মাধ্যমিক সম্পূর্ণ সাজেশন 2022 (দ্বিতীয় অধ্যায় )
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ইতিহাস – সংস্কার বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (দ্বিতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik History Question and Answer :
- বাংলায় কোন শতককে ‘ নবজাগরণের শতক ‘ বলা হয় ?
Ans: ঊনবিংশ শতককে ।
- এশিয়াটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠা কে করেন ? Ans: উইলিয়াম জোন্স ( ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে ) ।
- মেকলে কে ছিলেন ?
Ans: লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক – এর সচিব এবং ‘ মেকলে মিনিটস ’ – এর প্রবর্তক ছিলেন ।
- চার্লস উড কে ছিলেন ?
Ans: বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি ।
- কোন গভর্নর জেনারেল এর আমলে সতীদাহ নিবারণ আইন প্রবর্তিত হয় ?
Ans: লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক – এর সময়ে ।
- স্কুল বুক সোসাইটি কে প্রতিষ্ঠা করেন ?
Ans: ডেভিড হেয়ার ।
- কে ‘ স্ত্রীশিক্ষা বিধায়ক ‘ নামক পুস্তিকা প্রকাশ করেন ?
Ans: রাধাকান্ত দেব ( ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে ) ।
- কে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছিলেন ?
Ans: চার্লস উড তাঁর ডেসপ্যাচ বা নির্দেশনামার মাধ্যমে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেন ।
- হিন্দু কলেজ যাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন তাঁদের নাম উল্লেখ করো ।
Ans: স্যার হাইড ইস্ট , বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় , রাধাকান্ত দেব ।
- হিন্দু কলেজের পরবর্তীতে যে নাম হয় তা কী ?
Ans: প্রেসিডেন্সি কলেজ ।
- বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম মাসিক পত্রিকার নাম কী ?
Ans: ‘ দিগ্দর্শন ’ ।
- বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকার নাম কী ?
Ans: ‘ সমাচার দর্পণ ‘ ।
- ‘ সম্বাদ কৌমুদী’র সম্পাদনা কে শুরু করেন ?
Ans: রামমোহন রায় ।
- বামাবোধিনী সভা কবে স্থাপিত হয় ?
Ans: 1863 খ্রিস্টাব্দে ।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ?
Ans: লর্ড ওয়েলেসলি ।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ?
Ans: 1800 খ্রিস্টাব্দে ।
- শ্রীরামপুর কলেজ কত খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ?
Ans: 1818 খ্রিস্টাব্দে ।
- ‘ হুতুম পাচার নকশা ‘ কার লেখা ?
Ans: কালীপ্রসন্ন সিংহ ।
- কত খ্রিস্টাব্দে ‘ মেকলে মিনিট ’ পেশ করা হয় ?
Ans: 1835 খ্রিস্টাব্দে ।
- অ্যাংলো হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন কে ?
Ans: রামমোহন রায় , 1815 খ্রিস্টাব্দে ।
- আত্মীয়সভা ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন ?
Ans: রাজা রামমোহন রায় ( 1815 খ্রি ।
- সতীদাহ প্রথা নিবারণ আইন কে পাশ করেন ?
Ans: লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ।
- আধুনিক ভারতের জনক কাকে বলা হয় ?
Ans: রাজা রামমোহন রায়কে ।
- নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর দু’টি মুখপত্রের নাম লেখো ।
Ans: ‘ জ্ঞানান্বেষণ ’ , ‘ এনকোয়ারার ’ ।
- হাজি মহম্মদ মহসিন কে ছিলেন ?
Ans: একজন ধর্মপ্রাণ মহান লোকহিতৈষী ব্যক্তি ।
- ‘ যত মত তত পথ ‘ এই মতবাদের প্রবক্তা কে ?
Ans: রামকৃষ্বদেব ।
- রামকৃষ্ণ মিশন কে প্রতিষ্ঠা করেন ?
Ans: স্বামী বিবেকানন্দ ( 1897 খ্রি
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ইতিহাস – সংস্কার বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (দ্বিতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik History Question and Answer :
- বামাবোধিনী পত্রিকার উদ্দেশ্য কী ছিল ?
Ans: 1863 খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত এই পত্রিকার উদ্দেশ্য ছিল সমকালীন সমাজের অস্ত্র পুরস্থ মহিলাদের শিক্ষাদানের মাধ্যমে পুরুষ সমাজের শাসনের হাত থেকে মুক্তিদান করা ।
- হুতোম প্যাঁচার নকশা কবে প্রকাশিত হয় ?
Ans: কালীপ্রসন্ন সিংহের লেখা গ্রন্থটি 1862 খ্রিস্টাব্দে প্রথম খণ্ড ও 1864 খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয় ।
- মেকলে মিনিট কী ? অথবা মেকলে মিনিট বলতে কী বোঝো ?
Ans: ইংরেজি তথা পাশ্চাত্য শিক্ষার সমর্থনে উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের আইন সচিব মেকলে 1835 খ্রিস্টাব্দে যে প্রতিবেদন পেশ করেন , তা মেকলে মিনিট নামে খ্যাত ।
- ‘ গ্রামবার্তাপ্রকাশিকা’য় সমাজের কোন দিকগুলি তুলে ধরা হয়েছে ?
Ans: সমকালীন সমাজের জমিদার , নীলকর , মহাজন , চাষি প্রভৃতি সম্প্রদায়ের উল্লেখ রয়েছে । কাঙাল হরিনাথ সম্পাদিত এই পত্রিকায় সুদখোর মহাজন , অত্যাচারী নীলকর এবং জমিদার শ্রেণির শোষণের কথা তুলে ধরা হয়েছে । 5. প্রশ্ন উডের ডেসপ্যাচ কী ? / পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের ম্যাগনা কার্টা বলতে কী বোঝো ?
Ans: বোর্ড অব কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড 1854 খ্রিস্টাব্দে শিক্ষা সংক্রান্ত যে নির্দেশনামা ঘোষণা করেন তা পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের ‘ ম্যাগনা কার্টা ‘ বা উডের ডেসপ্যাচ নামে পরিচিত ।
- উডের ডেসপ্যাচের সুপারিশগুলি কী ?
Ans: 1) কলকাতা , বোম্বাই , মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা । 2) পৃথক শিক্ষা দপ্তর ও শিক্ষক শিক্ষন বিদ্যালয় স্থাপন করা । 3) সরকারি অনুদান দিয়ে বিদ্যালয়গুলিকে উন্নত করে তোলা ।
- স্কুল সোসাইটি কে , কেন , কবে প্রতিষ্ঠা করেন ?
Ans: কলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যালয় গঠনের উদ্দেশ্যে 1818 খ্রিস্টাব্দে ডেভিড হেয়ারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় স্কুল সোসাইটি ।
- প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দ্বন্দ্বের অবসান কীভাবে হয়েছিল ?
Ans: 1813 খ্রিস্টাব্দের পর থেকে প্রাচ্য – পাশ্চাত্য শিক্ষা নিয়ে যে দ্বন্দ্ব চলছিল , 1835 খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের নির্দেশে মেকলের ঘোষণার দ্বারা সেই প্রাচ্য – পাশ্চাত্য দ্বন্দ্বের অবসান হয় ।
- শ্রীরামপুর ত্রয়ী কাদের বলা হয় ?
Ans: শ্রীরামপুরের খ্রিস্টান মিশনারি উইলিয়াম কেরি , উইলিয়াম ওয়ার্ড এবং মার্শম্যানকে একত্রে শ্রীরামপুর ত্রয়ী বলা হয় ।
- স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী ?
Ans: 1817 খ্রিস্টাব্দে ডেভিড হেয়ারের উদ্যোগে স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল – গরিব ও দুঃস্থ ছাত্রদেরবিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা ।
- নববিধান / নববিধান ব্রাহ্মসমাজ কী ?
Ans: 1880 খ্রিস্টাব্দে কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে ভারতীয় ব্রাহ্ম সমাজ পরিবর্তিত হয়ে গড়ে ওঠে এই নববিধান ব্রাহ্মসমাজ ।
- কবে , কার নেতৃত্বে ব্রাক্মসমাজ গড়ে ওঠে ?
Ans: 1828 খ্রিস্টাব্দে রামমোহন রায়ের নেতৃত্বে গঠিত ব্রাহ্মসভা যা পরের বছর ব্রাহ্মসমাজে পরিবর্তিত হয় ।
- লালন ফকির কে ছিলেন ?
Ans: হিন্দু ও মুসলিম ধর্মশাস্ত্রের বিশ্লেষক তথা উনিশ শতকের বাংলার একজন বাউল সাধক ছিলেন লালন ফকির ।
- নব্যবঙ্গ আন্দোলন কী ?
Ans: হিন্দু কলেজের অধ্যক্ষ ডিরোজিও – এর নেতৃত্বে ঊনবিংশ শতকের প্রথমার্ধে ধর্মীয় , সামাজিক ও পাশ্চাত্য শিক্ষা সংক্রান্ত যে আন্দোলন হয়েছিল তা নব্যবঙ্গ আন্দোলন নামে পরিচিত ।
- নীলদর্পণ নাটক কার রচনা ? কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে রচিত হয় ?
Ans: দীনবন্ধু মিত্র রচিত ‘ নীলদর্পণ ‘ মূলত নীলচাষিদের ওপর নীলকর সাহেবদের অকথ্য অত্যাচারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছিল ।
বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ইতিহাস – সংস্কার বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (দ্বিতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik History Question and Answer :
- বাংলায় নারীশিক্ষা বিস্তারে ড্রিঙ্কওয়াটার বিটনের ( বেথুন ) উদ্যোগ সম্পর্কে লেখো ।
অথবা , নারীশিক্ষা প্রসারে বেথুন সাহেবের অবদান কী ছিল ?
Ans: ভূমিকা ঃ বাংলায় মেয়েদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে যে সমস্ত বিদেশি অগ্রণী ভূমিকা নেন , তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন কাউন্সিল অব এডুকেশনের সভাপতি ড্রিঙ্কওয়াটার বিটন ।
ভারতে আগমন : ১৮৪৮ সালের এপ্রিল মাসে বড়োলাটের আইন পরিষদের সদস্য হিসেবে ভারতে আসেন বিটন বা বেথুন সাহেব ।
ভারতপ্রেম : তিনি বিদেশি হলেও ভারতীয়দের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ । ছিলেন । তার এই মানসিকতার জন্য তিনি শ্বেতাঙ্গ সমাজের বিরাগভাজন হন ।
শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা : তিনি বাংলার পাশাপাশি এদেশে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসারে জোর দেন । এজন্য ১৮৪৯ সালে হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন । পরে একটি মহিলা কলেজও স্থাপন করেন । এখন এটি বেথুন স্কুল ও বেথুন কলেজ রূপে পরিচিত ।
মূল্যায়ন : এদেশে নারীশিক্ষা প্রসারে বেথুন সাহেব চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন ।
- এদেশে শিক্ষাবিস্তারে প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক আলোচনা করো ।
Ans: সূচনা : উনিশ শতকের ভারতে শিক্ষাবিস্তারে যে জোয়ার এসেছিল সেক্ষেত্রে ভারতীয়দের পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের উদ্যোগও ছিল যথেষ্ট । ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া | কোম্পানি প্রথম পর্বে প্রাচ্য শিক্ষাবিস্তারের ওপরই জোর দিয়েছিল । কিন্তু পরবর্তীকালে ভারতে প্রাচ্য না পাশ্চাত্য কোন শিক্ষাবিস্তার ঘটবে তা নিয়েই শুরু হয় প্রাচ্য – পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব ।
1813 খ্রিস্টাব্দের সনদ আইন : ব্রিটিশ সরকার 1813 খ্রিস্টাব্দের সনদ আইন অনুসারে শিক্ষাখাতে বার্ষিক এক লক্ষ টাকা ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেয় । কিন্তু সেই টাকা প্রাচ্য না পাশ্চাত্য কোন খাতে ব্যয় করা হবে তা নিয়ে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য শিক্ষার সমর্থকদের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব যা প্রাচ্য – পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব নামে পরিচিত ।
মিশনারি ও বুদ্ধিজীবীদের মতামত : ভারতে শিক্ষাবিস্তারের ব্যাপারে খ্রি : মিশনারিরা প্রথম থেকেই ইংরেজি শিক্ষাবিস্তারের সমর্থক ছিলেন । কারণ তাঁরা মনে করতেন এর ফলে ভারতে হিন্দুরা তাদের ধর্মের অসারতা বুঝতে পারবে । আবার বুদ্ধিজীবীরা মনে করতেন ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রবর্তিত হলে গোঁড়া হিন্দুরা কুসংস্কার ও কুপ্রথা মুক্ত হয়ে মনুষত্ব লাভ করবে ।
প্রাচ্যবাসীদের অভিমত : দেশীয় শিক্ষার সমর্থকদের দাবি ছিল কোম্পানির শিক্ষানীতির লক্ষ্য হোক ভারতীয় ভাষা – সাহিত্য , দর্শন । তাই তাঁরা দেশীয় প্রাচ্য শিক্ষাকে সমর্থন করেছিলেন । এই প্রাচ্য শিক্ষানীতির সমর্থক ছিলেন কোলব্রুক , স্যার প্রিন্সেপ , উইলসন প্রমুখ ।
দ্বন্দ্বের অবসান : উপরোক্ত প্রাচ্য – পাশ্চাত্য দ্বন্দ্বের অবসানের জন্য অবশেষে জেনারেল কমিটি অব পাবলিক ইন্সট্রাকসনের সভাপতি লর্ড মেকলে দায়িত্ব নেন । 1835 খ্রিস্টাব্দে 2 ফেব্রুয়ারি মেকলে তাঁর রিপোর্টে পাশ্চাত্য শিক্ষাকেই সমর্থন করেন । এইভাবে প্রাচ্য – পাশ্চাত্য দ্বন্দ্বের অবসান হয় ।
- ডেভিড হেয়ার স্মরণীয় কেন ?
অথবা , পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারের ক্ষেত্রে ডেভিড হেয়ারের উদ্যোগ সম্পর্কে লেখো ।
Ans: সূচনা : ভারতের ইতিহাসে পাশ্চাত্য শিক্ষাবিস্তারে একজন অগ্রণী ব্যক্তিত্ব ছিলেন ডেভিড হেয়ার । বেসরকারি উদ্যোগে শিক্ষার প্রসারে তাঁর নিরলস ভূমিকা সর্বজনবিদিত । একজন বিদেশি ঘড়ি ব্যবসায়ী হিসেবে ভারতে এসে বাংলার মানুষের কল্যাণে বিশেষ করে শিক্ষার প্রসারে তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন ।
শিক্ষার প্রসারে অবদান : ঊনবিংশ শতকে ভারতে বিশেষ করে বাংলায় শিক্ষার প্রসারে ডেভিড হেয়ারের অবদান
- হিন্দু কলেজের স্থাপনা : ডেভিড হেয়ার পাশ্চাত্য শিক্ষা প্রসারের জন্য হাইড ইস্ট , রামমোহন ও রাধাকাস্তের সক্রিয় সহযোগিতায় ১৮১৭ সালে ২০ জানুয়ারি কলকাতায় হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন যা বর্তমানে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত ।
- ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা : কিছু মহৎ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য ডেভিড হেয়ার ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে ক্যালকাটা স্কুল বুক সোসাইটি তৈরি করেন । তার উদ্দেশ্য ছিল— → পাঠ্যপুস্তকের প্রকাশ : ইংরেজি ও প্রাচ্য ভাষায় পাঠ্য বই প্রকাশ করে তা গরিব ছাত্রদের মধ্যে বিতরণ করা ছিল স্কুল বুক সোসাইটির উদ্দেশ্য ।
- ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটি প্রতিষ্ঠা : কলকাতা শহর ও শহরতলির স্কুলগুলির উন্নয়ন করা এবং বিভিন্ন জায়গায় নতুন স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ১৮১৮ সালে ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন । মন্তব্য : উপরের আলোচনায় স্পষ্ট , আধুনিক শিক্ষার প্রসারে তাঁর অসামান্য উদ্যোগ বাংলা তথা ভারতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে । পরে তাঁর সম্মানে স্কুল ও রাস্তার নামকরণ হয়েছে ।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | মাধ্যমিক ইতিহাস – সংস্কার বৈশিষ্ট্য ও পর্যালোচনা (দ্বিতীয় অধ্যায়) প্রশ্ন ও উত্তর | Madhyamik History Question and Answer :
- স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কারের আদর্শ ব্যাখ্যা করো ।
Ans: সূচনা : ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ধর্মসংস্কার আন্দোলনে অদ্বৈতবাদে বিশ্বাসী , নিখাদ দেশপ্রেমিক , নির্ভীক যৌবনের প্রতীক , Ciclonik Monk , বেদাস্তবাদী বিবেকানন্দের আদর্শ ছিল এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ । অদ্বৈতবাদে বিশ্বাসী স্বামী বিবেকানন্দের মতে , “ মানবসেবাই ধর্মের সর্বোচ্চ লক্ষ্য ।
বিবেকানন্দের ধর্মসংস্কার :
- সাম্যবাদ ও মানবতাবাদের আদর্শ : জাতপাতের ভেদাভেদের সম্পূর্ণ বিরোধী বিবেকানন্দের আদর্শ ছিল সাম্যবাদ । এ উদ্দেশ্যে তিনি দেশের কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন— “ হে ভারত ভুলিও না , নীচ জাতি , মূর্খ , দরিদ্র , অজ্ঞ , মুচি , মেথর তোমার রক্ত , তোমার ভাই । ” বিবেকানন্দ ধর্মের দ্বারা নয় মানুষের মনুষ্যত্বে বিশ্বাসী ছিলেন , যার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানবতাবাদ ৷
- দরিদ্রসেবা : ভারতের সুদীর্ঘ পথ পরিভ্রমণ করে বিবেকানন্দ দরিদ্র , অজ্ঞ , ভারতবাসীর মধ্যে ঈশ্বরকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন । জীবের মধ্যে তিনি শিবকে অনুভব করে বলেছিলেন , “ যত্র জীব তত্র শিব । ”
- নব বেদান্তবাদ : বেদান্তবাদী স্বামী বিবেকানন্দ বনের বেদান্তকে ঘরে আনার কথা প্রচার করেন । জনগণের কল্যাণে তিনি বেদাস্তকে সম্পূর্ণরূপে ব্যবহারের নির্দেশ দেন যা নব বেদান্তবাদ নামে পরিচিত।
- মানুষ গড়ার ধর্মতত্ত্ব : বিবেকানন্দের ধর্ম ছিল মানুষ তৈরির ধর্ম । সমকালীন বিভিন্ন ধরনের সামাজিক , ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে প্রকৃত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে মানবতাবাদকে ধর্মের স্তরে উন্নীত করতে তিনি এই মানুষ গড়ার ধর্মতত্ত্ব প্রচার করেন ।
- প্রাচ্য – পাশ্চাত্যের সমন্বয় : বিবেকানন্দ নব ভারত গঠনের উদ্দেশ্যে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য , প্রাচীন ও আধুনিক ভারতের জীবনাদর্শের সংমিশ্রণে এক নতুন ভারতবর্ষ গড়তে চেয়েছিলেন ।
- রামকৃষ্ণ মিশন প্রতিষ্ঠা : জাতির মধ্যে ত্রাণকার্য , শিক্ষার প্রসার , সুচিকিৎসার প্রসার এবং প্রকৃত মানুষ গড়ার উদ্দেশ্যে ১৮৯৭ সালে ৫ মে তিনি রামকৃস্ল মিশন প্রতিষ্ঠা করেন ।
- যুবসমাজের প্রতি আহ্বান : দুর্বলতা কাটিয়ে ভারতীয় যুবসমাজকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন— “ উত্তিষ্ঠিত , জাগ্রত , প্রাপ্য বরান নিবোধিত ” অর্থাৎ ওঠো জাগো ও নিজের প্রাপ্য বুঝে নাও ।
- নব্যবঙ্গ বা ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলন কী ? এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য এ আন্দোলনের ক্রিয়া কান্ড কী ছিল ? কেন এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছিল ?
Ans: নব্যবঙ্গ বা ইয়ংবেঙ্গল : ঊনবিংশ শতকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দশকে হিন্দু কলেজের অধ্যাপক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর নেতৃত্বে কিছু তরুণ ছাত্র পাশ্চাত্য ভাবধারার আদর্শে যুক্তিবাদ , মুক্তচিন্তা , মানসিক চিন্তা , সততার মাধ্যমে সমাজ সংস্কারে ব্রতী হয় । তারা ইয়ং বেঙ্গল বা নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী নামে পরিচিত । তাদের পরিচালিত আন্দোলনই ছিল নব্যবঙ্গ আন্দোলন ।
আন্দোলনের উদ্দেশ্য : নব্যবঙ্গ গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল একদিকে হিন্দুসমাজ , খ্রিস্টধর্ম ও পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাব থেকে সনাতন হিন্দু ধর্ম ও হিন্দুসমাজকে | রক্ষা করা এবং অপরদিকে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে হিন্দুসমাজের গোঁড়ামি , কুপ্রথা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করা ।
নব্যবঙ্গ দলের কার্যকলাপ : নব্যবঙ্গীয়দের মূল আক্রমণের কারণ ছিল হিন্দুসমাজের চিরাচরিত কুপ্রথাগুলির বিরোধিতা করা । ডিরোজিওর ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ ছাত্ররা ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ‘ অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন ‘ নামে এক বিতর্ক সভা প্রতিষ্ঠা করেন সামাজিক কুসংস্কার ও কুপ্রথা দূর করার জন্যে । এছাড়া পার্থেনন ও ক্যালাইডোস্কোপ পত্রিকায় তাঁরা হিন্দুসমাজের বহুবিবাহ , নারীর শিক্ষা , জুরির বিচার , সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি শুরু করেন ।
আন্দোলনের নেতৃত্ব : ডিরোজিও ছাড়াও অন্যান্য অনুগামীদের মধ্যে ছিলেন | কৃস্লমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় , রামগোপাল ঘোষ , রাধানাথ শিকদার , রসিককৃয়মল্লিক , রামতনু লাহিড়ী প্রমুখ ।
আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণ : ডিরোজিওর নেতৃত্বে ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন | সাময়িকভাবে সমাজকে ভীষণ নাড়া দিয়েছিল । তবে এই প্রভাব ছিল ক্ষণস্থায়ী । বিভিন্ন কারণে এই আন্দোলন ব্যর্থ হয় ।
প্রথমত , এই আন্দোলন ছিল পুরোপুরি শহরকেন্দ্রিক । অল্প শিক্ষিত ও গ্রামে | বসবাসকারী বিশাল সংখ্যক মানুষ আন্দোলনে যোগ দেয়নি । ছিল ।
দ্বিতীয়ত , কৃষক সমাজের দুর্দশা মোচনে নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী পুরোপুরি উদাসীন
তৃতীয়ত , এঁরা নেতিবাচক চিন্তাভাবনা আঁকড়ে ছিলেন বলে উগ্রভাবে হিন্দু বিরোধিতার পথ বেছে নেন । এর ফলে হিন্দুসমাজ দুরে সরে যায় ।
চতুর্থত , মুসলিম সমাজের সংস্কারে নব্যবঙ্গ গোষ্ঠী উদাসীন ছিল ।
পঞ্চমত , উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাবে আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি ।
- ঊনবিংশ শতকের শিক্ষা ও সমাজ সংস্কার আন্দোলনে বিদ্যাসাগর কী ভূমিকা নিয়েছিলেন ? অথবা , উনিশ শতকের নবজাগরণে বিদ্যাসাগরের অবদান আলোচনা করো ।
Ans: ভূমিকা : ঊনবিংশ শতকের বৌদ্ধিক বিকাশ বা নবজাগরণের অন্যতম প্রাণপুরুষ ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সমকালীন শিক্ষাক্ষেত্র ও সামাজিক ক্ষেত্রকে কুসংস্কারমুক্ত করে পুনর্জীবন দানের জন্য বিদ্যাসাগর স্মরণীয় হয়ে আছেন । সামাজিক কুসংস্কার রোধের পাশাপশি নারীমুক্তির জন্য নারীশিক্ষা প্রসারে বিদ্যাসাগর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন ।
শিক্ষাসংস্কার : উনিশ শতকের বাংলাদেশে নারীশিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে বিদ্যাসাগর বিশেষ ভূমিকা পালন করেন । তাঁকে বলা হয় “ নারীশিক্ষা বিস্তারের পথিকৃৎ । ”
উদ্দেশ্য: উনিশ শতকের প্রথমদিকে বাংলায় নারীরা পুরুষের থেকে পিছিয়ে পড়েছিল । কারণ তারা ছিল নিরক্ষর । বিদ্যাসাগর বুঝেছিলেন , শিক্ষাবিস্তারের মাধ্যমেই নারীমুক্তি সম্ভব । একইসঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেন , মেয়েরা শিক্ষিত না হলে সামাজিক সংস্কার অসম্পূর্ণ থেকে যাবে । তাই কুসংস্কারমুক্ত সমাজ গড়তে তিনি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্রত নেন ।
সংস্কারের কর্মসূচি : ১৮৪৯ সালে বেথুন সাহেবকে হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় গড়ে তোলায় সাহায্য করেন বিদ্যাসাগর । পরে তিনি স্কুলের সম্পাদক হন । তাঁর উদ্যোগে বাংলার চারটি জেলায় গ্রামাঞ্চলে ৩৫ টি বালিকা বিদ্যালয় গড়ে ওঠে । ব্যক্তিগত চেষ্টায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন ( বিদ্যাসাগর কলেজ ) । বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ছাড়াও অভিভাবকরা যাতে কন্যাসন্তানকে স্কুলে পাঠান সেজন্য প্রচারের কাজেও নেমেছিলেন বিদ্যাসাগর । এছাড়া সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালীন কলেজের দরজা হিন্দু ছাত্রদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন । তিনি বাংলা বর্ণমালার পুনর্বিন্যাস করেন এবং বর্ণ পরিচয় নামে বাংলা ভাষাশিক্ষার দু’টি পুস্তক রচনা করেন । তার রচিত কথামালা , বোধোদয় বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ ।
সমাজ সংস্কার : ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলনের ফলে নারীমুক্তির যে পরিবেশ তৈরি হয়েছিল তারই ফল বিদ্যাসাগরের বিধবাবিবাহ আন্দোলন ।
বিধবাবিবাহ আন্দোলন : সেসময় বাল্যকালে মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হতো বৃদ্ধের সঙ্গে , ফলে অল্প বয়সেই তারা বিধবা হতো । বিদ্যাসাগর বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বিধবাবিবাহের সমর্থনে প্রচার শুরু করেন । তিনি তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় এবিষয়ে প্রবন্ধ লেখেন । ১৮৫৫ সালে তিনি ১০০০ ব্যক্তির স্বাক্ষর সংবলিত আবেদনপত্র সরকারকে জমা দেন । ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই লর্ড ক্যানিং ‘ বিধবাবিবাহ আইন ‘ পাশ করেন । এই বছরে শ্রীশচন্দ্র বিদ্যারত্ন কালীমতী নামে এক বিধবাকে বিয়ে করেন । সেটাই কলকাতায় প্রথম বিধবাবিবাহ নিজ পুত্র নারায়ণের সঙ্গে তিনি এক বিধবার বিয়ে দেন ।
অন্যান্য সংস্কার : বহুবিবাহের বিরুদ্ধে বিদ্যাসাগর জোরদার আন্দোলন | করেন । এছাড়া গঙ্গাসাগরে সন্তান বিসর্জন , কুলীন প্রথা , অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধেও তিনি সোচ্চার হন ।
মূল্যায়ন : বিদ্যাসাগর সর্বার্থেই ছিলেন আধুনিক সমাজ সংস্কারক । তার এই সংস্কার আন্দোলন নারীমুক্তি আন্দোলনে গতি দিয়েছিল । একইসঙ্গে নবজাগরণেও কার্যকর ভূমিকা নিয়েছিল বিদ্যাসাগরের এই সংস্কার আন্দোলন ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন