতুকে ।
মরু অঞ্চলে কী ধরনের মৃত্তিকা লক্ষ করা যায় ?
Ans: সিরোজেম জাতীয় মরু মৃত্তিকা ।
পার্বত্য অঞ্চলে কী ধরনের মৃত্তিকা লক্ষ করা যায় ?
Ans: হিউমাসযুক্ত পড়সল মৃত্তিকা ।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের প্রাকৃতিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর |
দুন বলতে কী বোঝো ?
Ans: ‘ দুন ‘ কথার অর্থ হলো ‘ পার্বত্য অঞ্চলের উপত্যকা ’ । সংকীর্ণ পর্বতের মাঝে অবস্থিত নিম্নস্যানকে বলা হয় দুন । যেমন – দেরাদুন ।
খাদার ও ভাঙ্গর কী ?
Ans: নবীন পলিগঠিত নিম্নভূমিকে বলা হয় খাদার । এইপ্রকার মৃত্তিকা খুবই উর্বর । উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাবে এইপ্রকার মৃত্তিকা দেখা যায় । প্রাচীন পলিমৃত্তিকা দিয়ে গঠিত উচ্চভূমিকে বলা হয় ভাঙ্গর । এই মৃত্তিকা কৃষিকার্যের জন্য ততটা সহায়ক নয় ।
বাগর ও রোহি অঞ্চল কাকে বলে ?
Ans: রাজস্থানের মরু অঞ্চলের পূর্বদিকে আরাবল্লি পর্বতের পাদদেশে অল্প বালুকাময় স্যানকে বাগর বলে । বাগর অঞ্চলের পশ্চিমে আরাবল্লি পর্বত থেকে উদ্ভূত ছোটো ছোটো নদীর দ্বারা সঞ্চয়ের ফলে সৃষ্ট প্লাবনভূমিকে বলা হয় রোহি ।
তরাই ও ডুয়ার্স কাকে বলে ?
Ans: পশ্চিমবঙ্গের হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলের স্যাতস্যাতে ও অরণ্যময় সমভূমিকে তরাই বলে । তিস্তা নদীর পূর্বতীর থেকে শুরু করে তরাইয়ের অবশিষ্ট অংশকে বলা হয় ডুয়ার্স ।
ডেকান ট্রাপ কাকে বলে ?
Ans: ডেকান শব্দের অর্থ দাক্ষিণাত্য এবং ট্রাপ শব্দের অর্থ সিঁড়ি । ভূঅভ্যন্তরের উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের উপরে ধীরে ধীরে সঞ্চিত হয়ে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ধাপে ধাপে সিঁড়ির মতো নেমে গেছে । একে ডেকান ট্রাপ বলে ।
মালনাদ ও ময়দান কাকে বলে ?
Ans: ‘ মালনাদ ’ শব্দের অর্থ হলো উঁচু – নীচু ভূমি । অর্থাৎ কর্নাটক মালভূমির পশ্চিমাংশে যে উঁচু – নীচু ঢেউ খেলানো ভূমিভাগ রয়েছে , তাকে বলা হয় মালনাদ ।
‘ ময়দান ’ শব্দের অর্থ হলো অনুচ্চ ভূমিভাগ । অর্থাৎ কর্নাটক মালভূমির পূর্বে মৃদু ঢেউ খেলানো সমপ্ৰায়ভূমিকে বলা হয় ময়দান ৷
কয়াল কী ?
Ans: ভূআলোড়নের প্রভাবে কেরলের মালাবার উপকূলে ভূউত্থান ও নিমজ্জনের ফলে অসংখ্য জলাভূমি বা উপহ্রদের সৃষ্টি হয়েছে , এগুলিকে কেরলের স্থানীয় ভাষায় বলা হয় কয়াল । যেমন — ভেম্বানাদ ( বৃহত্তম ) , অষ্টমুদি ইত্যাদি ।
বরেন্দ্রভূমি কাকে বলে ?
Ans: তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের গঙ্গা নদীর বাম তীরের সমভূমিকে বলা হয় বরেন্দ্র ভূমি । অনেকের মতে , সমুদ্র থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো অগভীর হ্রদে হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চল থেকে বয়ে আনা পলি সঞ্চয়ের ফলে এই অঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে ।
বহুমুখী নদী পরিকল্পনা কাকে বলে ?
Ans: যে পরিকল্পনার সাহায্যে নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে নদীর জলকে সমাজকল্যাণের বিভিন্ন উদ্দেশ্যে যথা – বন্যা নিয়ন্ত্রণ , জলসেচ , জলবিদ্যুৎ উৎপাদন , মৎস্য চাষ , পানীয় জলের জোগান প্রভৃতির উন্নয়নে ব্যবহার করা হয় , তাকে বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলে ।
ভারতকে মৌসুমি বায়ুর দেশ বলা হয় কেন ?
Ans: ভারত ক্রান্তীয় – উপক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্গত এক সুবিশাল বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ । সামগ্রিকভাবে ভারতবর্ষের জলবায়ু মৌসুমি বায়ু দ্বারা প্রভাবিত । যথা — উত্তর – পূর্ব ও দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দ্বারা ভারতের জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে । তাই ভারতকে মৌসুমি বায়ুর দেশ বলা হয় ।
ভারতের কোন কোন অঞ্চলে বছরে দু’বার বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে ?
Ans: ভারতের দক্ষিণ – পূর্বে অবস্থিত করমণ্ডল উপকূলে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এবং শীতকালে উত্তর – পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে ।
পশ্চিমি ঝঞ্ঝা কাকে বলে ?
Ans: শীতকালে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পশ্চিম দিক থেকে কাশ্মীর , পাঞ্জাব , হিমাচল প্রদেশ , উত্তরাখণ্ড এবং উত্তরপ্রদেশে প্রবেশ করে বেশ কয়েকদিন প্রচুর ঝড়ঝঞ্ঝা ও তুষারপাত ঘটায় , একেই পশ্চিমি ঝঞ্ঝা বলে ।
কচ্ছের রণ অঞ্চল কাকে বলে ?
Ans: ‘ রণ ‘ শব্দের অর্থ জলময় দেশ । গুজরাটের কচ্ছ উপদ্বীপের উত্তর ও পূর্বের অগভীর লবণাক্ত জলাভূমিকে বলা হয় কচ্ছের রণ । কচ্ছের রণের উত্তর অংশকে বলার বৃহ রণ এবং দক্ষিণ অংশকে বলা হয় ক্ষুদ্র রণ ।
মরুস্থলী কাকে বলে ?
Ans: ‘ মরুস্থলী ‘ শব্দের অর্থ মৃতের দেশ । ভারতের আরাবল্লি পর্বতের পশ্চিম দিকে অবস্থিত রাজস্থানের থর মরুভূমি অঞ্চলে প্রায় সমতল বালুকাময় অঞ্চলকে মরুস্থলী বা মৃতের দেশ বলা হয় ।
মৌসুমি বিস্ফোরণ কাকে বলে ?
Ans: উত্তর – পশ্চিম ভারতে মে – জুন মাসে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আরব সাগর থেকে বয়ে আনে । এই জলীয় বাষ্পের ফলে ঘন মেঘ , বজ্র – ঝড় মুষলধারে হঠাৎ প্রচণ্ড আকারে বৃষ্টিপাত ঘটায় , একে মৌসুমি বিস্ফোরণ বলে ।
আশ্বিনের ঝড় কাকে বলে ?
Ans: অক্টোবর – নভেম্বর মাসে মকরক্রান্তীয় অঞ্চলে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় । ফলে প্রত্যাবর্তনকারী মৌসুমি বায়ু ও দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সংঘর্ষে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয় । আশ্বিন মাসে এই ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয় বলে একে আশ্বিনের ঝড় বলে ।
অন্তর্বাহিনী নদী কাকে বলে ?
Ans: যখন কোনো নদী দেশের অভ্যন্তরের কোনো পাহাড় , পর্বত বা কোনো উচ্চভূমি থেকে উৎপত্তি লাভ করে সেই দেশের কোনো হ্রদ বা জলাশয়ে এসে মিলিত হয় , তখন তাকে অন্তর্বাহিনী নদী বলে । যেমন — লুনি , রূপনগর নদী ।
সামাজিক বনসৃজন কাকে বলে ?
Ans: গ্রামীণ জনসাধারণের আর্থ – সামাজিক অবস্থার উন্নতির উদ্দেশ্যে পরিবেশের সুস্থতা , জীবজগতের ভারসাম্য রক্ষা , সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে রাস্তার দু’ধারে , নদীর তীরবর্তী এলাকায় , রেললাইনের ফাঁকা জমিতে , পতিত জমিতে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগকে বলা হয় সামাজিক বনসৃজন ।
কৃষি বনসৃজন কাকে বলে ?
Ans: কৃষক তার নিজের জমিতে ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি কাঠ , ফলমূল , জৈব সার , ওষুধ প্রভৃতি পাওয়ার জন্য কৃষিজমির চারিদিকে অব্যবহৃত বা পতিত জমিতে গাছ লাগিয়ে যে বনভূমি গড়ে তোলে তাকে , কৃষি বনসৃজন বলে ।
বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বলতে কী বোঝো ?
Ans: বাড়ির ছাদে পড়া বৃষ্টির জলকে জলাধারে সঞ্চিত করে , পুকুর ও নালা খুঁড়ে বৃষ্টির জল ধরে রেখে , খোলা জায়গায় গর্ত করে বৃষ্টির জল ধরে রেখে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করাকে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ বলে ।
আঁধি কাকে বলে ?
Ans: এপ্রিল – মে মাসে গ্রীষ্মকালে রাজস্থানের থর মরুভূমি অঞ্চলে বিকালের দিকে যে প্রবল ধূলিঝড়ের সৃষ্টি হয় তাকে স্থানীয় ভাষায় আঁধি বলে ।
আম্রবৃষ্টি কাকে বলে ?
Ans: গ্রীষ্মকালে স্থানীয় নিম্নচাপের প্রভাবে তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশে বিকালের দিকে যে ঝড় বৃষ্টি হয় তাকে আম্রবৃষ্টি বলে ।
মৌসুমি বৃষ্টিচ্ছেদ কাকে বলে ?
Ans: জুলাই – আগস্ট মাসে বর্ষাকালে মৌসুমি বৃষ্টি একটানা না হয়ে ধাপে ধাপে হয়ে থাকে । মাঝখানে বেশ কিছুদিন বৃষ্টির বিরতি লক্ষ করা যায় , তাকে মৌসুমি বৃষ্টিচ্ছেদ বলে ।
নালি ও প্রণালী ক্ষয় কী ?
Ans: বৃষ্টির জলের দ্বারা মৃত্তিকার উপরিস্তরে ক্ষয়ের ফলে সরু লম্বা নালার সৃষ্টি হলে , নালি ক্ষয় বলে । এই নালি ক্ষয়গুলি পরস্পর যুক্ত হলে তাকে প্রণালী ক্ষয় বলে ।
মৃত্তিকা সংরক্ষণ কাকে বলে ?
Ans: মৃত্তিকার ক্ষয়রোধ করে ভূমির উর্বরাশক্তি পুনরায় ফিরিয়ে আনতে , জমির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয় , তাকে মৃত্তিকা সংরক্ষণ বলে ।
ঝুমচাষ কাকে বলে ?
Ans: ভারতের উত্তর – পূর্বাঞ্চলের অধিবাসীরা পর্বতের ঢালে বনজঙ্গল পুড়িয়ে চাষাবাদ করে । পরবর্তীতে জমি অনুর্বর হয়ে পড়লে অন্য স্থানে একইভাবে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে । একে স্থানান্তর কৃষি বা উত্তর – পূর্ব ভারতে ঝুমচাষ বলে ।
শস্যাবর্তন বলতে কী বোঝো ?
Ans: একই জমিতে এক বা একাধিক ফসল উৎপাদনের ফলে জমির উর্বরাশক্তি হ্রাস পায় । মৃত্তিকার গুণগত মান সঠিক রাখার জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে ফসলের চক্রাকারে চাষাবাদকে শস্যাবর্তন বলা হয় ।
নর্মদা ও তাপ্তি নদীতে কেন ব – দ্বীপ সৃষ্টি হয়নি ?
Ans: নর্মদা ও তাপ্তি নদী গ্রস্ত উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মোহনায় ঢাল এত বেশি যে সেখানে কোনোক্রমেই পলি সঞ্চিত হয় না । ফলে নর্মদা ও তাপ্তি নদীতে ব – দ্বীপ সৃষ্টি হয়নি ।
মৌসিনরাম – চেরাপঞ্জি অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি হয় কেন ?
Ans: মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে প্রচুর জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের মেঘালয় মালভূমিতে এসে বাধাপ্রাপ্ত হয় । এর ফলে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায় ।
মরু অঞ্চলের মৃত্তিকা লবণাক্ত কেন ?
Ans: সাধারণত মরুভূমি অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই সামান্য কিন্তু বাষ্পীভবনের মাত্রা অধিক । অধিক বাষ্পীভবনের ফলে ভূঅভ্যন্তরের লবণ ক্রমাগত ভূপৃষ্ঠের উপরে উঠে এসে সঞ্চিত হওয়ায় মরু অঞ্চলের মৃত্তিকা লবণাক্ত হয় ৷
গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান কী ?
Ans: কলকারখানা , বড়ো শহর ও নগরের আবর্জনা , কৃষিক্ষেত্র থেকে বিষাক্ত কীটনাশক , রাসায়নিক সার ধুয়ে এসে গঙ্গার জলে মিশে গঙ্গাকে দূষিত করেছে । গঙ্গার দূষণ রোধ করা জন্য 1985 সালে Central Ganga Authority স্থাপন করে পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তত্ত্বাবধানে গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান নামের কার্যকরী পরিকল্পনাটি গৃহীত হয় ।
সামাজিক বনসৃজনের উদ্দেশ্য কী ?
Ans: 1) পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা । 2) শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সরবরাহ অব্যাহত রাখে । 3) পতিত জমি পুনরুদ্ধার ও ভূমিক্ষয় রোধ করা । 4) গ্রামাঞ্চলে জ্বালানি কাঠ , পশুখাদ্য প্রভৃতির জোগান বাড়ানো ।
কৃষি বনসৃজনের উদ্দেশ্য কী ?
Ans: 1) কৃষিজমিতে খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ করা 2) অব্যবহৃত ও পতিত জমিকে চাষযোগ্য করে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান লাভ করা । 3) কৃষিজমিতে ভূমিক্ষয় রোধ করা 4) মানুষের প্রয়োজনীয় জ্বালানির চাহিদা পূরণ করা ।
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের প্রাকৃতিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর |
উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলের গুরুত্ব লেখো ।
Ans: 1. প্রতিরক্ষা : ভারতের উত্তরে হিমালয় পর্বত প্রাচীরের মতো দণ্ডায়মান হওয়ায় বহিঃশত্রুর হাত থেকে অনেকাংশে রক্ষা করে । ও
নদীর উৎসস্থল : ভারতের প্রধান প্রধান নদী যথা — গঙ্গা , সিন্ধু , ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি নদী হিমালয় পর্বত থেকে উৎপন্ন হওয়ায় সারাবছর জল থাকে যা পানীয় জল , সেচের কাজে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ।
পর্যটন শিল্প :
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ হওয়ায় হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে যা দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ।
উত্তরের সমভূমির গুরুত্ব লেখো ।
Ans: উন্নত কৃষিকাজ : এই সমভূমি অঞ্চলে ঊর্বর মৃত্তিকা , মনোরোম জলবায়ু , জলসেচের সুবিধা থাকায় ব্যাপক পরিমাণে কৃষিকাজ হয়ে থাকে , তাই এই সমভূমি অঞ্চলকে ভারতের শস্যভাণ্ডার বলা হয় ।
ঘন জনবসতি : প্রাকৃতিক , সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এই অঞ্চল পরিপূর্ণ হওয়ায় ঘন জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে ।
শিল্পের বিকাশ : এই সমভূমি অঞ্চলে উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা , সমতল ভূপ্রকৃতি , পানীয় জলের সুবিধা , বিদ্যুতের সুবিধা থাকায় শিল্পের দ্রুত বিকাশ ঘটেছে ।
মানবজীবনে হ্রদ , জলাশয় ও খালের গুরুত্ব কী ?
Ans: 1) হ্রদের জল সেচকাজে ব্যবহার করা হয় এবং পর্যটন ও বিনোদন ক্ষেত্র , মৎস্য আহরণ ক্ষেত্র হিসেবে হ্রদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । 2) অতিরিক্ত জলকে জলাশয়ে ধরে রেখে বন্যা প্রতিহত করা হয় , যা বাস্তুতন্ত্র তৈরি ও জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করে । 3) খালের জলকে সেচের কাজে ব্যবহার করা হয় , খালের মাধ্যমে কৃষিজাত ও শিল্পজাত পণ্য পরিবহণ করা হয় । খালে মাছ চাষ করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে ।
দক্ষিণ ভারতের বেশিরভাগ নদী পূর্ববাহিনী কিন্তু নর্মদা ও তাপ্তি পশ্চিমবাহিনী কেন ?
Ans: টার্সিয়ারি যুগে হিমালয়ের উত্থানকালে উপদ্বীপীয় মালভূমি পূর্বদিকে হেলে পড়ায় ভূমির ঢাল অনুযায়ী নদীগুলি পূর্বদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয় । ঠিক ওইসময় ভারতের মাঝ R বরাবর গ্রস্ত উপত্যকার সৃষ্টি হয় যাদের ঢাল মূলত পশ্চিম দিকে । ওই গ্রস্ত উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রধানত নর্মদা ও তাপ্তি নদী পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে ।
রাজস্থানে মরুভূমি সৃষ্টির কারণ কী ?
Ans: আরাবল্লির প্রতিকূল অবস্থান : আরাবল্লি পর্বত দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর গতিপথের সঙ্গে সমান্তরালভাবে অবস্থান করায় বায়ু বাধা না পেয়ে সোজা সামনের দিকে এগিয়ে যায় , ফলে বৃষ্টিপাত ঘটায় না ।
জলীয় বাষ্পের অভাব : দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমি বায়ু গুজরাট উপকূলে বৃষ্টিপাত ঘটানোর পর সামনে দিকে এগিয়ে গেলে প্রায় বাষ্পহীন হয়ে পড়ে , ফলে মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে ।
পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় কৃষিউন্নতির তিনটি কারণ সংক্ষেপে আলোচনা করো ।
Ans: পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় কৃষির উন্নতির তিনটি কারণ হলো—
জলবায়ু : পাঞ্জাব ও হরিয়ানা রাজ্যে বাৎসরিক গড় উয়তা 15 ° -25 ° সেন্টিগ্রেড হওয়ায় ধান , গম , কার্পাস ইত্যাদি চাষের পক্ষে তা অত্যন্ত উপযোগী ।
উর্বর মৃত্তিকা ও সমতল ভূপ্রকৃতি : এই দুই রাজ্যের মৃত্তিকা উর্বর দোআঁশ প্রকৃতির এবং ভূপ্রকৃতি প্রায় সমতল প্রকৃতির হওয়ায় কৃষিতে তা অত্যন্ত উপযোগী ।
উন্নত সার ও বীজ : উন্নতমানের সার ও বীজের ব্যবহার হওয়ায় এই দুই রাজ্যে হেক্টর প্রতি ফসল উৎপাদনের পরিমাণ সর্বাধিক ।
ভারতের নগরায়ণের তিনটি সমস্যা লেখো ।
Ans: 1. অপরিকল্পিত নগরায়ণ : ভারতের শহর বা নগরগুলি প্রথম থেকেই অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত হওয়ায় নগরে যানজট , আবাসন , শিক্ষা স্বাস্থ্য , বিদ্যুতের সমস্যা বৃদ্ধি
মানুষের শহর বা নগরমুখী প্রবণতা : বিভিন্ন সুযোগসুবিধার লক্ষ্যে , যথা সুস্বাচ্ছন্দ্য , বিনোদন প্রভৃতির আকাঙ্ক্ষায় মানুষ শহর বা নগরমুখী হওয়ায় দ্রুত হারে সমস্যা বাড়ছে ।
বসতির সমস্যা : জনসংখ্যা দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় শহরে বা নগরে বসতি স্থাপনে সমস্যা দেখা দিচ্ছে ।
ভারতের অরণ্য সংরক্ষণের তিনটি প্রধান উপায় সংক্ষেপে লেখো ।
Ans: 1. অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃক্ষচ্ছেদন রোেধ : যথেচ্ছভাবে বৃক্ষচ্ছেদন না করে প্রয়োজনীয় ও বয়স্ক গাছ চিহ্নিত করে ছেদন করলে এবং তার পরিবর্তে সেখানে নতুন গাছ লাগিয়ে বৃক্ষের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব ।
বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি : বিকল্প জ্বালানি এবং অরণ্য সংলগ্ন মানুষদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলে অরণ্য বিনাশ রোধ করা সম্ভব ।
পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ : পৃথকভাবে তৃণভূমি তৈরি করে বনাঞ্চলে পশুচারণ C নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ফলে অরণ্য অনেকাংশে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পাবে ।
ভারতের জনজীবনে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব সংক্ষেপে লেখো । বহুমুখী নদী পরিকল্পনা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো ।
Ans: মৌসুমি বায়ুর প্রভাব : ভারতের জনজীবন মৌসুমি বায়ুর দ্বারা প্রভাবিত হয় । এর প্রভাবগুলি হলো—
1. কৃষিতে প্রভাব : তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের তারতম্য অনুযায়ী ভারতে নানা প্রকার কৃষিপদ্ধতি চালু রয়েছে । এগুলি হলো আর্দ্র কৃষি , শুষ্ক কৃষি , সেচন কৃষি ।
খাদ্যাভ্যাসে প্রভাব : মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পূর্ব ও উত্তর – পূর্ব ভারতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি । ফলে এখানে ধান উৎপাদন বেশি হয় এবং এখানকার বাসিন্দাদের প্রধান খাদ্য ভাত । অন্যদিকে , উত্তর – পশ্চিম ভারতে বৃষ্টিপাত কম হয় বলে সেখানে গমের ফলন বেশি এবং বাসিন্দাদের প্রধান খাদ্য রুটি ।
শিল্পে প্রভাব : মৌসুমি বায়ু ও বৃষ্টিপাতের তারতম্যের জন্য সারাদেশে একই কৃষিজাত শিল্পের প্রসার ঘটেনি । পূর্ব ভারতে বৃষ্টিপাত অধিক বলে পাটশিল্প , পশ্চিম ভারতে মাঝারি বৃষ্টিপাতের কারণে কার্পাস শিল্প এবং উত্তর – পূর্ব ভারতে চা শিল্পের প্রসার ঘটেছে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের জন্য ।
বনভূমিতে প্রভাব : বৃষ্টিপাতের তারতম্য অনুযায়ী স্বাভাবিক উদ্ভিদ স্থানভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে । ফলে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব পড়েছে পশুপালন ও কাঠশিল্পেও।
বহুমুখী নদী পরিকল্পনা :
সংজ্ঞা : কোনো নদীতে বাঁধ দিয়ে একইসঙ্গে একাধিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করলে তাকে বহুমুখী নদীউপত্যকা পরিকল্পনা বলা হয় ।
এর উদ্দেশ্য : 1. জলসেচ : জল ধরে রেখে শুখা মরসুমে জলসেচ করে চাষাবাদ করা যায় ।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ : নদীবাঁধ বন্যা নিয়ন্ত্রণে খুবই সহায়তা করে ।
নদীর নাব্যতা বজায় রাখা : বাঁধ তৈরি হওয়ায় সারাবছর ধরে নদীতে জল সরবরাহ বজায় রাখা থাকে ।
বিদ্যুৎ উৎপাদন : জলাধারে প্রবহমাণ জলে টারবাইনের চাকা ঘুরিয়ে সহজেই জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় ।
পূর্ব হিমালয়ের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও ।
Ans: এই পর্বতশ্রেণি পশ্চিমে সিঙ্গালিলা পর্বতশ্রেণি থেকে অরুণাচল প্রদেশের নামবারোয়া পর্যন্ত বিস্তৃত । ভূপ্রকৃতির তারতম্য অনুযায়ী একে চারটি ভাগে ভাগ করা যায় । যথা— 1. দার্জিলিং ও সিকিম হিমালয় : নেপালের পূর্বে সিঙ্গালিলা থেকে পশ্চিমে ডাকিয়াল পর্যন্ত বিস্তৃত । ভারত ও নেপাল সীমান্তে রয়েছে সিঙ্গালিলা শৈলশিরা । এখানে অনেকগুলো পর্বতশৃঙ্গ লক্ষ করা যায় । যথা — সান্দাকফু ( ৩৬৩০ মি . ) , কাঞ্চনজঙ্ঘা ( ৮৫৯৮ মি . ) ইত্যাদি ।
ভুটান হিমালয় : [ বহির্দেশে অবস্থিত হওয়ায় আলোচ্য বিষয় নয় । ]
অরুণাচল হিমালয় : অসমের অধিকাংশ অঞ্চল ও সমগ্র অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে এই হিমালয় অবস্থিত । এখানে বেশ কয়েকটি গিরিপথ অবস্থিত । যেমন — জেলেপলা , বুমলা , তলংলা প্রভৃতি । কাংটো ( ৭০৬০ মি . ) অরুণাচলের উচ্চতম শৃঙ্গ ।
গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান কী ?
Ans: জল সংরক্ষণের গুরুত্ব ও পদ্ধতি সংক্ষেপে লেখো । পুণ্যতোয়া গঙ্গা নদী বর্তমানে ব্যাপক দূষণের শিকার । গাঙ্গেয় অববাহিকায় সমীক্ষা করে গঙ্গাদূষণ রোধের জন্য ‘ গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান ’ গঠিত হয়েছে । কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অধীনে ১৯৮৫ সালে ‘ সেন্ট্রাল গঙ্গা অথরিটি ‘ নামে একটি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তত্ত্বাবধানে ‘ গঙ্গা অ্যাকশন প্ল্যান ‘ নামের কার্যকরী পরিকল্পনাটি গৃহীত হয় । এই পরিকল্পনায় প্রথম পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গ , বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ২৭ টি প্রথম শ্রেণির শহরকে গঙ্গাদুষণের জন্য দায়ী করা হয়েছে । কলকাতা , পাটনা , বারাণসী , কানপুর ও এলাহাবাদের মতো শহরগুলি গঙ্গাদূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী । উল্লিখিত শহরগুলিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী নিকাশি ব্যবস্থা চালু ও জনসচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হলে গঙ্গাদূষণ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে ।
প্রসঙ্গত , বড়ো বড়ো শহরের গৃহস্থালির নোংরা – আবর্জনা , কারখানার বর্জ্য পদার্থ ইত্যাদি গঙ্গাজলকে ক্রমাগত দূষিত করছে । এছাড়া গঙ্গাজলের অপব্যবহারও ব্যাপকহারে চলছে । সবমিলিয়ে গঙ্গানদী বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে দূষিত নদী ।
জল সংরক্ষণের গুরুত্ব ও পদ্ধতি :
গুরুত্ব : 1) পানীয় জলের চাহিদা বজায় রাখা । 2) কৃষিজমিতে জলের চাহিদা পূরণ করা । 3) শিল্প ও বিভিন্ন বাণিজ্য ক্ষেত্রে জলের জোগান বজায় রাখা ।
পদ্ধতি : জলসম্পদের সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি । নীচে জল সংরক্ষণের পদ্ধতিগুলি আলোচিত হলো :
জলের অপচয় না করা : রোজকার জীবনে নানা কাজে প্রয়োজন অনুযায়ী জলের ব্যবহার করা উচিত । অযথা জলের অপচয় না করলে যেকোনো স্থানে জল সংরক্ষণ করা যায় ।
জলসেচের সুষ্ঠু ব্যবহার : জল সংরক্ষণে বিন্দু বিন্দু পদ্ধতি ও স্প্রিংকেল পদ্ধতিতে জলসেচ করলে ৩০ শতাংশ জল বাঁচানো সম্ভব ।
বৃষ্টির জল ধরে রাখা : পাহাড় বা সমতলে চাহিদা অনুযায়ী জলাধার বা ভূগর্ভস্থ জলাধার নির্মাণ করে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় ।
ভূগর্ভস্থ জল সংরক্ষণ : বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অধিক পরিমাণে ভূগর্ভস্থ জল পাম্প , কূপ বা নলকূপের সাহায্যে তুলে আনা উচিত নয় । এভাবে ভূগর্ভস্থ জলের অপব্যবহার কমানো বা সেই ব্যবহার হ্রাস করেও জল সংরক্ষণ করা যায় ৷
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের প্রাকৃতিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর |
প্রস্থ বরাবর হিমালয়ের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও ।
Ans: উচ্চতা অনুসারে হিমালয় পর্বতকে উত্তর থেকে দক্ষিণে অর্থাৎ প্রস্থ বরাবর ভাগে ভাগ করা যায় । যথা –
টেথিস বা ট্রান্স হিমালয় : আজ থেকে প্রায় 7-12 কোটি বছর পূর্বে প্রবল ভূআলোড়নের ফলে উপদ্বীপীয় ও ইউরোপীয় পাত পরস্পরের দিকে অগ্রসর হওয়ার মহিখাতে সঞ্চিত হওয়া পলি ভাজ খেয়ে এই হিমালয়ের উৎপত্তি হয়েছে । ভারতে এর দৈর্ঘ্য 1000 কিমি , প্রস্থ 40 225 কিমি এবং উচ্চতা 3000 00 মিটার । জাস্কর পর্বতশ্রেণি এই অংশ দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে । এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো লিওপারগেল ( 7420 মি . ) ।
হিমাদ্রি বা হিমগিরি বা উচ্চ হিমালয় : আজ থেকে বহু কোটি বছর পূর্বে টেথিস সাগরে সঞ্চিত পলি ভাজ খেয়ে উপরে উঠে বর্তমানে হিমাদ্রি হিমালয় রূপে অবস্থান করছে । এর দৈর্ঘ্য 2400 কিমি , প্রস্থ গড়ে প্রায় 25 কিমি এবং উচ্চতা গড়ে প্রায় 6100 মিটার এখানকার উল্লেখযোগ্য পর্বতশৃঙ্গগুলি হলো মাউন্ট এভারেস্ট , কাঞ্চনজঙ্ঘা ইত্যাদি । এখানকার উল্লেখযোগ্য গিরিপথগুলি হলো নাথুলা , জোজিলা , বুর্জিলা ইত্যাদি ।
হিমাচল হিমালয় বা মধ্য হিমালয় : লাডাকের দক্ষিণে অবস্থিত উত্তরে হিমাদ্রি ও দক্ষিণে শিবালিক পর্বতের মধ্যবর্তী অংশগুলোকে বলা হয় হিমাচল হিমালয় । এর প্রস্থ গড়ে 60-80 কিমি , উচ্চতা গড়ে 3500-4500 মি .। এর প্রধান পর্বতগুলি হলো পিরপাঞ্জাল , ধওলাধর , নাগটিক্কা এবং কয়েকটি প্রধান উপত্যকা হলো কুলু , কাংড়া , কাশ্মীর প্রভৃতি ।
শিবালিক হিমালয় : ভূআন্দোলন ও টেথিস সাগরের পলি ভাজ খেয়ে হিমালয় পর্বতমালার দক্ষিণে শিবালিক হিমালয়ের সৃষ্টি হয়েছে । এর প্রস্থ 10-15 কিমি এবং এর গড় উচ্চতা 600-1200 মিটার । শিবালিক ও হিমাচল হিমালয়ের মাঝে অবস্থিত উপত্যকাগুলিকে স্থানীয় ভাষায় দুন বলা হয় । যেমন— দেরাদুন , পাটলি দুন ইত্যাদি ।
দৈর্ঘ্য বরাবর হিমালয়ের ভূপ্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও ।
Ans: হিমালয় পর্বতমালাকে পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় । যথা →
পশ্চিম হিমালয় : জম্মু ও কাশ্মীরের নাঙ্গা পর্বত থেকে নেপাল সীমান্তের কালী নদী পর্যন্ত এই পর্বত বিস্তৃত । পশ্চিম হিমালয়কে তিন ভাগে ভাগ করা যায় । যথা—
কাশ্মীর হিমালয় : জম্মু ও কাশ্মীর জুড়ে এই হিমালয় বিস্তৃত । পিরপাঞ্ছাল ও কারাকোরাম পর্বতের মাঝে কাশ্মীর উপত্যকা অবস্থিত ।
পাঞ্জাব ও হিমাচল হিমালয় : পাঞ্জাব ও হিমাচল প্রদেশের প্রায় 56 . হাজার বর্গ কিমি স্থান জুড়ে এই হিমালয়ের বিস্তার ।
কুমায়ুন হিমালয় : উত্তরাখণ্ড রাজ্যের প্রায় 46 হাজার বর্গ কিমি এলাকা জুড়ে এই হিমালয়ের বিস্তার । এখানকার উল্লেখযোগ্য পর্বতশৃঙ্গ হলো নন্দাদেবী ( 7817 মি . ) , কামেট ( 7756 মি . ) ইত্যাদি ।
মধ্য হিমালয় : মধ্য হিমালয় সমগ্র নেপাল দেশটির অন্তর্ভুক্ত । মাউন্ট এভারেস্ট ( 8848 মি . ) , মাকালু , ধবলগিরি , অন্নপূর্ণা প্রভৃতি শৃঙ্গ এখানে অবস্থিত । সুতরাং এই হিমালয় ভারতের অন্তর্ভুক্ত নয় ।
পূর্ব হিমালয় : এই পর্বতশ্রেণি পশ্চিমে সিঙ্গালিলা থেকে অরুণাচল প্রদেশের নামচাবারোয়া পর্যন্ত বিস্তৃত । ভূপ্রকৃতির তারতম্য অনুযায়ী একে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় । যথা —
দার্জিলিং ও সিকিম হিমালয় : নেপালের পূর্বে সিঙ্গালিলা থেকে পশ্চিমে ভঙ্গকিয়াল পর্যন্ত বিস্তৃত । পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং কালিমপং জেলা ও সিকিম রাজ্য এই হিমালয়ের অন্তর্গত । এখানকার উল্লেখযোগ্য শৃঙ্গগুলি হলো কাঞ্চনজঙ্ঘা ( 8598 মি . ) , সান্দাকফু ( 3630 মি . ) ইত্যাদি । অরুণাচল ভুটান হিমালয় : বহির্দেশে অবস্থান করায় আলোচ্য বিষয় নয় । অসমের অধিকাংশ অঞ্চল ও সমগ্র অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে এই হিমালয় অবস্থিত । এখানকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো নামচাবারওয়া ( 7756 মি . ) । এখানে বেশ কয়েকটি গিরিপথ লক্ষ করা যায় । যথা— জেলেপলা , বুমলা , প্রভৃতি ।
ভারতের মৃত্তিকার শ্রেণিবিভাগ করে তাদের বৈশিষ্ট্যের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও ।
Ans: উৎপত্তি , বৈশিষ্ট্য ও জলবায়ুর তারতম্যের বিচারে ভারতের মৃত্তিকাকে প্রধানত ছয় ভাগে ভাগ করা যায় । যথা—
পাললিক মৃত্তিকা : দাক্ষিণাত্য মালভূমি , পশ্চিম ও পূর্বঘাট পর্বতের ন ক্ষয়িত বালি , পলি , কাদা সঞ্চিত হয়ে এবং উপকূলের সমুদ্রতরঙ্গের দ্বারা সতি বালি , পলি , কাদা প্রভৃতি সম্ভিত হয়ে পাললিক মুক্তিকা সৃষ্টি হয়েছে ।
বৈশিষ্ট্য : 1) এই মুক্তিকার জলধারণ ক্ষমতা বেশিও 2) এই মৃত্তিকা সূক্ষ্ম পলি ও খনিজ কণার সমন্বয়ে গঠিত । 3) মৃত্তিকার স্তরগুলি খুব সুস্পষ্ট । 4) মৃত্তিকা সুগভীর হয় ।
কৃমৃত্তিকা : স্বল্প বৃষ্টিপাতের প্রভাবে , উচ্চ উয়তায় অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ব্যাসল্ট জাতীয় আগ্নেয় শিলা দ্বারা গঠিত হয়েছে ।
বৈশিষ্ট : 1) এই মৃত্তিকার রং কালো । 2) এই মুক্তিকার জলধারণ ক্ষমতা বেশি 3) এই মৃত্তিকা খুবই উর্বর । এই মৃত্তিকা সূক্ষ্ম কণাযুক্ত ।
লোহিত মৃত্তিকা : অধিক উন্নতা ও আর্দ্রতাজনিত কারণে আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলা থেকে গভীর আবহবিকারের মাধ্যমে এই শিলার উৎপত্তি হয়েছে ।
বৈশিষ্ট্য : 1) এই মৃত্তিকা ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড , কোয়ার্টজ জাতীয় খনিজ সমৃদ্ধ । 2) এই মৃত্তিকার রং লাল বাদামি বা হালকা বাদামি হয় । 3) এই মৃত্তিকা আম্লিক প্রকৃতির ।
ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা : প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে সিলিকা ও সেসকুই অক্সাইড অপসারিত হয়ে লোহা , অ্যালুমিনিয়াম ও হাইড্রোক্সাইড পড়ে থেকে এই মুক্তিকার সৃষ্টি হয়েছে ।
বৈশিষ্ট্য : এই মৃত্তিকার রং লাল বাদামি বা হালকা বাদামি । ঔ এই মুক্তিকায় লোহা , বক্সাইড , ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদি খনিজ থাকে । এই মৃত্তিকা আম্লিক প্রকৃতির । এর pH মান 5.5 – এর কম ।
মরু মত্তিকা : ভারতের শুষ্ক ও মরু অঞ্চলের বালুকাময় মৃত্তিকা মরু মুক্তিকা নামে পরিচিত । ভারতের মোট ক্ষেত্রফলের 4 % অঞ্চল জুড়ে এই মুক্তিকা দেখা যায় ।
বৈশিষ্ট্য : এই মৃত্তিকা বালুকণাযুক্ত হওয়ায় এর জলধারণ ক্ষমতা কম । ও এই মুক্তিকার রং ধূসর বাদামি , হালকা হলুদ প্রকৃতির হয় । এই মৃত্তিকা অনুর্বর প্রকৃতির ও pH এর মান 7.69.21 ●
পার্বত্য মৃত্তিকা : পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চলে উদ্ভিদের ডালপালা পচে গিয়ে হিউমাস সমৃদ্ধ হয়ে এই মুক্তিকার সৃষ্টি হয়েছে ।
বৈশিষ্ট্য : 1) এই মুক্তিকার রং ধূসর , ছাই , কালো ধরনের । 2) এই মৃত্তিকায় বালি ও কর্দমের পরিমাণ বেশি । 3) এই মৃত্তিকা অনুর্বর প্রকৃতির হওয়ায় কৃষিকাজ তেমন হয় না ।
ভারতের স্বাভাবিক উদ্ভিদের শ্রেণিবিভাগ করে তাদের বৈশিষ্ট্যের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও ।
Ans: ভারতের বিভিন্ন অংশের জলবায়ু ভূপ্রকৃতি ও মৃত্তিকার তারতম্যের ভিত্তিতে স্বাভাবিক উদ্ভিদকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয় । যথা—
ক্রান্তীয় চিরহরিং উদ্ভিদ : ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ , পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালা , অরুণাচল প্রদেশ , মিজোরাম , নাগাল্যান্ড , ত্রিপুরা , পশ্চিমবঙ্গ , বিহার ও ঝাড়খণ্ডের বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে এই অরণ্য গড়ে উঠেছে ।
বৈশিষ্ট্য : 1) এই অরণ্যের বৃক্ষগুলির পাতা একসঙ্গে না ঝরায় চিরসবুজ প্রকৃতির হয় । 2) গাছগুলির উচ্চতা খুব বেশি , কাণ্ডগুলি শক্ত প্রকৃতির । 3) শাল , সেগুন , পলাশ , অর্জুন , চন্দন , বাঁশ প্রভৃতি উদ্ভিদ জন্মায় ।
ক্রান্তীয় পর্ণমোচী উদ্ভিদ : বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত 100-200 সেমি এবং 20-30 সে . যুক্ত অঞ্চলে এই অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছে । অসমের সমভূমি , ছোটোনাগপুর মালভূমি , পশ্চিমবঙ্গের সমভূমি ওড়িশা , অন্ধ্রপ্রদেশ , কর্নাটক , মহারাষ্ট্র প্রভৃতি অঞ্চলে ক্রান্তীয় আর্দ্র ও শুষ্ক পর্ণমোচী অরণ্য লক্ষ করা যায় ।
বৈশিষ্ট্য : 1) শীতকালে অধিকাংশ উদ্ভিদের পাতা ঝরে যায় ও আর্দ্র পর্ণমোচী বৃক্ষগুলি শাখাপ্রশাখাযুক্ত , উচ্চতা মাঝারি ধরনের , উদ্ভিদের ঘনত্বও কম ও শিমুল , বট , নিম , পলাশ , কুল ইত্যাদি ।
ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদ : প্রচণ্ড উয়তা যুক্ত যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত 25 সেমির কম , উয়তা 35 ° -45 ° সে . যুক্ত অঞ্চলে এই অরণ্যের সৃষ্টি হয়েছে ।
বৈশিষ্ট্য : 1) ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদগুলি কাঁটাযুক্ত ঝোপঝাড় ও গুল্ম জাতীয় হয় 2) এই জাতীয় উদ্ভিদের মূল মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করে ও 3) ফণীমনসা , ক্যাকটাস , খেজুর , বাবলা , কাঁটাজাতীয় উদ্ভিদ প্রভৃতি জন্মায় ।
পার্বত্য উদ্ভিদ : সাধারণত ভারতের উত্তরে অবস্থিত হিমালয় পর্বতমালায় উচ্চতা ও বৃষ্টিপাতের তারতম্যে বৈচিত্র্যপূর্ণ উদ্ভিদ জন্মায় ।
বৈশিষ্ট্য : 1) এই জাতীয় উদ্ভিদের কাঠ খুব শক্ত ও ভারী 2) সরলবর্গীয় উদ্ভিদের কাঠ নরম প্রকৃতির এবং পাতাগুলি সূচালো প্রকৃতির হয় । 3) পাইন , ফার , স্পুস , ম্যাপল , বার্চ , শাল , সেগুন , মেহগনি ইত্যাদি ।
ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ : ভারতের সমুদ্র উপকূলভাগে লবণাক্ত মৃত্তিকায় এই জাতীয় উদ্ভিদ জন্মায় । পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য ) । এ জাতীয় উদ্ভিদ দেখা যায় ।
বৈশিষ্ট্য : 1) এই জাতীয় উদ্ভিদ চির হরিৎ প্রকৃতির 2) এই জাতীয় উদ্ভিদের শাখামূল মাটির উপরে বেরিয়ে আসে । 3) সুন্দরি গরান , গেওয়া , হেতাল , হোগলা ,ত্যাদি ।
পরবর্তী আপডেট পাওয়ার জন্য ওয়েবসাইট কিংবা youtube এ জুড়ে থাকুন
Related video
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন