মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন ২০২৩– ভারতের অর্থনৈতিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর || Secondary Geography Suggestion 2023 - Economic Division of India (India - Chapter 5) Questions and Answers |

WB Madhyamik Geography Suggestion 2023

( ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ ) | মাধ্যমিক ২০২৩ ভূগোল সাজেশন

Suggested by :- SOUMEN BERA

আজকের এই পোস্টে আমরা তোমাদের সঙ্গে, তোমাদের সামনের মাধ্যমিক ভূগোল ( WB Madhyamik Geography ) পরীক্ষার জন্য, " ক্লাস টেনের ভূগোল পঞ্চম অধ্যায় " ভারতের অর্থনৈতিক পরিবেশ   " থেকে কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সাজেশন তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করবো। ( WB Madhyamik Geography Suggestion 2023 | মাধ্যমিক ২০২৩ ভূগোল সাজেশন )। এর আগের পোষ্টের মাধ্যমে আমরা দশম শ্রেণির ভূগোল সাজেশন হিসেবে পঞ্চম অধ্যায়ের  এক, দুই , তিন  এবং পাঁচ মার্কের প্রশ্ন ও উত্তর তোমাদের সঙ্গে   আজকে আমরা  শেয়ার করবো। 


বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের অর্থনৈতিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | 

ভারতে সবুজ বিপ্লবের জনক কে ? 

(A) ড : এম . এস . স্বামীনাথন 
(B) মেধা পাটেকর 
(C) সুন্দরলাল বহুগুণা 
(D) বাবা আমতে 
Ans: (A) ড : এম . এস . স্বামীনাথন 

কত সালকে রাষ্ট্রসংঘ ( UNO ) আন্তর্জাতিক ধান বর্ষ ( হিসেবে ঘোষণা করে ? 

(A) 2001 সালকে 
(B) 2004 সালকে 
(C) 2009 সালকে 
(D) 2010 সালকে 
Ans: (B) 2004 সালকে

ভারতের কেন্দ্রীয় ধান গবেষণাগারটি কোথায় অবস্থিত ? 

(A) দিল্লিতে 
(B) পুনেতে 
(C) কটকে 
(D) মুম্বাইয়ে 
Ans: (C) কটকে

পশ্চিমবঙ্গের ধান গবেষণাগারটি কোথায় অবস্থিত ? 

(A) পুসায় 
(B) মালদায় 
(C) বর্ধমানে 
(D) হুগলির চুঁচুড়াতে । 
Ans: (D) হুগলির চুঁচুড়াতে । 

বিশ্ব ধান গবেষণাগারটি কোথায় অবস্থিত ?

(A) ম্যানিলাত ( ফিলিপিন্স ) 
(B) পুনে ( মুম্বাই ) 
(C) কলকাতা ( পশ্চিমবঙ্গ ) 
(D) সুইজারল্যান্ড 
Ans: (A) ম্যানিলাত ( ফিলিপিন্স )

ভারতের কেন্দ্রীয় গম গবেষণাগারটি কোথায় অবস্থিত ? 

(A) পুসায় (দিল্লি ) 
(B) কলকাতায় 
(C) মুম্বাইয়ে 
(D) কটকে ( ওড়িশা ) 
Ans: (A) পুসায় (দিল্লি )

বিশ্ব গম গবেষণাগারটি কোথায় অবস্থিত ? 

(A) কটকে 
(B) থানেতে 
(C) মেক্সিকো সিটিতে 
(D) চিনের হোয়াং হো প্রদেশে 
Ans: (C) মেক্সিকো সিটিতে

ভারত মিলেট উৎপাদনে পৃথিবীতে কততম স্থান অধিকার করে ? 

(A) তৃতীয় 
(B) পঞ্চম 
(C) দ্বিতীয় 
(D) প্রথম 
Ans: (D) প্রথম 

কত সালে জামশেদপুরে টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পনি ( TISCO ) প্রতিষ্ঠিত হয় ? 

(A) 1709 সালে 
(B) 1907 সালে
(C) 1970 সালে 
(D) 1917 সালে 
Ans: (B) 1907 সালে

কত সালে ভারত সরকার SAIL ( Steel Authority of India Limited ) স্থাপন করে ? 

(A) 1945 সালে 
(B) 1952 সালে 
(C) 1954 সালে 
(D) 1965 সালে 
Ans: (C) 1954 সালে

ভারতের বৃহত্তম লৌহ – ইস্পাত কেন্দ্রটি কোথায় অবস্থিত ? 

(A) কলকাতায় 
(B) ভিলাইয়ে 
(C) ভোপালে 
(D) দুর্গাপুরে 
Ans: (B) ভিলাইয়ে

ভারতের একমাত্র বন্দরকেন্দ্রিক লৌহ – ইস্পাত কেন্দ্রের নাম কী ? 

(A) বিশাখাপত্তনম 
(B) ভিলাই 
(C) জামশেদপুর 
(D) দুর্গাপুর 
Ans: (A) বিশাখাপত্তনম

ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি লৌহ – ইস্পাত কেন্দ্রের নাম কী ?

(A) বার্নপুর 
(B) জামশেদপুর 
(C) রাউরকেল্লা 
(D) ভিলাই 
Ans: (B) জামশেদপুর

কত সালে মহারাষ্ট্রের ট্রম্বেতে ভারতের পেট্রোরসায়ন শিল্পের সূচনা হয় ? 

(A) 1866 সালে 
(B) 1966 সালে 
(C) 1874 সালে 
(D) 1956 সালে 
Ans: (B) 1966 সালে

এককথায় উত্তর দাও | মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের অর্থনৈতিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | 

ভারতীয় ‘ টি ‘ বোর্ডের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত ?

Ans: কলকাতায় ৷ 

ভারতীয় কফি বোর্ডের সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত ? 

Ans: বেঙ্গালুরুতে । 

চা রপ্তানিতে ভারত পৃথিবীতে কততম স্থান অধিকার করেছে ? 

Ans: চতুর্থ স্থান । 

পৃথিবীতে কত রকমের চা চাষ হয়ে থাকে ? 

Ans: চার রকমের । ( কালো চা – ভারত , সবুজ চা – চিন ও জাপান , ইস্টক চা রাশিয়া এবং ওলং চা– তাইওয়ান ) । 

পৃথিবীতে কত রকমের কফি উৎপন্ন হয় ? 

Ans: চার রকমের । ( আরবীয় কফি – ব্রাজিল ও ভারত , রোবাস্টা কফি – পশ্চিম আফ্রিকা , লাইবেরিয়া কফি , জামাইকা কফি ) । 

বিশুদ্ধ কাঁচামাল কাকে বলে ? 

Ans: যেসকল কাঁচামাল শিল্পজাত করার পর উৎপন্ন দ্রব্যের ওজন এক থাকে তাকে বিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে । 

অবিশুদ্ধ কাঁচামাল কাকে বলে ? 

Ans: যেসকল কাঁচামাল শিল্পজাত করার পর উৎপন্ন দ্রব্যের ওজন কমে যায় তাকে অবিশুদ্ধ কাচামাল বলে। 

ভারতের প্রথম ইস্পাত কারখানা কোথায় স্থাপিত হয় ? 

Ans: 1830 সালে তামিলনাড়ুর পোর্টোনোভোতে । 

বস্ত্র উৎপাদনে ও রপ্তানিতে ভারত পৃথিবীতে কততম স্থান অধিকার করে ? 

Ans: উৎপাদনে প্রথম এবং রপ্তানিতে দ্বিতীয় । 

কত সালে হাওড়ার ঘুসুড়িতে ( ফোর্ট মাস্টার ) ভারতের প্রথম কার্পাস শিল্পকেন্দ্র গড়ে ওঠে ?

Ans: 1818 সালে । 

ভারতের ম্যাঞেস্টার কাকে বলে ? 

Ans: আমেদাবাদকে । ( উত্তর ভারতের কানপুরকে , দক্ষিণ ভারতের কোয়েম্বাটোরকে ) । 

ভারতের বয়নশিল্পের রাজধানী কাকে বলে ?

Ans: মুম্বইকে । 

ভারতের বৃহত্তম ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের নাম কী ? 

Ans: বিশাখাপত্তনম ( হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ড লিমিটেড ) ।

পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার কত শতাংশ ভারতে বসবাস করে ? 

Ans: 17.5 % ( চিন 19.4 % ) । 

2011 সালের সেন্সাস অনুযায়ী ভারতের কোন রাজ্যে লিঙ্গ অনুপাত বেশি ? 

Ans: অরুণাচল প্রদেশে ।

লৌহ – ইস্পাত উৎপাদনে ভারত পৃথিবীতে কততম স্থান অধিকার করে । 

Ans: পঞ্চম ( চিন প্রথম ) । 

5 হাজারের বেশি জনসংখ্যাবিশিষ্ট অঞ্চলকে কী বলে ? 

Ans: শহর । 

কোনো শহরের জনসংখ্যা 1 লক্ষের বেশি হলে , তাকে কী বলে ? 

Ans: নগর । 

কোনো শহরের জনসংখ্যা 10 লক্ষের বেশি হলে , তাকে কী বলে ? 

Ans: মহানগর । 

কোন মহানগরের জনসংখ্যা 1 কোটির বেশি হলে তাকে কী বলে ? 

Ans: মেগাসিটি । 

2011 সালের সেন্সাস অনুযায়ী ভারতে মেগাসিটির সংখ্যা ক’টি ? 

Ans: চারটি ( কলকাতা , দিল্লি , মুম্বই এবং চেন্নাই ) । 

ভারতে প্রথম রেলপথ কোথায় স্থাপিত হয় ?

Ans: 1853 সালের 16 এপ্রিল বোম্বাই থেকে থানে ( 33.6 কিমি ) । 

ভারতের বৃহত্তম বন্দরের নাম কী ? 

Ans: মুম্বই ( ভারতের প্রবেশদ্বার ) । 

ভারতের একটি করমুক্ত বন্দরের নাম লেখো । 

Ans: কাণ্ডালা ( গুজরাট ) । 

ভারতের একটি আধুনিক প্রযুক্তির বন্দরের নাম লেখো । 

Ans: জওহরলাল নেহরু বন্দর বা নভসেবা বন্দর ( মুম্বই ) । 

ভারতের কোন বন্দর লৌহ রপ্তানিতে বিখ্যাত ? 

Ans: মার্মাগাঁও ( গোয়া ) । 

ভারতের কোন বন্দর কফি রপ্তানিতে বিখ্যাত ? 

Ans: নিউ ম্যাঙ্গালোর ( কর্ণাটক ) । 

ভারতের শ্রেষ্ঠ মৎস্য বন্দরের নাম কী ? 

Ans: কোচি ( কেরল ) । একে আরব সাগরের রানি বলা হয় । 

ভারতের একটি স্বাভাবিক বন্দরের নাম লেখো । 

Ans: বিশাখাপত্তনম ( অন্ধ্রপ্রদেশ ) । 

ভারতের কোন বন্দরটি হলো একমাত্র কর্পোরেট বন্দর ?

Ans: এন্নোর ( তামিলনাড়ু ) । 

দক্ষিণ ভারতের গভীরতম বন্দরের নাম কী ? 

Ans: চেন্নাই ( তামিলনাড়ু ) ।

পূর্ব ভারতের বৃহত্তম বন্দরের নাম কী ? 

Ans: কলকাতা – হলদিয়া ( পশ্চিমবঙ্গ ) । 

 

ভারতের গভীরতম বন্দরের নাম কী ? 

Ans: চেন্নাই ( তামিলনাড়ু ) ।

ভারতের একটি নবগঠিত বন্দরের নাম লেখো । 

Ans: পোর্ট ব্লেয়ার ( আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ )। 

কত সালে ভারতে প্রথম বিমান চলাচল শুরু হয় ? 

Ans: 1911 সালে । ( এলাহাবাদ ও নৈনির মধ্যে 10 কিমি ) । 

ভারতে মোট কয়টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে ? 

Ans: 16 টি । 

ভারতের বৃহত্তম বিমানবন্দরের নাম কী ?

Ans: ইন্দিরা গান্ধি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ( দিল্লি ) । 

ভারতের প্রথম পাতালরেল কোথায় চালু হয় ? 

Ans: 1986 সালের 28 এপ্রিল কলকাতায় প্রাচীনতম।

ভারতের দীর্ঘতম মেট্রোরেল কোনটি ? 

Ans: কলকাতা । 
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের অর্থনৈতিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | 

জীবিকাসত্তাভিত্তিক কৃষি কাকে বলে ? 

Ans: যে কৃষিব্যবস্থায় কৃষক তার নিজ পরিবারের খাদ্যের প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে খাদ্যশস্যের চাষ করে , তাকে জীবিকাসত্তাভিত্তিক কৃষি বলে । দক্ষিণ – পূর্ব এশিয়ার এই চাষের প্রাধান্য বেশি । 

নিবিড় বা প্রগাঢ় কৃষি কাকে বলে ? 

Ans: যে কৃষিব্যবস্থায় প্রচুর শ্রম ও পুঁজি বিনিয়োগ করে একই জমিতে বছরে বিভিন্ন ফসলের চাষ করা হয় , তাকে নিবিড় বা প্রগাঢ় কৃষি বলে । অধিক জনসংখ্যা হওয়ায় এই কৃষিব্যবস্থা গড়ে ওঠে । 

বাগিচা কৃষি কাকে বলে ? 

Ans: বাণিজ্যিকভাবে বৈদেশিক মূলধন ও সংগঠনের সহায়তায় প্রধানত দেশীয় শ্রমশক্তির সাহায্যে যে কৃষিব্যবস্থা গড়ে ওঠে , তাকে বাগিচা কৃষি বলে । উৎপাদিত ফসলগুলি হলো চা , কফি , রবার , নারকেল , কলা , তামাক , মশলা ইত্যাদি । 

খারিফ , রবি ও জায়িদ শস্য কাকে বলে ?

Ans: যেসব ফসল জুন – জুলাই মাসে রোপণ করা হয় এবং নভেম্বর – ডিসেম্বর মাসে ফসল তোলা হয় , তাকে খারিফ শস্য বলে । যেসব ফসল অক্টোবর – নভেম্বর মাসে রোপণ করা হয় এবং ফেব্রুয়ারি – মার্চ মাসে ফসল তোলা হয় , তাকে রবি শস্য বলে । যেসব ফসল গ্রীষ্মকালে চাষ করে বর্ষার শুরুতে ফসল কাটা হয় , তাদের জায়িদ শস্য বলে । 

সবুজ বিপ্লব কাকে বলে ? 

Ans: 1960 সালে ভারতে উচ্চ ফলনশীল বীজ ব্যবহার , ভৌগোলিক পরিবেশ অনুযায়ী কৃষি পদ্ধতি অবলম্বন , রাসায়নিক সার ব্যবহার , অল্পমেয়াদি ফসল , কৃষিঋণের সহজলভ্যতা , সেচের সুবিধা ইত্যাদি দ্বারা কৃষিক্ষেত্রে যে ব্যাপক অগ্রগতি হয় , তাকেই সামগ্রিকভাবে সবুজ বিপ্লব বলে । 

অর্থকরী ফসল কাকে বলে ? 

Ans: যেসব ফসল বাজারে বিক্রি করে বা বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয় , তাদের অর্থকরী ফসল বলে । যেমন – চা , পাট , তামাক ইত্যাদি ।  

তত্ত্বজাতীয় ফসল কী ? 

Ans: যেসব ফসল আঁশ বা তত্ত্ব সংগ্রহের জন্য বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয় , তাদের তত্ত্বজাতীয় ফসল বলে । যেমন — পাট , তুলা ইত্যাদি । 

হর্টিকালচার শস্য কাকে বলে ? 

Ans: বড়ো বড়ো শহর , নগর ও মহানগরের দৈনন্দিন শাকসবজি , ফলমূলের চাহিদা মেটানোর জন্য শহরতলি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে যে চাষাবাদ করা হয় , তাকে হটিকালচার বলে । 

সোনালি পানীয় কাকে বলে ? 

Ans: ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় পার্বত্য অঞ্চলে চা উৎপাদন করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য হিসেবে তা রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয় , তাই একে সোনালি পানীয় বলে । 

বিশুদ্ধ ও অবিশুদ্ধ কাঁচামাল কাকে বলে ? 

Ans: যে সমস্ত কাঁচামালের ওজন ও উৎপন্ন শিল্পজাত দ্রব্যের ওজন সমান থাকে , তাদের বিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে । যেমন — তুলো , পাট , পশম ইত্যাদি । যে সমস্ত কাঁচামালের ওজন ও উৎপন্ন শিল্পজাত দ্রব্যের ওজন সমান থাকে না , হ্রাস পায় , তাদের অবিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে । যেমন- লোহা , তামা , আখ , চা ইত্যাদি । 

 

পণ্যসূচক কী ? 

Ans: কোনো শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওজন ও উৎপাদিত পণ্যের ওজনের অনুপাতকে বলা হয় পণ্যসূচক । পণ্যসূচকের মান 1 – এর কম হলে বিশুদ্ধ আর 1 এর বেশি হলে অবিশুদ্ধ হয় ।

ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প কী ? 

Ans: যেসকল শিল্পে লৌহ – ইস্পাতকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি , = ব্লকবজা , যন্ত্রাংশ তৈরি করা হয় , তাকে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বলে । 

অনুসারী শিল্প কাকে বলে ? 

Ans: কোনো বৃহদায়তন শিল্পের উপর ভিত্তি করে যখন পাশাপাশি অসংখ্য ছোটো শিল্প গড়ে ওঠে , তাকে অনুসারী শিল্প বলে । যেমন — পেট্রোরসায়ন শিল্পে উৎপাদিত দ্রব্যের উপর ভিত্তি করে হলদিয়াতে অনেক অনুসারী শিল্পের বিকাশ ঘটেছে । 

উদীয়মান শিল্প কাকে বলে ? 

Ans: বর্তমানে পেট্রোরসায়ন শিল্পজাত দ্রব্যের চাহিদা হু হু করে বেড়েই চলেছে । এই শিল্পের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল । তাই এই শিল্পকে উদীয়মান শিল্প বলে । খনিজ তেল শোধনাগারের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অসংখ্য শিল্পের বিকাশ একসাথে হয় বলে এদের আধুনিক শিল্পের দানব বলে । 

আমেদাবাদকে ভারতের ম্যাঞেস্টার কেন বলা হয় ? 

Ans: ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার শহরের ম্যাঞ্চেস্টারে আমদানিকৃত তুলার উপর ভিত্তি করে অসংখ্য বস্ত্রশিল্প গড়ে উঠেছে । ঠিক তেমনি ভারতের গুজরাট রাজ্যের আমেদাবাদ শহরে স্থানীয় তুলার উপর ভিত্তি করে অসংখ্য বস্ত্রশিল্প গড়ে উঠেছে । তাই আমেদাবাদকে বলা হয় ভারতের ম্যাঞেস্টার । 

দুর্গাপুরকে ভারতের রুঢ় বলা হয় কেন ?

Ans: জার্মানির রাইন নদীর উপনদী রুঢ় উপত্যকায় উন্নতমানের কয়লার উপর ভিত্তি করে লৌহ – ইস্পাত শিল্প , ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প গড়ে উঠেছে । ঠিক তেমনি ভারতের দামোদর নদের তীরে রানিগঞ্জ ও ঝরিয়া কয়লাখনির উপর ভিত্তি করে অসংখ্য লৌহ – ইস্পাত শিল্প , ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প গড়ে উঠেছে । তাই বুঢ় শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করে দুর্গাপুরকে বলা হয় ভারতের বুঢ় । 

Foot Loose Industry বা শিকড় আলগা শিল্প কী ? 

Ans: কার্পাসবয়ন শিল্পকে শিকড় আলগা শিল্প বলে । এই শিল্পের মুখ্য কাঁচামাল হলো বিশুদ্ধ প্রকৃতির । এর পণ্যসূচকের মান 1। এই শিল্প উৎপাদক অঞ্চল ও বাজারের মধ্যবর্তী সুবিধামতো যেকোনো জায়গায় গড়ে উঠতে পারে । তাই এই শিল্পকে বলা হয় শিকড় আলগা শিল্প । 

SAIL কী ?

Ans: 1973 সালে ভারত সরকার লৌহ – ইস্পাত শিল্পের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের লক্ষ্যে Steel Authority of India Limited নামক সংস্থা স্থাপন করে । এই সংস্থার সদর দপ্তর কলকাতা ( পূর্ব ভারতের ) , দিল্লি ( সমগ্র ভারতের ) 

আউট সোর্সিং কাকে বলে ? 

Ans: সস্তা , সুলভ ও দক্ষ শ্রমিকের সাহায্যে বহুজাতিক সংস্থাগুলির ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ করিয়ে নেওয়ার পদ্ধতিকে বলা হয় আউট সোর্সিং । 

বেঙ্গালুরুকে ভারতের সিলিকন ভ্যালি কেন বলা হয় ? 

Ans: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান্টা ক্লারা ভ্যালি অঞ্চলে সিলিকন ভিত্তিক ইলেকট্রনিকের সর্বাধিক বিকাশ ঘটেছে । ঠিক তেমনি ভারতের কর্নাটক রাজ্যের বেঙ্গালুরুতে সিলিকনভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সর্বাধিক সমাবেশ দেখা যায় , তাই বেঙ্গালুরুকে ভারতের সিলিকন ভ্যালি বলা হয় । 

জনঘনত্ব কাকে বলে ? 

Ans: কোনো দেশের মোট জনসংখ্যাকে সেই দেশের মোট জমির পরিমাণ দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যায় , তাকেই বলা হয় জনঘনত্ব । এটি একটি দ্বিমাত্রিক ধারণা । 

জনসংখ্যা অভিক্ষেপ কাকে বলে ? 

Ans: বিগত বছরগুলির জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিসংখ্যান পর্যালোচনার দ্বারা বিশ্বের জনসংখ্যা বাড়তে বাড়তে কোথায় গিয়ে দাড়াবে তার পূর্বাভাস দেওয়া যায় । এইবুপ জনসংখ্যা বৃদ্ধির পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে জনসংখ্যা পরিসংখ্যানের আগাম পূর্বাভাস দেওয়াকে বলা হয় জনসংখ্যা অভিক্ষেপ । 

শূন্য বা স্থিতিশীল জনসংখ্যা কাকে বলে ?

Ans: দীর্ঘদিন ধরে কোনো দেশ বা অঞ্চলের জনসংখ্যা যখন বাড়েও না কমেও না , তখন জনসংখ্যার সেই অপরিবর্তিত অবস্থাকে বলা হয় শূন্য জনসংখ্যা বা স্থিতিশীল জনসংখ্যা ।

জনবিস্ফোরণ বলতে কী বোঝো ? 

Ans: কোনো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অতিদ্রুত হারে হলে একসময় দেশের মোট জনসংখ্যা তার কার্যকরী সম্পদের অনুপাতের অধিক হয় । তার ফলে জাতীয় মাথাপিছু সম্পদের পরিমাণ কমে যায় , দেশে বেকারি , অপুষ্টি , দারিদ্র্য ইত্যাদি বৃদ্ধি পায় । জনসংখ্যার এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে বলা হয় জনবিস্ফোরণ । 

পরিব্রাজন কাকে বলে ? 

Ans: স্থায়ী বা সাময়িকভাবে নতুন স্থানে বসবাস করার উদ্দেশ্যে ভৌগোলিক সীমারেখা দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চল থেকে অন্য কোনো অঞ্চলে বাসস্থান পরিবর্তনকে বলা হয় পরিব্রাজন । 

শহর কাকে বলে ? 

Ans: ভারতের কোনো অঞ্চলের জনসংখ্যা 5000 বা তার বেশি , জনঘনত্ব 400 জন / বর্গ কিমি , বাসিন্দাদের 75 শতাংশের বেশি দ্বিতীয় স্তরের কর্মের সঙ্গে যুক্ত হলে তখন তাকে বলা হয় শহর । 

নগর কাকে বলে ?

Ans: শহরের কার্যাবলি যখন নিবিড় থেকে নিবিড়তর ও বিস্তৃত হয় , বসতির ঘনত্ব আরও বৃদ্ধি পায় , পৌর কাজকর্মের পরিধি আরও বিস্তৃত হয় এবং পৌর পরিষেবা 
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাভিত্তিক প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের অর্থনৈতিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | 

ভারতীয় কৃষির সমস্যা ও সমাধান সংক্ষেপে লেখো ।

Ans: সমস্যা : 1) মৌসুমি বৃষ্টিপাতের উপর অধিক নির্ভরশীলতা । 2) উন্নতমানের বীজ ও রাসায়নিক সারের অভাব । 3) জলসেচের সুবন্দোবস্তের অভাব । 4) উন্নত প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির অভাব । 5) কৃষি প্রশিক্ষণ ও গবেষণার অভাব । 
সমাধান : 1) সরকারি উদ্যোগে কৃষিজ দ্রব্য বাজারজাত ও সংরক্ষেণের ব্যবস্থা করতে হবে । 2) উন্নতমানের সার ও বীজের ব্যবহার বাড়াতে হবে । 3) কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে হবে । 4) বেশি করে কৃষি গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করতে হবে । 

ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প এত উন্নত হলো কেন ? 

Ans: ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প উন্নত , কারণ— 1) কম্পিউটারে দক্ষ মেধাসম্পন্ন মানুষের সংখ্যা বেশি । 2) সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । 3) এই শিল্পে প্রয়োজনীয় শ্রমিকের জোগানের জন্য তৈরি করা হয়েছে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র । 4) এই শিল্পে প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় সরকার সংস্থাগুলিকে বিশেষ ছাড় দিয়েছে । 5) ভারতে এই শিল্পের অতিদ্রুত উন্নতি হওয়ায় দেশ ও বিদেশে চাহিদা অত্যন্ত বেড়েছে । 

রেলপথ ও সড়কপথের গুরুত্ব ও সুবিধা কী ?

Ans: রেলপথের গুরুত্ব ও সুবিধা : দ্রুত ও সহজেই পরিবহণ করা যায় । মজুত ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা আছে । একসঙ্গে বহু পণ্য পরিবহণ করা সম্ভব । খুব ভ্রমণ অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য । 
সড়কপথের গুরুত্ব ও সুবিধা : স্বল্প দূরত্বে খুব সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানো সম্ভব । খুব দ্রুত ও সুলভ পরিবহণ ব্যবস্থা । বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে যাতাযাতের সুবিধা ও নিরাপদ ভ্রমণ , আর্থিক সমৃদ্ধি প্রভৃতি কারণে এই পথের গুরুত্ব অপরিসীম । 

জনঘনত্বের বৈশিষ্ট্যগুলি কী ? 

Ans: কোনো দেশের মোট জনসংখ্যাকে সেই দেশের মোট জমির পরিমাণ দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যায় তা হলো জনঘনত্ব । এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো জনঘনত্ব সর্বদা পূর্ণমানে প্রকাশ করা হয় । এটি কোনো অঞ্চলের জনসংখ্যার আধিক্য বা স্বল্পতাকে সূচিত করে । এর থেকে কোনো অঞ্চলের জনসংখ্যার পরিসংখ্যান সহজে বোঝা যায় । 

ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যাগুলি কী ?

Ans: শিক্ষা , স্বাস্থ্য ও ভারতের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমস্যাগুলি হলো— 1) জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনিত কারণে খাদ্যের সমস্যা দেখা দেয় । 2) বেকারত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পায় । 3) অর্থনীতির উপর প্রতিকূল প্রভাব পড়ে । 4) জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জমির উপর প্রতিকূল ভাব পড়ে । 5) জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জমির উপর ক্রমাগত চাপ বাড়ে । 6) অর্থনৈতিক দিক থেকে দেশ পিছিয়ে পড়ে । 

জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মাথাপিছু উৎপাদন কম হয় । ও বহুমুখী নদী পরিকল্পনার গুরুত্ব লেখো ।

Ans: নদীকে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য যে পরিকল্পনা করা হয় । তাকে বহুমুখী বহুমুখী নদী পরিকল্পনা বলে । 
এই পরিকল্পনার গুরুত্ব হলো— 
বন্যা নিয়ন্ত্রণ , জলবিদ্যুৎ উৎপাদন , ও পানীয় জল সরবরাহ , জলসেচ ব্যবস্থার উন্নতি , মাছ চাষ , জলপথে পরিবহণ , ভূমিক্ষয় রোধ , পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা ইত্যাদি ।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ভূগোল – ভারতের অর্থনৈতিক বিভাগ (ভারত – পঞ্চম অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | 

ভারতীয় কৃষির বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে লেখো ।

Ans: ভারত একটি কৃষিপ্রধান দেশ । ভারতের অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত । ভারতের কৃষির কিছু মৌলিক বৈশিষ্ট্য আছে । যথা— 
জীবিকাসত্তাভিত্তিক কৃষি : ভারত পৃথিবীর দ্বিতীয় জনবহুল দেশ । এদেশের অধিকাংশ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত । এখানকার কৃষি শ্রমনিবিড় । অত্যধিক জনসংখ্যার বিপুল চাপ থাকায় এখানে কেবলমাত্র খাদ্যশস্যের চাষ হয় , ফলে উদ্বৃত্ত ফসল অল্প পরিমাণে বাজারে বিক্রি করে অন্যান্য চাহিদা পূরণ করা হয় । 
মৌসুমি বৃষ্টির উপর নির্ভরতা : ভারতে কৃষিজ ফসলের চাষ ও উৎপাদন অধিকাংশই মৌসুমি বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করে । দক্ষিণ – পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে কৃষিকাজ করা হয় এবং শীতকালে বৃষ্টিপাতের অভাবে জলসেচের মাধ্যমে কৃষিকাজ করা হয় । 
জনসংখ্যার চাপ : কৃষিজমির তুলনায় জনসংখ্যার চাপ অত্যধিক হওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণের জন্য কৃষির উপর চাপ বেড়েই চলেছে । 
কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার : অধিক ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে জমিতে অত্যধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করার ফলে জমির উর্বরাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে । 
অন্যান্য : 1) কৃষিজমিতে পশুশক্তির প্রাধান্য । 2) জলসেচের ব্যবহার । 3) ক্ষুদ্রাকৃতির জমিজোত ৷ 4) পশুখাদ্যের অভাব । 5) বহুশস্যের উৎপাদন । 6) মাথাপিছু কৃষিজ উৎপাদনের হার কম । 7) খাদ্যশস্যের প্রাধান্য । 8) পশুখাদ্যের অভাব । 

পূর্ব ও মধ্যভারতে লৌহ – ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র গড়ে ওঠার কারণ ব্যাখ্যা করো । 

Ans: পূর্ব ও মধ্যভারতে লৌহ – ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র গড়ে ওঠার কারণগুলি হলো – 
কাঁচামালের সহজলভ্যতা : বিহারের সিংভূম , ছত্তিশগড়ের বাইলাডিলা , ওড়িশার ময়ুরভঞ্জ প্রভৃতি অঞ্চলের ম্যাগনেটাইট ও হেমাটাইট জাতীয় লৌহ – আকরিকের সুবিধা এবং ঝাড়খণ্ডের ঝরিয়া , বোকারো পশ্চিমবঙ্গের রানিগঞ্জ , ওড়িশার তালচের থেকে প্রচুর কয়লা পাওয়ার সুবিধা । 
জল ও বিদ্যুৎশক্তির জোগান : দামোদর , সুবর্ণরেখা , মহানদী প্রভৃতি নদীর জল পাওয়ার সুবিধা থাকায় এবং দামোদর ও হিরাকুন্দের জলবিদ্যুৎ পাওয়ার সুবিধা ও ফারাক্কা , দুর্গাপুর , বোকারো কেন্দ্র প্রভৃতি থেকে তাপবিদ্যুৎ পাওয়ার সুবিধা । 
উন্নত পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা : পূর্ব ও দক্ষিণ – পূর্ব রেলপথ , উন্নত সড়কপথের সুবিধা থাকায় শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের জোগান ও উৎপাদিত দ্রব্য বাজারজাত করতে সুবিধা হয় । ” 
সুলভ ও দক্ষ শ্রমিক : পশ্চিমবঙ্গ , বিহার , ঝাড়খণ্ড , ওড়িশা ও ছত্তিশগড় প্রভৃতি রাজ্য থেকে প্রচুর সুলভ ও দক্ষ শ্রমিকের জোগান থাকায় এই শিল্প গড়ে উঠেছে । 
বন্দরের সুবিধা ও বাজারে চাহিদা : কলকাতা , হলদিয়া , পারাদ্বীপ প্রভৃতি বন্দরের সুবিধা থাকায় আর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বাজারে বিপুল চাহিদা থাকায় এই শিল্প গড়ে উঠেছে । 

ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প গড়ে ওঠার কারণ কী ? 

Ans: যে শিল্পে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও কলাকৌশল দ্বারা ইস্পাত ব্যবহার করে যন্ত্রাংশ ও যন্ত্রপাতি , পরিবহণ সরঞ্জাম , বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয় , তাকে ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প বলে । ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প গড়ে ওঠার কারণগুলি হলো –
ধাতব দ্রব্যের জোগান : সাধারণত ইস্পাত , তামা ও অ্যালুমিনিয়াম প্রভৃতি ধাতব দ্রব্যের উপর নির্ভর করে এই শিল্প গড়ে ওঠে । 
বিদ্যুৎ শক্তির জোগান : এই শিল্পে হাই ও লো ভোল্টেজসম্পন্ন বিদ্যুতের প্রয়োজন । নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জোগান এই শিল্প গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে। 
অতিসুদক্ষ শ্রমিকের জোগান : হাওড়া , বেঙ্গালুরু প্রভৃতি অঞ্চল থেকে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন মেধাবী সুদক্ষ ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিকের জোগান থাকায় প্রধানত এই শিল্প গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে । 
শিল্প সমাবেশ : যে সমস্ত অঞ্চলে পূর্ব থেকে অসংখ্য শিল্পের সমাবেশ লক্ষ | করা যায় সেই সমস্ত স্থানেই এই শিল্প গড়ে উঠেছে । 
অন্যান্য দ্রব্যের জোগান : এই শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় রবারের দ্রব্য , রং , প্লাস্টিক প্রভৃতির প্রয়োজন যা বিভিন্ন পেট্রোরসায়ন শিল্পের অনুসারী শিল্পকেন্দ্র থেকে পাওয়া যায় । 

পশ্চিম ভারতে পেট্রোরসায়ন শিল্প গড়ে ওঠার কারণ কী ? 

Ans: খনিজ তেলের উপজাত দ্রব্যকে কাজে লাগিয়ে যে শিল্প গড়ে উঠে , তাকে পেট্রোরসায়ন শিল্প বলে । পেট্রোরসায়ন শিল্প গড়ে ওঠার কারণগুলি হলো— 
কাঁচামালের জোগান : ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থিত তৈল শোধানাগার যথা – ট্রম্বে , জামনগর , কয়ালি প্রভৃতি থেকে এই শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সহজেই পাওয়া যায় । 
বিদ্যুৎ শক্তির জোগান : কায়না জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র , তারাপুর , কাকড়াপাড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই শিল্পের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খুব সহজে পাওয়া যায়। 
বন্দরের সুবিধা : মুম্বই , কান্ডালা প্রভৃতি বন্দরের মাধ্যমে খনিজ তেল , যন্ত্রপাতি , উৎপাদিত দ্রব্য আমদানি ও রপ্তানিতে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায় । 
শিল্প কাঠামো : সড়কপথ , জলপথ পশ্চিম ও পূর্ব ভারতে বেশ উন্নত থাকায় এই শিল্প স্থাপনে সুবিধা হয়েছে । 
দক্ষ ও সুলভ শ্রমিক : এই অঞ্চল জলবহুল হওয়ায় শিক্ষিত , দক্ষ সুলভ ইঞ্জিনিয়ার ও শ্রমিকের জোগান থাকায় এই শিল্প গড়ে উঠতে সুবিধা হয়েছে । 
মূলধনের জোগান ও চাহিদা : টাটা , রিলায়েন্সের মতো শিল্পগোষ্ঠী থাকায় মূলধনের কোনো অসুবিধা হয় না এবং এই দেশ জলবহুল বলে চাহিদা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে । ফলে এই শিল্প গড়ে উঠতে বিশেষ সহায়ক হয়েছে । 

পশ্চিম ভারতে কার্পাস বয়ন শিল্পের কেন্দ্রীভবনের কারণ কী?

 Ans. 



ভারতে নগর বা শহর গড়ে ওঠার প্রধান কারণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করো । 

Ans: প্রাকৃতিক কারণ : 
মনোরম জলবায়ু : ভারতের যে সমস্ত অঞ্চলের জলবায়ু সমভাবাপন্ন ও মনোরম প্রকৃতির সেখানে শহর বা নগর গড়ে ওঠে । যেমন- দার্জিলিং , সিমলা , দেরাদুন ইত্যাদি ।
কৃষিজাত ও খনিজ দ্রব্য উৎপাদক অঞ্চল : ভারতের যেসব অঞ্চলে ফসল অধিক পরিমাণে উৎপাদন হয় কিংবা যেখানে খনিজ সম্পদের আধিক্য রয়েছে সেখানে । জনবসতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় , ফলে নগর বা শহর গড়ে ওঠে । 
ভৌগোলিক কারণ : সমুদ্র বা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে , সমভূমি অঞ্চলে পানীয় জলের সুবিধা , মনোরম পরিবেশ , খনিজ সম্পদের আধিক্য থাকায় ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় , ফলে নগর বা শহর গড়ে ওঠে । 
অর্থনৈতিক পরিবেশ : 
শিল্প ও শিক্ষাকেন্দ্রের অবস্থান : ভারতের যেসব স্থানে উন্নতমানের শিল্প ও উন্নতমানের শিক্ষাকেন্দ্র অবস্থান করে সেইসব স্থানে জনবসতির ক্রমাগত আধিক্য লক্ষ করা যায় । ফলে নগর বা শহর গড়ে ওঠে। 
উন্নত পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা : ভারতের যেসব স্থানে পরিবহণ ও যোগাযোগের সুযোগ বেশি সেখানে জনসমাবেশ বেশি ঘটে বলে শহর বা নগর গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে । 
ঐতিহাসিক স্থান ও পর্যটন কেন্দ্র : ভারতের যে সমস্ত স্থান ঐতিহাসিক নিদর্শনের দিক দিয়ে সমৃদ্ধ সেই স্থানগুলিকে কেন্দ্র করে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে । যেমন — আগ্রার তাজমহল , দিল্লির লালকেল্লা ইত্যাদি। 

ভারতের জনসংখ্যা বণ্টনের তারতম্যের কারণ কী তা সংক্ষেপ আলোচনা করো । 

Ans: ভারতের জনসংখ্যা বণ্টনের তারতম্যের কারণগুলি হলো— 
 ভূপ্রকৃতি : সাধারণত জনবসতি গড়ে উঠে ভূমির উচ্চতা , বন্ধুরতা প্রভৃতি উপাদানের উপর ভিত্তি করে । যেমন- পার্বত্য অঞ্চলে বিশেষ কোনো সুবিধা না থাকায় সেখানে জনবসতি গড়ে উঠেছে খুবই কম । কিন্তু সমভূমি অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা ( যাতায়াত , মনোরম পরিবেশ প্রভৃতি ) থাকায় জনবসতি অধিক লক্ষ করা যায় । 
  জলবায়ু : জনসংখ্যার স্থানীয় বণ্টনে জলবায়ু বিশেষ ভূমিকা পালন করে । কারণ বৃষ্টিহীন এলাকায় অর্থাৎ যেখানে মরুভূমি সৃষ্টি হয়েছে সেখানে জনসংখ্যা ও অতিনগণ্য । কিন্তু যেসব অঞ্চলে মনোরম জলবায়ু বিরাজ করে সেই সমস্ত অঞ্চলে জনসংখ্যা অধিক । 
  নদনদী : ভারতের বিভিন্ন নদনদী অববাহিকা খুবই উর্বর এবং জলসেচ , | জলবিদ্যুৎ , পানীয় জল , ফসল উৎপাদন প্রভৃতির সুবিধা থাকায় সেখানে জনসংখ্যা অধিক লক্ষ করা যায় ।


পরবর্তী আপডেট পাওয়ার জন্য ওয়েবসাইট কিংবা youtube এর সঙ্গে অবশ্যই জুড়ে থাকুন 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Madhyamik History Suggestion 2025 | মাধ্যমিক ইতিহাস সাজেশন

West Bengal Class 9 LifeScience Suggestion।।নবম শ্রেণীর জীবন বিজ্ঞান 2022 | তৃতীয় অধ্যায় | জৈবনিক প্রক্রিয়া||

Class 7 Second Unit Test Model Question 2022